সাভারের গোলাপ গ্রামে এখন সেলফী প্রেমীদের ভিড়

Print

খোরশেদ আলম, ঢাকাঃ জেলা প্রতিনিধি

ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে, আর তাই ফুলের প্রতি এই ভালোবাসার টানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুলপ্রেমীরা ছুটে আসেন সাভারের ‘গোলাপ গ্রমে’। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়ষের ফুলপ্রেমীরা বাগানে প্রবেশ করে হারিয়ে যান গোলাপের রাজ্যে। সারাদিন ঘুরে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন সাদা, পিঙ্ক, লাল, নীল ও হলুদসহ নানা রঙের বাহারী ফুল দিয়ে। দিনের পর দিন দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েই চলেছে সাভারের এই ‘গোলাপ গ্রামে’।
ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নটি ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে খ্যাত। এই ইউনিয়নের বাগ্নীবাড়ী, মইস্তাপাড়া, কাকাব, সামাইর, সাদুল্লাপুর, শ্যামপুর, আকরান নামের ৭টি গ্রামে প্রায় ৩শ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপের চাষ করা হয়। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আকাঁবাঁকা সরু পথ। তার দুই পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান।
সকালের শিশির ভেজা গোলাপে নরম আলোর ঝিকিমিকি। পুরো গ্রামজুড়েই ফুলের সৌরভ। চোখ জুড়ানো দৃশ্য নিয়ে সেজে আছে পুরো গ্রাম। যেদিকে চোখ যায় গোলাপের আর গোলাপ। শুধু সুবাস ও মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য দিয়েই গোলাপ, বিরুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নাম পাল্টে দিয়েছে। বিশেষ করে সাদুল্লাহপুর ও শ্যামপুরকে এখন পর্যটকরা ‘গোলাপ গ্রাম’ হিসেবেই বেশি চেনেন।
সকালে সাভারের গোলাপের বাগান গুলোতে তেমন কাউকে দেখা না গেলেও, বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ঘুড়তে আসা ফুলপ্রেমীরা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি অনেকেই মেতে ওঠেন সেলফিতে। এভাবেই শ্যামপুর এলাকার গোলাপ গ্রামটি এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে বেলা বাড়ারর সাথে সাথে প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। ফুল কাটা, ফুল বাছাই, ফুল ভেজানো, ফুল বাঁধা সবই যেন কৃষক শেষ করেন সন্ধ্যার আগে। কারণ সন্ধ্যোর পরই জমে মোস্তাপাড়া ও শ্যামপুর ফুল বাজার। যেখানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ফুলের পাইকাররা এসে ফুল কেনেন।
কথা হয় এখানে ঘুড়তে আসা আরিফুল ইসলাম আকাশের সাথে তিনি জানান, সময়ের অভাবে তেমন ঘুরতে যাওয়া হয় না, আজ একটু সময় ছিলো হাতে তাই ঘুরতে আসলাম, এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে, আরো ভালো লাগছে নানা রঙের ফুল, তাই তো ১০০ টি লাল গোলাপ ও ১০ টি হলুদ গোলাপ নিয়ে নিলাম প্রিয়জনের জন্য।
ফুল চাষী আব্দুল খালেক জানান, এই গোলাপ বাগানের আয় দিয়ে আমার সংসার চলে, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছি। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকজন আসা যাওয়া করে তারাও ফুল কিনে। তাছাড়া সন্ধ্যার পরে পাশেই একটি গোলাপের হাট বসে, সেখাওে আমরা ফুল বিক্রি করি।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 122 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com