সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

Print

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গতকাল রবিবার সার্বিকভাবে দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপদসীমা অতিক্রম করেছে আরো কয়েকটি নদী।নতুন করে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বাড়িঘর। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে রয়েছে বন্যাদুর্গতরা।

বান্দরবানে বিভিন্ন বাসাবাড়ির দোতলা পর্যন্ত ডুবে গেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে পাহাড়ধস ও খালে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে তিনজন। কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে এক দম্পতি। জামালপুরে বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে এক শিশু।

একাধিক স্থানে ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের এক শ ফুট ধসে গেছে। লালমনিরহাটে তিস্তার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য জরুরি খাদ্য ও নগদ সহায়তার উদ্যোগ নিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। আমাদের স্থানীয় অফিস, ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত :

বান্দরবান : জেলায় পাহাড়ধস ও স্রোতে ভেসে গিয়ে এক নারীসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। বান্দরবান শহরের বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। অসংখ্য ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত তলিয়ে গেছে। বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, জেলখানা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের পৌর পানি শোধনাগার, বাস টার্মিনাল, বান্দরবান সেনানিবাসের সদর দপ্তর, সামরিক হাসপাতাল এলাকা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবন, জেলার প্রধান ডাকঘর ও সরকারি গণগ্রন্থাগার ডুবে গেছে।

লামা-চকরিয়া সড়কের মিরিঞ্জা নামক স্থানে গতকাল সকালে পাহাড় ধসে পড়ায় লামা ও আলীকদমের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থা স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করছে।

শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে লামা পৌরসভার মধুঝিরি এলাকায় পাহাড় ধসে একটি কাঁচা ঘরের ওপর পড়লে নূরজাহান বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হন। আহত হন তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে।এদিকে সদর উপজেলার পোড়াপাড়াসংলগ্ন পাহাড়ের ঢালে পেঁপেবাগানে কাজ করার সময় শনিবার বিকেলে পাহাড় ধসে পড়লে চাপা পড়ে প্রাণ হারান মেনপং ম্রো (২৫) নামের এক ব্যক্তি। এর আগে সদর উপজেলার মনজয় পাড়াসংলগ্ন হ্নারা খালে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন অংচিংনু মারমা (৩৫)। গতকাল সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া (কক্সবাজার) : ভারি বর্ষণের সময় কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে এক দম্পতি। তাঁরা হলেন ওই এলাকার মৃত রবিউল আলমের ছেলে দিনমজুর আনোয়ার ছাদেক (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী ওয়ালিদা বেগম (২২)। গতকাল ভোররাত ৩টার দিকে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পাহাড়ি এলাকা বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বমুরকূল এলাকায়।চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, পাহাড়ের পাদদেশে দিনমজুর আনোয়ার ছাদেকের বাড়ি। ভারি বর্ষণ চলাকালে শনিবার মধ্যরাতে পাহাড়ের বিশাল অংশ তাঁদের মাটির ঘরের ওপর ধসে পড়লে চাপা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী।এদিকে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ২৫ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার সব গ্রাম তলিয়ে গেছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ।

জামালপুর : জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানি বেড়ে যমুনা নদী বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপত্সীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী ও বকশীগঞ্জ উপজেলার শতাধিক গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে।মেলান্দহে মাহমুদপুর-উলিয়া রাস্তার খরকা এলাকায় কাঠের পুরনো সেতু ভেঙে যাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ পুরাতন রেলপথ কাম বাঁধ ভেঙে গেছে।

এদিকে মাদারগঞ্জে সাদিয়া আক্তার নামের সাত বছরের এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছে।উপজেলার ঝাড়কাটা গ্রামে গতকাল বেলা ২টার দিকে সাদিয়া নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সবার অগোচরে বাড়ির কাছে বন্যার পানিতে পড়ে যায়। জামালপুর ফায়ার সার্ভিস গত রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত শিশুটির সন্ধান পায়নি।শেরপুর : গতকাল সদর উপজেলার গাজীরখামার ও ধলা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সব মিলে সাত ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামের ১১ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। গতকাল দুপুরে নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালী নদী বিপত্সীমার ১ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।এদিকে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া এলাকায় গতকাল ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধের এক শ ফুট ধসে গেছে। তলিয়ে গেছে বিপুল ফসলি জমি ও সাত শতাধিক বাড়িঘর।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 19 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com