সৌম্য এখন আরো পরিণত, অনেক ভয়ংকর

Print

ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন সৌম্য সরকার।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লেখা প্রকাশ করছে ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন সৌম্য সরকারের গল্প, লিখেছেন আবু হোসেন পরাগ।

৪ জানুয়ারি ২০১৫। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনে মুখোমুখি আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। আবাহনীকে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রাইম ব্যাংক ম্যাচ জিতল ৯ উইকেট আর ১৩৫ বল হাতে রেখে। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সমান ৭টি করে চার-ছক্কায় সৌম্য সরকার খেললেন ৯১ বলে ৯৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। প্রাইম ব্যাংক জিতল লিগ শিরোপা। সৌম্য জিতলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। মিরপুরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সৌম্যর জন্য অপেক্ষা করছিল আরো একটি পুরস্কার। সেদিনই যে বাঁহাতি ওপেনারকে রেখে ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল!

সৌম্যর বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে বড় ভূমিকা ছিল সেই প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্স। প্রাইম ব্যাংককে শিরোপা জেতাতে ১৫ ম্যাচে চার ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরিতে করেছিলেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১৫ রান। তাতে খুলে যায় বিশ্বকাপের দরজা।

মাত্র একটি ওয়ানডের অভিজ্ঞতা নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে। ৬ ম্যাচে ২৯.১৬ গড়ে একটি ফিফটিতে করেছিলেন ১৭৫ রান। অসাধারণ কোনো পারফরম্যান্স নয় মোটেই। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে সৌম্য ভালোভাবেই জানান দিতে পেরেছিলেন নিজের আগমনী বার্তা।

বড় ইনিংসের জন্য বেশিদিন অবশ্য অপেক্ষাও করতে হয়নি তাকে। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের প্রথম সিরিজেই পেয়ে যান তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। মিরপুরে তার ১১০ বলে খেলা অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংসের দিনে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।

সৌম্য ফর্মটা টেনে নেন ঘরের মাঠে পরের দুই সিরিজেও। প্রথমে ভারতকে সিরিজ হারাতে তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১২৮ রান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তার ৮৮ ও ৯০ রানের দারুণ দুটি ইনিংস। প্রোটিয়াদের কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পরও বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের নায়ক তো সৌম্যই।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতেও সৌম্যর সময় লাগেনি খুব বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটার পরই তার নিজেকে হারিয়ে খোঁজা শুরু। এরপর শুরু হয় দলে আসা-যাওয়ার মিছিল। ইংল্যান্ডে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন মাত্র একটিতে। ফলাফল, ২০১৮ সালের শুরুতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও দলে জায়গা হয়নি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 43 বার)


Print
bdsaradin24.com