স্কলারশিপ পেতে নিজেকে যেভাবে গড়বেন!

Print

গতকাল মনোবুশো স্কলারশিপ আগ্রহীদের জন্য পোস্ট দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত শতাধিক ইমেইল-ইনবক্স রিসিভ করেছি। সামনে কয়েকদিন গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকার জন্য আগ্রহীদের উত্তর দেয়ার যথেষ্ট পাচ্ছি। আমি চেষ্টা করি, সবার-ইমেইলের উত্তর দিতে। কিন্তু প্রায় আশি শতাংশ প্রশ্ন আসছে, খুবই কমন। আর এইসব কমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভাবছি, আমাদের এই ছেলে-মেয়েরা ফেইসবুকে ডিজিটালি শক্তি দেখাতে সক্ষম হলেও তথ্য আরোহনে পুরোটাই ব্যর্থ। স্নাতক কিংবা স্নাকোত্তর পড়ুয়ারা যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করছে, আমি কি পারবো? ডেন্টাল/মেডিকেলে কি একই নিয়ম? ‘গবেষণাপত্র’ কী? অধ্যাপকদের কিভাবে চিনব, এইসব দেখার পর, নিজেকে অসহায় লাগছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণার সাথে হয় তো পরিচয় হতে পারলেও আমাদের একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে ভীত ছাড়া কেবল পাঠ্যবইয়ে চোখ বুলিয়ে।

যাই হোক এইসব ব্যাখ্যা করতে গেলে শেষ হবে না। আসল কথায় আসি। যারা গতকাল থেকে জিজ্ঞাসা করেছেন, কিভাবে অধ্যাপক, ইমেইল আইডি, সিভি, কভার লেটার লিখতে হবে, তার বিস্তারিত নিয়ে আমি বেশ কয়েকটি লেখা লিখেছিলাম। গুগলে সার্চ দিলেই তথ্যগুলো পাওয়া যেত। এরপরও কেউ তা না পড়েই রেডিমেট তথ্য পাওয়ার জন্য অস্তির হয়ে গিয়েছে, তাদের জন্য কিছু তথ্য তুলে ধরছি।

মাস্টার্স বা পিএইচডি যে কেউ যেকোন রিলেটেড বিষয়ে করতে পারবেন। আপনি ডেন্টালে পড়েন আর মেডিকেলেই পড়েন, আপনি যদি বায়োলজিক্যাল সায়েন্স উচ্চতর ডিগ্রী নিতে চান তাহলে, আপনি তা নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, পিএইচডি করার জন্য নূন্যতম ১৭/১৮ বছরের শিক্ষা সমাপ্ত হতে হয়। কেউ মেডিকেলে পড়লে অনেক সময় সরাসরি পিএইচডিতে ভর্তি হতে পারেন, সেটা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কোর্স ও অধ্যাপকদের ইচ্ছের উপর। কারও কারও মাস্টার্স করার প্রয়োজন পড়ে।

আপনি জাতীয়তে পড়েন, কিংবা বেসরকারিতে পড়েন তাতে কোন সমস্যা নয়। সমস্যাটা মনে করে ঘরে বসে থাকাটা হলো বড় সমস্যা। তাই আপনি যদি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন আপনি মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে পারবেন, তাহলে অবশ্যই আপনার লেগে থাকা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল কখনও স্কলারশিপ পাওয়ার মানদণ্ড নয়। অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের কাছে আপনার উপস্থাপনা ও ইংরেজিতে পারদর্শীতা আপনার অন্যতম বড় মানদণ্ড। সেই সাথে যে বিষয়ে আপনি বাইরে পড়াশোনার জন্য আসতে চাচ্ছেন, সেই বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান কতোটুকু আপনার নিয়ন্ত্রণে, তার উপর নির্ভর করে। একথা সত্য যে বিশ্বের প্রথম সারির অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্কুলে ভর্তি করাতে একটি নির্দিষ্ট সিজিপিএ জুড়ে দেয়, তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। আপনার যদি ফলাফল খারাপ হয়, তাহলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এড়িয়ে চলুন। আপনার জন্য অনেক পথ খোলা রয়েছে। অনেক দেশ রয়েছে আপনাকে সাদরে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তাদেরকে খোঁজ করুন। আপনি যদি লেগে থাকেন, অবশ্যই স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে পারবেন।

গবেষণাপত্র বা প্রকাশনা কি, সেটার উত্তর দিতে কিছুটা ইতঃস্তবোধ করলেও আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে আমি লিখছি। গবেষণাপত্র হল, আপনি যখন কোন নিদিষ্ট বিষয়ে নতুনত্বের সন্ধানে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য/উপাত্ত এবং বিশ্লেষণ করে কোন বিজ্ঞান সামায়িকীতে প্রকাশ করবেন কিংবা থিসিস আকারে উপস্থাপন করবেন,সেটি হবে আপনার গবেষণাপত্র বা একাডেমিক প্রকাশনা

এইবার আসি, অধ্যাপক ম্যানেজ করবেন কিভাবে, সেই বিষয়ে। অধ্যাপকদের ইমেইল আইডি হলো অধ্যাপকদের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। তাই এই ইমেইল আইডিটি আপনি বিভিন্নভাবে পেয়ে যাবেন। আমার দেওয়া দুইটি কৌশল অনুসন্ধান করলে আপনাদের অন্য কোনো নিয়ম অনুসরণ করতে হবে বলে আমি মনে করি না। অধ্যাপকদের ইমেইল আইডি সাধারণত জার্নাল পেপারগুলোতে থাকে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 50 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com