স্বল্প পুঁজিতে মাশরুম চাষের সম্ভাবনা।

Print

 

স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী মাশরুমের চাহিদা আমাদের দেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে মাশরুমকে প্রধান সবজি হিসাবে খাদ্য তালিকায় রাখা হয়। চীনদেশে প্রায় প্রতিটি খাবারের সাথেই মাশরুম থাকে। মাশরুম সম্পর্কে আমাদের দেশের লোকদের তেমন ধারণা ছিল না। পত্র-পত্রিকায় মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর এদেশের মানুষের কাছে মাশরুমের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অনেকেই মাশরুম চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাশরুম চাষে এগিয়ে আসছে।

বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ যুবকেরা মাশরুম চাষ করছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গৃহবধূরাও মাশরুম চাষ করছেন। মাশরুম চাষী শিক্ষিত তরুণ সোহেল বলেন- দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি মাশরুম চাষ করছেন। তিনি বলেন- মাশরুম চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। মাশরুম চাষে অধিক পুঁজির প্রয়োজন হয় না। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়াতে মাশরুম চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সোহেল আরো বলেন- তিনি মাশরুম বিক্রি করে প্রতিমাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করছেন। বিভিন্ন্ চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলো তার বড় ক্রেতা। তাছাড়া বাজারে কাঁচা এবং শুকনো মাশরুম বিক্রি করে থাকেন। দেশের বড় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে মাশরুম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুমের দাম ১৫০-২০০ টাকা। শুকনো মাশরুম প্রতি কেজি ১০০০ টাকা। শুকনো পাউডার মাশরুম ১৪০০-১৬০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। মাশরুম ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ। মাছ, মাংস, সব্জির সাথে মাশরুম খাওয়া যায়। তাছাড়া অন্যান্য খাবার চা, কফি, মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের সাথে মাশরুম খাওয়া যায়। মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট চিকিত্সক ডা. নুরুল হুদা বলেন- মাশরুম খেলে হূদরোগ, ডায়াবেটিকস, মেদভুঁড়ি, উচ্চরক্তচাপ, জন্ডিস, এইডস, ক্যান্সার, কিডনী সমস্যা, রক্তস্বল্পতা কোষ্ঠকাঠিন্য, চর্মরোগ, যৌনঅক্ষমতা, এলার্জি, পেটের পীড়া, টিউমার, ডেঙ্গুজ্বর, চুলপড়া এবং চুলপাকাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ হয়। বিদেশে মাশরুম ঔষধি টনিক এবং খাদ্য হিসাবে পরিচিত। এদেশের প্রতিটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন খাবারে মাশরুম ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয়। অপর এক মাশরুম চাষী ইকবাল বলেন, আমাদের দেশে মাশরুম চাষের সূচনা হয় ’৮০’র দশকের দিকে। জাইকার সহযোগিতায় আমাদের দেশে সর্বপ্রথম ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে এদেশে মাশরুম চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। ’৮৭ সালের দিকে ঢাকার সাভারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ করা হয়। পরবর্তীতে এদেশের শিক্ষিত তরুণ যুবকদেরকে মাশরুম চাষের ব্যাপারে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়। দেশের বিভিন্নস্থানে মাশরুম চাষের ব্যাপারেও প্রচারণা চালানো হয়। খাদ্য হিসাবে মাশরুমের ব্যাপারে মানুষের মাঝে আগ্রহের সৃষ্টি হলে মাশরুমের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন্ স্থানে ব্যাপকভিত্তিতে এবং বাণিজ্যিকভাবে মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। মাশরুম চাষ খুবই সহজ। দশ থেকে পনের হাজার টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিমাসে তিন/চার হাজার টাকা আয় করা যেতে পারে মাশরুম চাষ করে। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এসব মাশরুমের মধ্যে রয়েছে: ঝিনুক মাশরুম, খড়মাশরুম, বুতাম মাশরুম, ঋষি মাশরুম, শিতাকে মাশরুম, দুধছাতু মাশরুম ইত্যাদি। আমাদের দেশে ঝিনুক মাশরুম এবং খড় মাশরুম বেশি উত্পাদিত হয়ে থাকে। মাশরুম চাষের জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ছায়াযুক্ত আর্দ্র স্থানে মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে ঘরোয়াভাবে অথবা মাশরুম চাষের জন্য আলাদা ঘর তৈরি করে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় আমাদের দেশে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মাশরুম আমদানির জন্য প্রতিবছর ব্যয় হয় ৮৫ থেকে ৯০ কোটি টাকা। ব্যাপকভিত্তিতে মাশরুম চাষ করলে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলসহ চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলো থাইল্যান্ড, কোরিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ব্যাপক পরিমাণে মাশরুম আমদানি করে থাকে। দেশে ব্যাপকভিত্তিতে মাশরুম চাষ করলে বিদেশ থেকে মাশরুম আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতমানের মাশরুম উত্পাদনের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের ডেয়ারি, পোল্ট্রি শিল্পের মত মাশরুম চাষের ব্যাপারেও জনসাধারণকে উত্সাহিত করতে হবে। মাশরুম চাষের ব্যাপারে দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণ যুবক এবং মহিলাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে মাশরুম বিশেষ অবদান রাখতে পারে। মাশরুম সম্পর্কে এবং মাশরুম চাষে যে সমস্ত সমস্যা এবং বিরূপ ধারণা রয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে। মাশরুম চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে ভবিষ্যতে এদেশে উত্পাদিত মাশরুম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। মাশরুম চাষের ব্যাপারে এবং এর উন্নয়নে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 69 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com