স্মৃতিসৌধের ইতিহাসকে প্রাণ দেন, রং তুলির একজন

Print


খোরশেদ আলম,ঢাকা,জেলা প্রতিনিধি 

 একজন রং তুলির মানুষ গাজী মো. আনোয়ারুল ইসলাম। সাদামাটা এই মানুষটার হাতের ছোঁয়ায় আর রং তুলির আঁচড়ে অসাধারন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আলোকিত হয়। বীর শহীদদের জৌলসের সেই গৌরব প্রাণ ফিরে পায়। খন্ডকালীন কাজ হলেও বিগত ৩ যুগের বেশি সময় ধরে কাজটি করছেন নিরলস ভাবে। সৌধে শহীদদের নাম ফলক ও গৌরবের গানটি ফুটিয়ে তুলছেন আপন যত্নে। টানা ৩৮ বছর ধরে রং তুলির আঁচড়ে মহান বিজয় দিবসের অসাধারন ইতিহাস আলোকিত করছেন সাধারন এই মানুষটি।তাঁর গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার সদর সিরাজসিন্ধা গ্রামে। এখন তিনি পরিবারসহ বাস করেন স্মৃতিসৌধের পিছনের এলাকা আশুলিয়ার কুরগাঁওতে।

গাজী মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধে সময় বয়স কম থাকায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি। তবে মুক্তিবাহিনীর সহযোগি হিসেবে কাজ করেছি। দেখছি যুদ্ধে ভয়াবহতা ও পাকিস্তানী বাহিনীর নিযাতন। সেই স্মৃতি আজও নাড়া দেয়। তার  যখন যুদ্ধ চলে, তখন ভাবেনি, এতো সুন্দর একটি স্বাধীন দেশ পাবো। ১৯৭৬ সালে সেনাবাহিনীর সিভিল কোরে চাকরি জীবন শুরু করি।  চাকরি বদৌলতে সাভারে বদলি হই। কথন থেকেই খন্ডকালিন হিসেবে স্মৃতিসৌধে রং তুলি কাজ শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে অবসর নিলেও, এই কাজ এখনো করছি। আজীবন করে যাবো।  আজও এই কাজের মাধ্যমে আনন্দ ও গৌবর খুঁজে পাই। তবে তুলি যখন আঁচড় 

আর এমন কয়েক মানুষের হাত ধরেই প্রতিবারের মতো এবারও বিজয় দিবস ঘিরে বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবারও আসাধারন নানা সাজে সেজেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। গৌরবের এইদিনকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বীর শহীদের স্নরনে বাহারী ফুলে সেজেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী ১০৮ একর জমির উপর দাড়িয়ে সৌধের লাল সবুজের পতাকা ঘিরে চীর নিদ্রায় শায়িত বীর সন্তানরা। রাতের আধার পেরিয়ে রক্তিম সূযদোয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ লাখো মানুষের ঢল নামবে এই সৌধে প্রাঙ্গনে। ফুলের চাদরে ঢেকে যাবে কংক্রিটের শহীদ বেদী। শ্রেষ্ট সন্তানদের বিন্রম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করতে কমতি নেই একটুও। তাইতো প্রবীনদের সঙ্গে আগামী প্রজম্মরাও শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আর ভালোবাসা জানাতে সবাই এক কাতারে। প্রতিবছরের মতো মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিবিড় যত্নে জাতীয় স্মৃতিসৌধকে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নর পাশাপাশি শেষ হয়েছে লাইটিংসহ রং তুলির কাজ।

শ্রমিকরা জানান, এ কাজের মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ খঁজে পাই। তাই প্রতিবছরের বিশেষ দিনগুলোতে স্মৃতিসৌধেকে সাজাতে আগ্রহ থাকে নিজেদের মধ্যে।

আবার এই দিনটি ঘিরে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে নতুন প্রজম্মকে স্মৃতিসৌধের সঙ্গে পরিচিত করতে উৎসাহের কমতি সাধারন মানুষদের।এমন একটি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ছোট ছেলে স্কুলে শিক্ষকের কাছে ও বই পড়েছে স্মৃতিসৌধের কথা, তাই তাকে পরিচিত করাতে নিয়ে আসলাম। যাতে পরবর্তী প্রজম্ম এ বিষয়ে জানতে পারে।মুক্তিযুদ্ধে চেতনাকে লালন করতে পারে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ প্রকৌশলী মিজানুর রহামন জানান, নিরাপত্তার জন্য সৌধের ভেতরে ও বাইরে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য প্রস্তুতি শেষ হয়েছে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত দলের মহড়া।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষন হিসাবেমুক্তিযুদ্ধের প্রামান্যচিত্রসহ গান পরিবেশন করবেনকিংবদন্তি শিল্পীরা।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 175 বার)


Print
bdsaradin24.com