সড়ক পথে ভুটান ভ্রমনের আদ্যোপান্ত

Print

প্রথম পর্ব (ট্রান্সিট ভিসা)

আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই কম খরচে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরতে আসতে চান। অনেকেই ভাবেন বিদেশ ভ্রমণ বুঝি অনেক ব্যয় বহুল। আসলে কম খরচে ঘুরার ব্যাপারটা সম্পূর্ণই নিজের ইচ্ছার উপর। আপনি কি খাবেন, কিভাবে ঘুরবেন, কি করবেন ইত্যাদি খুটিনাটি বিষয়গুলোর উপর আপনার খরচ কতটুকু হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে। আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট দেশ ভুটান থেকে ঘুরে আসতে পারেন খুবই অল্প খরচে। তবে ভুটানে ঘুরে আসার খরচটা আবার মৌসুম ভিত্তিক। অর্থাৎ আপনি বছরের কোন সময়টাতে যাবেন তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এপ্রিল-মে, আগস্ট-সেপ্টেম্বর হচ্ছে ভুটান ঘুরার সব থেকে আদর্শ সময়। কিন্তু এই সময়টাতে ঘুরতে গেলে কিছুটা বাড়তি পয়সাও খসবে পকেট থেকে। তাই যারা আমাদের মত বাজেট ভ্রমনে আগ্রহী তারা ঘুরে আসতে পারেন ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। সাথে ভাগ্য ভাল থাকলে বোনাস হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় দেখা পাবেন বরফ অথবা তুষারের।
গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি তে আমরা ৪ জনের একটা দল ঘুরে আসলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশ ভুটান থেকে। আমাদের এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত সকল তথ্য আপনাদের নিকট তুলে ধরব। তারই ধারাবাহিকতায় আজ প্রকাশ করছি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব।
ভুটান পৃথিবীর একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে মানুষের আয়ের পরিমাপ করা হয় না, করা হয় তারা দিন শেষে কতটা সুখী তার পরিমাপ। ভুটানের অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনেই ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে এই দেশটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ভুটান সরকার ট্যুরিজমের ব্যাপারে একটু কড়াকড়ি করে রেখেছে তাদের সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও মালদিভস এর জন্য অনেকটাই শিথিল তাদের নিয়মগুলো। তাই বাংলাদেশের ভ্রমণ পিপাসুরা সহজেই ঘুরে আসতে পারেন ভুটান থেকে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াঃ
সড়ক পথে ভুটান যেতে প্রথমেই যেই কাজটি করা লাগবে সেটি হল ভারতের ট্রান্সিট ভিসা করে নেয়া। বর্তমানে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অনেকাংশেই সহজ হয়ে গেছে। আর ট্রান্সিট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া তো আরো অনেক সহজ। প্রথমেই বলে রাখি কবে ভুটান যাবেন তা মনঃস্থির করে নিন। এর পর যে সব কাগজ পত্র ও দলিলাদি সংগ্রহ করা প্রয়োজন তা জোগাড় করে নিন। কি কি কাগজ ও দলিলাদি লাগবে তা একটু পর নিচে বলে দিচ্ছি।
ইন্ডিয়ান ভিসা আপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের হয়ে ভিসা আপ্লিকেশন ফর্ম জমা নেয়। ভিসা আপ্লিকেশন ফর্মটি প্রথমেই অনলাইনে পুরন করে নিন। খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন (পাসপোর্টের) এবং বর্তমান ঠিকানা (যে কোন বিলের কপির সাথে মিল থাকতে হবে) ভুল না হয়। ভুল হলেও সমস্যা নেই ৩০০ টাকা জমা দিয়ে কারেকশন করা যায়, কিন্তু ফর্মে ভুল করার দরকার কি। একটু সতর্ক ভাবে ফর্মটি পুরন করলে আর সেই ভুল হওয়ার কথা না। যেহেতু ভুটান যাবেন, সেহেতু ফর্ম পুরনের সময় অবশ্যই পোর্ট অব এন্ট্রি এবং পোর্ট অব এক্সিট দিবেন “চ্যাংরাবান্ধা/জয়গাও”।
ফর্মটি পুরন হয়ে গেলে লেজার প্রিন্ট নিয়ে নিন এবং অনলাইনে ৬০০ টাকা ভিসা ফি জমা দিয়ে দিন, অতিরিক্ত ১৮ টাকা কনভেনিয়েন্স ফি হিসেবে কেটে রাখে। ভিসা ফির স্লিপের একটি প্রিন্ট নিয়ে নিন। ফর্মে অবশ্যই ২*২ সাইজের পাসপোর্ট সাইজ ছবির স্ক্যান কপি দিতে হবে, এবং ছবির একটি হার্ড কপি ফর্মের নির্ধারিত স্থানে আঠা দিয়ে লাগাতে হবে। ছবির নিচের বক্সে এবং শেষ পৃষ্ঠায় পাসপোর্টের অনুরুপ স্বাক্ষর করা লাগবে।
ভিসা আবেদন ফর্মে যেখানে ইন্ডিয়াতে বসবাসরত কোন ব্যক্তির রেফারেন্স দিতে বলা হয়, সেখানে ইন্ডিয়াতে বসবাসরত যে কোন ব্যক্তির রেফারেন্স দিলেই চলবে। সে ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তির ঠিকানা দেয়া ভালো, কিন্তু যদি পরিচিত না থাকে তবে অপরিচিত কারো ঠিকানা দিলেও সমস্যা নেই, কারন ভিসা সেন্টার এটা যাচাই করে না।
এবার আসা যাক প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকায়। নিম্ন ক্রম অনুযায়ী আপনার কাগজ গুলো গুছিয়ে ফেলুনঃ
১. ভিসার আবেদন ফর্ম।
২. জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি। (নাবালক হলে জন্ম নিবন্ধনের কপি)
৩. বিদ্যুত/পানি/গ্যাস/টেলিফোন বিলের কপি। (অরিজিনাল সাথে রাখা ভাল, না থাকলেও সমস্যা নেই)।
৪. আর্থিক সঙ্গতি প্রমাণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ব্যাংক স্টেটমেন্ট যদি কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হয়, তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের কপি জমা দিতে হবে)/ ডলার এন্ডরসমেন্টের অরিজিনাল স্লিপ (ডলার এন্ডরসমেন্ট অবশ্যই রেজিস্টার্ড ব্যাংক থেকে করা হতে হবে)। স্টুডেন্টদের যদি নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকে তবে বাবা/মায়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি।
৫. পেশা প্রমাণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পত্র/ ট্রেড লাইসেন্স (স্টুডেন্ট হলে স্টুডেন্ট আইডি অথবা পেমেন্ট স্লিপ)।
৬. পাসপোর্টের ১টি ফটোকপি। পূর্বে ভারতে ভ্রমণ করে থাকলে ভিসার কপি। একাধিক পাসপোর্ট থাকলে তার কপি।
৭. অন্যান্য কাগজাদি ( হোটেল বুকিং এর কপি, শ্যামলী বাসের টিকিটের কনফার্মড টিকিট এবং ফটোকপি, স্টুডেন্ট হলে বাবা/মায়ের ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট দিলে, সাথে তাদের পাসপোর্টের কপি)।
কাগজগুলো গুছানো হয়ে গেলে চলে যান গুলশান আইভ্যাকে। মনে রাখবেন, ভিসা জমা নেয়ার সময় সকাল ৮.০০ টা থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত। এবং ট্রান্সিট ভিসার জন্য কোন লাইন ধরা লাগে না, এবং ই- টোকেনও লাগে না। গার্ডকে বলে ভেতরে চলে যান জি-৪ রুমে। সেখান থেকে সিরিয়াল নিয়ে চলে যান বেজমেন্টে। সেখানেই আপনার কাগজপত্রগুলো ভেরিফাই করে সিরিয়ালে সমস্যা থাকেলে তা ঠিক করে জমা নিয়ে নিবে। ব্যাস হয়ে গেল কাজ। এর পর নির্ধারিত তারিখে আবার আইভ্যাক চলে যান এবং আপনার পাসপোর্ট নিয়ে আসুন। অনেকসময় আপনার মুঠোফনে কোন বার্তা নাও আসতে পারে, তাই নির্ধারিত তারিখে একবার আইভ্যাক ঘুরে আসুন। আমরা আমাদের দেয়া নির্ধারিত তারিখের একদিন পরে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছিলাম। ও হ্যা আরেকটি কথা লিখতে ভুলে গেছি, আপনার ভ্রমণের তারিখের ১২-১৫ দিন আগে পাসপোর্ট জমা দিলে ভালো হয়। নতুবা আপনার যাওয়ার তারিখ আর পাসপোর্ট ডেলিভারি ডেট নাও মিলতে পারে। আমরা ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ জমা দিয়ে ২৭ তারিখ পাসপোর্ট হাতে পেয়েছিলাম।
ভিসাসহ পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সোনালী ব্যাংকের, মতিঝিল শাখায় আমরা জনপ্রতি ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিয়েছিলাম। বর্ডারেও ট্যাক্সটি দেয়া যায়, কিন্তু সময় স্বল্পতার কথা মাথায় রেখে আমরা আগেই দিয়ে দিয়েছিলাম। আপনারা আপনাদের সুবিধামত যেটা করলে ভাল হয়, তাই করবেন।

দ্বিতীয় পর্ব (যাত্রার শুরু এখানেই)

ভুটানকে বলা হয় “দ্যা ল্যান্ড অফ থান্ডার ড্রাগন”। আরও একটি নামে দেশটি বেশ পরিচিত, “দ্যা লাস্ট সাংগ্রিলা”। যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় “যেখানে সবসময় শান্তি প্রবাহমান”। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ছোট্ট এই দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৮ লক্ষাধিক। চার দিকে পাহাড়ে ঢাকা দেশটাতে যেন এক অদ্ভুত শান্তি বহমান থাকে। ঠিক যেন দ্যা লাস্ট সাংগ্রিলা নামের সার্থকতা প্রমাণ করতেই এই অদ্ভুত শান্তি বিরাজমান।
আমরা তিন বন্ধু নাজমুল, ওয়াফি, আমি আর আমাদের এক বড় ভাই ফিরোজ আহমেদ, এই চার জনের ছোট্ট একটা দল গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে রওনা দিয়েছিলাম ভারত হয়ে ভুটানের পথে। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ থেকে ০৬ জানুয়ারি, ২০১৮ পর্যন্ত ঘুরে এলাম ছোট্ট কিন্তু গোছাল, ছিমছাম, সুন্দর দেশ ভুটান থেকে। প্রথমেই কিভাবে ভারতীয় ট্রান্সিট ভিসা পাবেন তার একটি পূর্ণ বিবরন দেয়ার চেষ্টা করেছি। এই পর্বে আমাদের ভ্রমণ সংক্রান্ত পূর্ব প্রস্তুতি ও যাত্রার বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।
সড়ক পথে ভুটান যাত্রার প্রথম শর্তই হল শারীরিক ও মানসিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষেরই ভুটানের মত এত উচ্চতায় থাকার বা ওঠার অভিজ্ঞতা নেই। তাই ভুটানে সড়ক পতে যেতে চাইলে যথেষ্ট শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্টসহিষ্ণু হতে হয়। আমাদের দেশে গরমের সময় তাপমাত্রা থাকে ৩০-৪০ ডিগ্রি। কিন্তু ভুটানে গরমের সময়ও ২৫ ডিগ্রির উপর তাপমাত্রা উঠতে দেখা যায় না। আর শীতে তা মাইনাস ১০ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়। আমরা যে সময় গিয়েছি সে সময় সর্ব নিম্ন -৪ ডিগ্রি পর্যন্ত পেয়েছি। তাই যারা বছরের এই সময়টাতে যেতে চান তারা অবশ্যই ঠান্ডার ভালো জামা কাপড় নিয়ে যাবেন। সাথে অবশ্যই ঠান্ডার, জ্বরের ঔষধ নিয়ে নিবেন। নাক বন্ধ হয়ে গেলে যাতে ব্যাবহার করতে পারেন তার জন্য নাকের ড্রপ/ স্প্রে নিবেন। সাথে স্যালাইন, গ্লুকোজ ইত্যাদি সাথে রাখবেন। আমরা মুসলিম বলে হালাল খাবারের বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম, তা ছাড়া শীতকালে ওখানকার বেশিরভাগ রেস্তোরা রাত ৮.৩০-৯.০০ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তাই আমরা সাথে করে কিছু ম্যাগি নুডলস আর ন্যর-এর স্যুপ নিয়ে গিয়েছিলাম। সাথে পানি গরম করার একটা কেটলিও নিয়েছিলাম এগুলো রান্না করার জন্য। আমি আপনাদের নিতে বলছি না, কিন্তু নিতে পারলে মন্দ হয় না, অন্তত না খেয়ে থাকা লাগবে না।
এবার আসা যাক ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু কথায়। আমরা ভিসা পাওয়ার সুবিধার জন্য শ্যামলির শিলিগুড়িগামী বাসের টিকিট কাটি। কিন্তু ভ্রমণের সুবিধা হবে বিধায় বুড়িমাড়িগামী মানিক এক্সপ্রেসেরও টিকিট কাটি। শ্যামলির টিকিট আগে ৭২ ঘন্টা আগপর্যন্ত ফেরত নিত, কিন্তু বর্তমানে তারা তাদের এই পলিসিটি বাদ দেয়। আমরা তখনও ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। কিন্তু ভিসা হয়ে যাওয়ার পর যখন টিকিট ফেরত দিতে গেলাম তখন বিষয়টি জানতে পারলাম। পরবর্তীতে আমার এক পরিচিত ভাইয়ের সহায়তায় টিকিটগুলো বিক্রির ব্যাবস্থা করি। তাই আপনারা আমাদের মত ভুল করবেন না। তবে মানিক এক্সপ্রেসের টিকিটসহ ভিসার জন্য আবেদন করলে ভিসা হবে কিনা তা আমার জানা নেই।
যাই হোক এবার আসল কথায় আসি। ৩০ তারিখ রাত ৮.১৫ মিনিটে আমরা যথারীতি গাবতলীর টেকনিক্যালে অবস্থিত মানিকের কাউন্টারে হাজির হয়ে গেলাম। বাস ছাড়ল ঠিক ৮.৪৫ এ। শুরু হয়ে গেল আমাদের যাত্রার প্রথম পর্ব। রাত ১ টা ৩০ মিনিটে আমরা পৌঁছে গেলাম সিরাজগঞ্জের ফুড ভিলেজ হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে। এখানেই ছিল যাত্রার একমাত্র বিরতি। যখন বাস থেকে নামলাম তখন আমরা রীতিমত শীতে কাপছিলাম। ২৫ মিনিটের যাত্রা বিরতি শেষে আবার পথ চলা শুরু। এবার গন্তব্য বুড়িমাড়ি।
বুড়িমাড়ি পৌঁছুতে পৌঁছুতে বেজে গেল সকাল ৮ টা। সেখানে পৌঁছে দেখি আমাদের জন্য এক বিশাল সারপ্রাইজ। হোটেল সামটাইমস আমাদের বন্ধু ওয়াফির এক মামার। তিনি আমাদের জন্য একটা রুম ঠিক করে রেখেছিলেন। গাড়ি বুড়িমাড়ি কাউন্টারে পৌঁছানোর সাথে সাথে চলে গেলাম সেখানে। সারা রাত জার্নি করার পর ওই রুমটা আমাদের কাছে স্বর্গের মতই লাগল। আমরা তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে, হালকা নাস্তা সেরে নিলাম। এরপর ৯.০০ বাজতেই হোটেলের ম্যানেজার আমাদের নিয়ে গেলেন বুড়িমাড়ি স্থলবন্দরে। আগেই বলে রাখি এখানে আপনাদের পকেট থেকে কিছু টাকা খসবে। আমাদের প্রতিজনের ২০০ টাকা করে দেয়া লেগেছে। অন্যথায় এরা বেশ ঝামেলা পাকায়। এর পর ইমিগ্রেশনে ছবি তুলে ও সিল নিয়ে চলে এলাম কাস্টমসে। সেখানে ব্যাগ চেক করে আমাদের ছেড়ে দিল। এর পর চলে গেলাম ওপারে, অর্থাৎ ভারতের সীমানায়। মামার হোটেলের ম্যানেজারের এক আত্মীয়ের আবার ওপারে টাকা ভাঙ্গানোর কাউন্টার আছে। প্রথমেই কাস্টমসে ব্যাগ চেক করিয়ে চলে গেলাম ওই মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টারে। অনেকেই কাউন্টারটিকে বিভাস দা’র কাউন্টার হিসেবেও চিনে থাকবেন। সেখানে ব্যাগ রেখে চলে এলাম ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসে। ইমিগ্রেশন অফিস বলতে টিনের চালের ছোট্ট ছোট্ট দুটো ঘর। এখানেই চলছে ইমিগ্রেশনের কাজ। এখানে আবার দেয়া লাগল ১০০ টাকা। বর্ডার মানেই টাকার খেল। এটাই এখানকার চল, অন্যথায় হয়ত বর্ডার ক্রস করা সম্ভব নয়।
ইমিগ্রেশন ও চেকিং শেষে আবার চলে এলাম বিভাস দার কাউন্টারে, সেখান থেকে টাকা ভাংগিয়ে রুপি করে নিলাম। অবশ্যই কিছু টাকা ভাংতি করে নিবেন। পথে বিপদ আপদের কথা তো আর বলা যায় না। আরেকটি কথা, ৫০০ রুপির চেয়ে বড় নোট নিবেন না। ভুটানে ভারতীয় ৫০০ রুপির উপর বড় নোট চলে না। এমন কি পুনাখা জং যদি দেখতে চান তবে সেখানে তো ৫০০ রুপির নোটও নিবে না।
গন্তব্য এবার জঁয়গা। ইমিগ্রেশনে ছবি তোলার সময় ৪ জনের আরেকটি গ্রুপের সাথে পরিচয় হয়, তারাও যাবে ভুটান। তাই ঠিক করলাম ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাসে যাওয়ার চেয়ে একবারে একটা টাটা সুমো নিয়ে নেয়াই ভালো। পরে ২,০০০ রুপি তে একটা সুমো ঠিক করে রওনা হলাম জঁয়গার উদ্দ্যেশে। মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টারগুলোর পাশেই ট্যাক্সি স্ট্যান্ড। এই জায়গাটা পুরোটাই একটা সিন্ডিকেট। গাড়িতে উঠতে না উঠতেই আমাদের ৪০ রুপি দেয়া লাগল কুলির চার্জ হিসেবে, অথচ আমাদের ব্যাগ গুলো আমরাই বহন করে গাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর গাড়ি ছাড়ার পর কিছু দূর যেতে না যেতেই একবার দিতে হল ২০ রুপি আরেকবার ১০ রুপি, পুজোর ডোনেশন। ভুটান-ভারত বর্ডারে পৌঁছতে ৩ ঘন্টা লেগে গেল প্রায়। যেতে যেতে উপভোগ করলাম মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সমতল ভুমির চা বাগান। আমাদের সুমোর ড্রাইভার আমাদের নামিয়ে দিল জঁয়গা ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে। এখানে পরলাম আরেক ঝামেলায়, ড্রাইভার ২০০ রুপি টিপস চেয়ে বসল। পরে তাকে ১০০ দিয়ে বিদায় করলাম।
এরপর ইমিগ্রেশন থেকে এক্সিট সিল নেয়ার পালা। এখান থেকে সিল না নিয়ে ভুলেও ভুটানে ঢুকবেন না, অন্যথায় আবার এই সিল নিতে ফেরত পাঠাবে। তবে আপনি যদি শুধু ফুন্টশলিং যেতে চান, তবে আপনার এক্সিট সিল নেয়া লাগবে না। ফুন্টশলিং ও জঁয়গায় মানুষ অবাধ চলাচল করতে পারে। ভারতের ইমিগ্রেশন অফিস প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ইমিগ্রেশন থেকে সিল নিয়ে আর ডকুমেন্টেশন ফরমালিটিস শেষ করে খুজতে খুজতে একটা লোকাল রেস্তোরায় এসে খেতে বসলাম। খুবই সাধারন খাবার ভাত, সবজি, বেগুন ভাজি আর ডাল, কিন্তু খেলাম ভীষণ। খাওয়া শেষে ভুটান গেটের পাশের পকেট গেট দিয়ে এসে পরলাম স্বপ্নের মত গোছান দেশ ভুটানে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 342 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com