হঠাৎ কুয়াশা, আবহাওয়া অফিস যা বলছে…

Print

শীতকাল না এলেও হঠাৎ করে বুধবার সকালে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় ঢাকার আকাশ। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের নদী অববাহিকা এলাকায়ও ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। কোথাও কোথাও দৃষ্টিসীমা নেমে যায় ২০০ মিটারের মধ্যে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, দু’দিন বৃষ্টির পর শীতল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ। আর উপর দিকে গরম বাতাস থাকার কারণে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায় প্রকৃতি। আবহাওয়াবিদেরা এ কুয়াশাকে বলছেন ‘রেডিয়েশন কুলিং’জনিত কুয়াশা।

ষড়ঋতুর হিসেবে এখন চলছে হেমন্তকাল। শীতের আগে সাধারণত এ সময়ে ভোররাতের দিকে হালকা কুয়াশা পড়ে। অনুভূত হয় ঠাণ্ডা। কিন্তু বুধবার ভোররাতে কুয়াশার সাথে বইতে থাকে হিমেল হাওয়া। সকাল হওয়ার সাথে সাথে আরো স্পষ্ট হয় কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ। দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। কুয়াশার কারণে দৃষ্টি যায়নি খুব বেশি দূর। একদিনেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও কমে এসেছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সকালে হালকা থেকে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়েছে।

কুয়াশার ধরন ব্যাখ্যা করে আবুল কালাম বলেন, দৃষ্টিসীমা ১ হাজার মিটারের কম হলে সেই অবস্থাকে আমরা সাধারণত কুয়াশা বলি। দৃষ্টিসীমা ৯০০-১ হাজার মিটারের মধ্যে হলে হালকা, ৯০০ মিটার পর্যন্ত না দেখা গেলে মাঝারি এবং ৪৫০-৯০০ মিটার হলে ঘন কুয়াশা বলা হয়। অর্থাৎ দৃষ্টিসীমা ৪৫০ মিটারের নিচে নেমে এলে ঘন কুয়াশা বলে এবং তখন ১৮০ মিটারের বেশি দেখা যায় না।

আজকে দৃষ্টিসীমা ৪০০ মিটার ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এটা ছিল মাঝারি ধরনের কুয়াশা। তবে কোথাও কোথাও সামান্য ঘন কুয়াশা ছিল।

এই আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, সাধারণত নভেম্বর থেকে কুয়াশা পড়া শুরু হয়। শীতকালে বা তার আগে থেকে দিন ছোট হওয়ায় রাতের বেলায় শীতল থাকে প্রকৃতি। এজন্য ভোররাতের দিকে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। কিন্তু তার উপরের বাতাস গরম থাকে। এ কারণে নদী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় কুয়াশা পড়ে বেশি।

হঠাৎ করে বেশি কুয়াশা পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন আবুল কালাম মল্লিক।

তিনি বলেন, গত দু’দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হওয়ায় বাতাসে আদ্রতা বেশি ছিল, সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। আর্দ্রতা বেশি ও ভূ-পৃষ্ঠ ঠাণ্ডা থাকা এবং উপরের স্তরে গরম থাকায় বেশি কুয়াশা পড়েছে। অর্থাৎ ঠাণ্ডা বাতাসের উপর গরম বাতাস থাকায় কুয়াশা বেশি পড়েছে।

এই অবস্থাকে বলা হয় ‘রেডিয়েশন কুলিং জনিত কুয়াশা’, বলেন আবহাওয়াবিদ মল্লিক।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বালতিতে ঠাণ্ডা পানির মধ্যে গরম পালি ঢেলে দিলে জলীয় বাষ্প উঠে ধোয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আজকের আবস্থাটা ছিল তেমন।

এদিকে, বৃষ্টি-কুয়াশাসহ প্রকৃতির বিরূপ অবস্থার মধ্যে মাত্র একদিনে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চপড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে এসেছে। আগের দিন সেখানে তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বুধবার রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্র সেলসিয়াস। তবে ঢাকায় কোন পরিবর্তন হয়নি। বুধবার ঢাকায় ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, কয়েক দিন থেকেই হালকা কুয়াশা পড়ছে। ডিসেম্বরের প্রথম থেকে শীতের প্রকোপ শুরু হবে।

আবহাওয়াবিদ মল্লিক আরো বলেন, এখন প্রতিদিনই ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা কুয়াশা পড়বে। এই কুয়াশা শীতের আগমনী বার্তা। ডিসেম্বরের শুরুতে একটি শৈত্যপ্রবাহ আসবে বলেও জানান মল্লিক।

২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলংকা দ্বীপে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে শ্রীলংকা দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং কোমোরিন সাগরে অবস্থান করছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 21 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com