ঘুরে এলাম হিমালয় দেশ নেপাল

Print

একেবারে সেই শৈশব থেকে নেপালকে নিয়ে ভাবতাম যখন বিটিভিতে সার্ক সম্মেলন দেখতাম। প্রতিবেশী দেশ। পাঠ্যবই এ পড়েছি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের কথা। নেপালের রাজা আসলো নিজস্ব সাংস্কৃতিক পোষাক পড়ে। বিশেষ করে টুপিটা। ভালো লাগতো। গরীব রাষ্ট্র। ইতোমধ্যে আমি পূর্ব এশিয়ার কয়েকটিদেশ ঘুরেছি। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও ভুটান ঘুরেছি। কিন্তু নেপাল যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো ভারত হয়ে। কিন্তুু ট্রানজিট ভিসা পাওয়া বড়ই কঠিন। নেপালে যেতে ভিসা লাগেনা। এ্যারাভাইল ভিসা। তাই ঝামলা কিছুটা কম। যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তুু জুটি পাচ্ছিনা। যে কোন ভ্রমণে দুইজন হলে ভালো। সময় কাটে খরচ ও কম হয়। বন্ধু মাহবুবকে বললাম সে নিমরাজি। সে বললো নেপালে মানুষ যায়। এটা বলে উড়িয়ে দিলো। এর পনের দিন পর ঘটলো ভয়াবহ বিমান দূর্ঘটনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ঘটনা। ঁং নধহমষধ ধরৎ দূর্ঘটনার পর নেপালের এয়ারপোর্টে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ বের হতে থাকে। মাহবুবেরর সাথে দেখা হলে বলে ভ্যাগিস নেপালে যায়নি। বিমান দুর্ঘটনা থেকে কিভাবে বাঁচতে। এর পরও নেপালে যাওয়া ইচ্ছাশক্তি ছিলো। মৃত্যুভয় আমাকে দমাতে পারেনি। কেউ ভয়ে যেতে চায়না। শেষমেষ পেলাম সমীরবাবুকে। বেচারা দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা। কিন্তু ভিসা পায়না। নেপালের কথা বললে প্রথমে ভয়পায়। তাকে বললাম এটা হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র। এখানে অনেক মন্দির। নেপালে ৮১% হিন্দু। বেড়ানো হবে ধর্ম পালন ও হবে। ঘুরেফিরে ইউএস বাংলা বিমান ঘটনার কথা। নেপালের ত্রিভুবন এয়াপোর্ট পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বন্দর। সমীরবাবুর সাহস আনার জন্য আমাদের ধর্মের একটা সত্যে ঘটনা বললাম। হযরত মুসা (আঃ) এর আমলে একবার প্লেগ রোগের মহামারি হলো। মৃত্যুর ভয়ে তাহার কিছু অনুসারী ( ৭০ জন) বাঁচার জন্য এলাকা ছাড়লো। মাঝ পথে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে আঘাতে সবাই মারা যায়। বিষয়ে আল্লাহ কুরআনে বলেন আমি না চাইলে কেউ বাঁচতে পারবেনা। এলাকা ছাড়লে কি হবে। মৃত্যু কপালে থাকলে মৃত্যু সব জায়গায় হাজির হবে। পরে হযরত মুসা আঃ আল্লাহ কাছে দোয়া করলে তারা জীবিত হয়। এটা ইমানদারের জন্য শিক্ষা। আমি বললাম বাংলাদেশে থাকলেও মরতে পারি।
এ কথা বলার পর সমীরবাবু কিছুটা সাহস পেলো। দিন তারিখ ঠিক করলাম ঢাকা এক পরিচিত ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের মালিক মনির হোসাইন টুটুলের সাথে যোগাযোগ করলে তারই প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল বিডি থেকে ৩৩হাজার টাকায় ৪রাত ৫দিনের প্যাকেজ নিলাম। অবশেষে ২৩ জুন রওনা দিলাম। পরিচিত জনদের তেমন বললাম না। কারণ নেপালের কথা বললো চোখ কপালে উঠবে। বিমান দুর্ঘটনা কথা এখনো টাটকা। আমাদের ভরসা ছিল কুরআনের সেই ঘটনা। ঢাকা থেকে মাত্র বিমানে ১ঘন্টায় পৌঁছলাম নেপালের ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট। বিমানে থেকে গ্লাসে নিচে তাকালাম কেবল চোখে পড়ছে পাহাড় আর পাহাড়। আর ইউএস বাংলার দূর্ঘটনার কথা। বিমান থেকে নেমে একটা বেঁচে থাকার স্বস্তির হাসি দিলো সমীরবাবু। ইমগ্রেশনে দাঁড়ালাম। একেবারে ফাঁকা। যারা প্রথমবার সফর তাদের লাইন আলাদা। এ্যারাভাইল ভিসা জন্য নেপালে পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। ভুটানে লাগেনা। দুটো প্রশ্ন করে আপনাকে ছেড়ে দিবে। জিজ্ঞাস করবেন নেপালে প্রথম কিনা। কোন দেশ। তার পর পাঁচ মিনিটে ১৫দিন থাকার ভিসা। ছোটখটো ছিমচাম এয়ারপোর্ট। বাইরে বের হলাম। আমার নাম ইংরেজিতে সেলিম লিখে একজন যুবক দাঁড়িয়ে রইলো। নামটা এতো ছোট লিখলো কয়েক মিনিট লাগলো তাকে বের করতে। একটা জীপ নিয়ে জীবন নামে এক নেপালী যুবক হাজির। বাইরে ২৫ডিগ্রি তাপমাত্রা গরমটা বাংলাদেশের মতো। গাড়িতে উঠে হোটেলের পথে রওনা। চলতে চলতে আলাপ। এরা ইংলিশ আর হিন্দী দুটো ভাষা ভালো রপ্ত করেছে। রাজধানী কাঠমান্ডু। একবারে চোখের সামনে। রাস্তায় ঢাকার মতো মানুষ নাই। মাত্র ১৫লাখের মানুষের বসবাস। গাড়ি গুলো তেমন দামী নয়। আমাদের গাইড জানালো নেপালে গাড়ির ট্যাক্স হাই। তাও আসেন ভারত থেকে। এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছলাম ট্যুরিস্ট এরিয়ায় আমাদের হোটেলে। জায়গাটা নাম টামিল। লোকেশন খুবই ভালো। সব জায়গায় সহজে মুভকরা যায়। হোটেলে পৌঁছে আমি ও সমীর বাবু ব্যাগ রেখে বেরিয়ে পড়লাম মোবাইলে সীমের জন্য।
দরাদরি করে কয়েক দোকান ঘুরে নিলাম। দামে কিছুটা সস্তা পেলাম। প্রথম দোকানে চাইলো ২৫০রুপি। পরেরটা চাইলো ১৫০রুপি। পাসপোর্টের ফটোকপি ও ছবি ছাড়া সীম মিলবে না। তাই নেপালে যাওয়ার আগে মানিব্যাগে ছবি নিতে ভুল করবেন না।
সাথে পাসপোর্টের ফটোকপি। নেপালে ফটোকপি দাম। ৫রুপি প্রতিপৃষ্ঠা। বাংলাদেশে কথা বললে প্রতি মিনিট কাটে ৭রুপি। নেপালে ইন্টারনেট খুবই ফাস্ট। ৪জিবি নাকি আমাদের আগে চালু হয়। নেপালে পরিবহন খরচ বেশি। রিকসা নেই। মোটরসাইকেল ভাড়ায় চলে। আমাদের প্রথম দিনটা কাঠমান্ডু কাটে। কাঠমান্ডু শহরে ঘুরতে চাইলে আপনাকে ৪হাজার রুপি দিয়ে গাড়ি ভাড়া করতে হবে। এক্ষেত্রে ৪জন হলে সুবিধা। খরচ কিছুটা কম হবে। শহরে রয়েছে পুরনো মন্দির। রাজপ্রসাদ। জাদুঘর। শহরের একটু দুরে চন্দ্রগিরির পাহাড়। আমরা ৩হাজার রুপি দিয়ে জীপ ভাড়া সেখানে গেলাম। ঘন্টাখানিকের পথ। রাস্তাঘাট এবড়োতেবড়ো হওয়াতে একটু সময় বেশি লাগলো। এ গিরির উচ্চতা ২৫২৮ফুট। ক্যাবল কার চড়ে এ পাহাড়ের উঁচুতে উঠতে হয়। পড়ন্ত বিকেল আমরা সে জায়গায় পৌঁছলাম। ১১৫০ রুপি গুনে টিকেট কাটতে হয় সার্ক দেশসমূহের নাগরিকদের। নেপালীদের জন্য ৪৫০রুপি ফিরতি সহ। ক্যাবল কারের চড়ার মজাটা আলাদা। প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যময় স্পর্শ ছাড়াই মেঘ দেখাটা ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা হলো। নিচে কেবল সবুজের সমারোহ। আর দুরে পাহাড়ের সমতলে কাঠমান্ডু শহরের ছোট ছোট কুঠির। ৫মিনিটে পৌঁছানো হয় একবারে উপরে। সেখানে প্রকৃতির এক নৈসর্গিক দৃশ্য। সারি সারি পাহাড়। হাত বাড়ালে মেঘের ঠান্ডা অস্তিত্ব অনুভব। রয়েছে হাজার বছর পুরানো মন্দির। ঘন্টাখানিক ঘুরার পর ফেরা পথে লম্বা লাইন। প্রচুর ট্যুরিস্ট। ক্যাবল কারের উঠার জন্য। আমরা দুই জন হওয়াতে তাড়াতাড়ি আসলাম। ফেরার পথে আকাশ থেকে নামলো অভিমানী অঝোরধারার বৃষ্টি। রাতে কাঠমান্ডু ট্যুরিস্ট এলাকায় আপনার সময় ভালো কাটবে। সাদা চামড়ারা বের হয় শপিং এর জন্য। রাত ৮টার মধ্যে শেষ হয়।। তারপর দোকান পাট বন্ধ। প্রথম দিন সফরে একবারে ক্লান্ত ছিলাম।

দ্বিতীয় দিন আমাদের সফর ছিলো নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোখরা। এটাকে নেপালের ভূস্বর্গ বলা হয়। কেউ বলে পোখরা নেপালের রানী। কাঠমান্ডু থেকে ২০০কিলোমিটার দুর। যাওয়ার পথে দেখলাম ১৪০ কিলোমিটার সারি সারি পাহাড়। এটা নাকি পৃথিবীর দীর্ঘতম পাহাড়ের সারি। সকাল ৭টায় আসলো আমাদের ট্যুরিস্ট গাড়ি। এক সাথে ৩৫ জন আমরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। পাহাড়ের আকাবাকা পথে গাড়ি চলাটা দারুণ। কিন্তু নিচের থাকালে বুক কেঁপে উঠে। গাড়ি পড়লে বিমানের মতো হাঁড়গুড় কিছু পাওয়া যাবে না। দুরে সবুজের পাহাড়ে উপরে মানুষের কুঠির। কেবল ভাবছি কেন মানুষ পাহাড়ের চূড়ায় থাকতে চাই। ২০০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগলো ৮ ঘন্টা। যানজট নয়। তবে এতো সময় কেন? ঝুর্কিপূর্ণ সড়ক সেজন্য গাড়ির গতি কম। পোখরায় পৌঁছলাম একবারে শান্ত বিকাল। পথে চারবার বিরতি। হয়তো সময়টা একটু বেশি লাগলো। শহরে প্রবেশ পথ দেখে মনটা ভরে গেলো। একেবারে ছবির মতো। শান্ত, নীরব। পরিষ্কার পরিচ্চন্ন। শহরের সাথে ফেওয়া লেক। ৩কিলোমিটার জুড়ে এ লেক শহর করেছে একেবারে রানীর মতো। বিকেলে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পাহাড়ে আঁচড়ে লাল আবরণ। পর্বতগুলো যেন পসরা সাজিলো পর্যটকদের জন্য। সন্ধ্যা হলে বসে নেপালী সংস্কৃতির আসর। নেপালীরা খুবই ভদ্র। দেখামাত্র মাথা নিচু করে বলে নমস্কার। আর এক চিলতে হাসি। দেখে মনে হয় সে আমার কতকালের পরিচিতি আপনজন আয়তনে প্রায় বাংলাদেশের সময়। জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে কোটির মতো। তবে বেশির এলাকা পাহাড়ে ঘেরা। আমদানী নির্ভর দেশটার প্রতিবেশী ভারত ও চীন থেকে আসে বেশীর ভাগপণ্য। যার জন্য নেপালে জিনিস পত্রের দামটা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি তা নয় দক্ষিণ এশিয়াতে বেশি। পোখরায় দুইদিন কাটালাম। ঘুরলাম শহরে। শহরের বাইরে। পোখরায় আপনাকে প্রথমে দেখানো হবে সূর্য উদয়ন দৃশ্য। জায়গাটার নাম হলো শরণকট। আমাদের প্যাকেজে এটা ছিলো। তাই রাতে হোটেলের রিসেভশন থেকে জানালো হলো রাত ৪টায় গাড়ি আসবে। রাতে বিশ্বকাপের খেলা দেখলাম। ঘুমটা হয়নি। ভোর রাতে হাজির রাজসিংহ। রাতে বৃষ্টি ছিলো। আকাশটা ভরাট গলার মতো ভাব ধরেছে। আমাদের আগে সেখানে অনেক ট্যুরিস্ট হাজির। আমরা দেরি করলাম। একশত টাকা দিয়ে দুটো টিকেট কাটলাম। তারপর শুরু হলো একপশলা বৃষ্টি। হলো না দেখা সে পাহাড়ের সাথে সূর্যের মিলনমেলা। রাতের ঘুম হারাম করার ফলাফল শূন্য। দেখা হলো না সূর্য উদয়ের দৃশ্য। তারপর হোটেলে এসে ব্রেকফাস্ট সারলাম। শহরের ভিতর ঘুরা ঘুরি। দেখলাম প্রাচীন মন্দির। এটা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় মন্দির। নাম বিন্দাভাসিনী মন্দির। ডেবিসপল ঝর্ণা। ভিউপয়েন্ট। নেপালের সব জায়গায় টিকেট কাটতে হয়। এমনকি প্রার্থনা করতে গিলে মন্দিরেও। ভুটানে কিন্তু তার উল্টো। সব জায়গায় বিনামূল্য প্রবেশ। আসলে নেপালের একমাত্র প্রধান আয়ের উৎস ট্যুরিষ্টখ্যাত। উপায় নাই। টিকেট কাটা ছাড়া। আসলে নেপালে ভ্রমণে আপনাকে কমপক্ষে ১০দিন সময় করে যেতে হবে। পোখরা থেকে কাঠমান্ডু বিমান ভাড়ার আসা যাওয়া ২২০ ডলার। সময় মাত্র ৩০ মিনিট। খুবই ব্যয়বহুল। আর সড়ক পথে সময় বেশি। আমাদের দুইদিন চলে গেলো পথে। যাওয়া হলো না নাগরকোট সময়ের অভাবে। কাঠমান্ডু থেকে ৫০ কিলোমিটার। সারাদিন লাগে আসা যাওয়াতে। আমরা জানতাম না নেপালের রাজপ্রাসাদ মঙ্গলবার ও বুধবার বন্ধ থাকে। তাই একবারে রাজার বাড়ির পাশে থেকে ও ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহি বাড়িটা না দেখার আপসোস নিয়ে নেপাল থেকে বাড়ি ফেরা ভুলার নয়। নেপালে কেনাকাটার তেমন কিছু নাই। তবে নিজস্ব হাতের তৈরিকৃত ফসমিরা শাল খুবই ভালো দেখতোও আর্কষণীয়। তবে দাম বেশি। ২০হাজার রুপি থেকে নিচে ৪হাজার রুপি। তবে মিক্সড হলে আপনি কিনতে পারেন ৬০০ রুপি দিয়ে। কেনাকাটাতে দরাদরি করবেন। নেপালীরা ট্যুরিস্টদের একটু বাড়তি দর দেই। বাড়াবাড়ি করলে দরপড়ে। নেপালন ভ্রমণকে মনে রাখার জন্য একটা নেপালী টুপি কিনতে হবে। কোয়ালিটি ভেদে দাম হয়। নেপালের চুরি খুবই আকর্ষণীয়। এরা চুরিকে কুকরী বলে। এদের ঐতিহ্য বিয়েতে বরের কোমরে একটা চুরি লাগবে। তবে চুরি খুবই ভালো। ভালো চাইল আপনাকে ১০০০হাজার রুপি থেকে শুরু করতে হবে। শীতের পোষাক ও এদের ভালো। পাহাড়ী ছাগলও ণড়ড়শ..চামড়া দিয়ে এগুলি তৈরি হয় বলে দামটা বেশী। এদের গড় আয়ুটা বেশি। চিকিৎসা সেবা উন্নত বলে নয়। এরা পাহাড়ে থাকে। কঠোর পরিশ্রম করে। ভেজালমুক্ত খাবার খায়। ভাত আর ডাল প্রধান খাবার। তবে বেশির বাঁচার আর একটা খাবার মদ। নেপালের ৯৫%পুরুষ আর ৭৫%নারী সকাল আর রাতে মদ পান করে পরিবারের সবাই একত্রে। সেজন্য কাঠমান্ডু থেকে পোখরা ২০০কিলোমিটার যাওয়ার পথে কেবল চোখে পড়বে মদের বিজ্ঞাপন। টিভি ফ্রিজ কিংবা মোবাইল কোম্পানির এড বাটিচালান দিয়ে ও পাওয়া যাবেনা। নেপাল বিশ্বের একমাত্র হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র হলেও ভারতের মতো সবর্ত্র দেবদেবীর ছবি নেই। পাঁচদিনের সফর দেখতে দেখতে চলে গেলো। একেবারে দৌঁড়ের মধ্যে ছিলাম। নেপালের মানুষের ভালোবাসা আর প্রকৃতির উদারতা কেউ কারো চেয়ে কম নয়। নেপাল ভ্রমণ উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ। আমরা এলাম সামারে। সেজন্যে হোটেেেলর দামটাম একটু কম। জিনিস পত্র সস্তা। যারা কম খরচে নেপালে বেড়াতে চান তাহলে জুন জুলাই মাসে যেতে হবে। নেপালের ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকায় ২৭জুন পা রাখার সাথেই সমীরবাবু বুকে চাপানো হাসি দৃশ্যমান করলেন। একেবারে ভয়ে কাতুর সমীরবাবুর গলার আওয়াজ বড় হলো। নেপাল ভ্রমণভয়কে জয় করলাম।

মুহাম্মদ সেলিম হক
লেখক, সংগঠক ও সমাজকর্মী

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 598 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com