হুমকির মুখে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

Print

এস এম আমীর হামজা (হবিগঞ্জ থেকে)।। অতিমাত্রায় বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কয়েক দফা ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। সাতছড়ি ছড়াগুলো ভাঙতে ভাঙতে পাহাড় এখন খেলার মাঠে পরিণত হতে চলেছে।
এ অবস্থায় মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। অবাধে গাছ কাটা এবং ভাটিতে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মধ্যে পড়েছে জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ও প্রতিবেশ।
২০১৭ সালে টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মূল ট্রেইল এবং টাওয়ারে যাওয়ার রাস্তার পাশে কয়েক দফা ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রায় দেড়শ’ ফুট ট্রেইল হুমকির মধ্যে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি বারবার ভাঙন মেরামত করে কোনো রকম ট্রেইল চালু রাখে।
চলতি বছর মৌসুমের শুরুতেই টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে পুনরায় কয়েক দফা ভাঙন দেখা দেয়। পাহাড়ের ছড়াগুলো পাহাড়ি ঢলে একাকার করে দিয়েছে। ছড়ার চারপাশের গাছপালা ভেঙে নিয়ে গেছে ঢলের পানি। জাতীয় উদ্যানের এক ঘণ্টা ও ৩ ঘণ্টার ট্রেইল ও ওয়াচ টাওয়ারের ট্রেইলের কাছের ছড়াটি ভাঙতে ভাঙতে একেবারে ট্রেইলের কাছে চলে এসেছে। যে কোনো সময় টানা বৃষ্টি হলেই এ ট্রেইল পানিতে ভেঙে নিয়ে যাবে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছড়ায় ঢলের পানিতে গাছপালাসহ ভেঙে নিয়ে গেছে। পাহাড় ভাঙতে ভাঙতে একেবারে ট্রেইলের কাছে এসে লেগেছে। পাহাড়ের অভ্যন্তরে অনেক স্থানে কয়েক দফার বৃষ্টি আর ঢলের পানি ছড়াগুলো ভেঙে বড় করে ফেলেছে। কোনো কোনো স্থানে একেবারে খেলার মাঠের মতো হয়ে গেছে। বালুমাটির কারণে টিলার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে গাছপালা ও ট্রেইল। এ অবস্থায় ট্রেইলের একমাত্র ব্রিজ ও পার্কের কাউন্টারসহ মূল ফটক হুমকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত দু’বছরে টানা বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের অভ্যন্তরের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। চিরসবুজ এবং রেইন ফরেস্ট নামে খ্যাত সাতছড়ি ছড়ার মিলন এখন আর দেখা যায় না। ছড়াগুলো গতি পরিবর্তন করে যে দিকে নিচু এবং মাটি নরম পাচ্ছে সেদিকেই ভাঙতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের উজান এবং ভাটিতে চা-বাগান এবং বাইরে বিভিন্ন নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়ের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভাটিতে পানি নামার সময় পানির সঙ্গে বালুসহ সবকিছু ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। এতে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। জাতীয় উদ্যানের মাত্র ৮ কিলোমিটারের মধ্যে সুতাং নদী থেকে এবং তেলিয়াপাড়া এলাকায় চা বাগানসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করার কারণে মাটি সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পানির সঙ্গে পাহাড়ের মাটি ও বালু গিয়ে গর্ত ভরাট হচ্ছে। পাহাড় ধসের আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে অবাধে গাছপালা কাটা। উদ্যানসহ পাহাড়ের অভ্যন্তর থেকে গত ১০-১২ বছর ধরে অবাধে গাছ কাটা হচ্ছে।  এর ফলেও পাহাড় তার স্বরূপ হারাচ্ছে।বন বিভাগ এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি চলতি বছর ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। চলতি মে মাসে কাজ শুরুর পর থেকেই কয়েক দফা বৃষ্টি এবং ঢলের পানিতে কাজের অনেক অংশ পানিতে তলিয়ে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় পুরো কাজ করাও দুষ্কর হয়ে গেছে। পাহাড়ের এ ভাঙন রক্ষা করতে না পারলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং উদ্যানের বন্যপ্রাণীসহ পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপন্ন হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, আমরা ট্রেইলগুলো রক্ষার চেষ্টা করছি। কয়েক দফা কাজ করা হয়েছে। এখন কিন্তু টানা বৃষ্টির মধ্যে কাজও করা যাচ্ছে না।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 146 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com