২০ লাখ ক্রিকেট ম্যাচ খেলে ৮৫ বছর বয়সে অবসর

Print

ডেইলি মিরর সবকিছুতেই একটু বাড়াবাড়ি করে। তাই ডেইলি মিরর যখন বলছে ২০ লাখ ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছেন সিসিল রাইট, তখন সে তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা যায়। কিন্তু সিসিল প্রসঙ্গে যখন কেউ বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার করছেন, তার পেছনের কারণ ম্যাচ সংখ্যা নয়। কারণ, যে বয়সেও ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছেন সেটা। ৮৫ বছর বয়সেও দাপটে ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন সিসিল রাইট। ১২ গজ লম্বা রান আপে করছেন পেস বোলিং!

খুব বেশি দিন অবশ্য তাঁকে মাঠে দেখা যাবে না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর স্প্রিং হেডের বিপক্ষে অবসরে যাচ্ছেন আপারমিলের এই বিস্ময়। আপারমিলের দ্বিতীয় দলের হয়ে পেনি লিগে খেলেন সিসিল। তবে মূল দলের যে তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই সেটা টের পাওয়া যায় গত বছরের এক টুইটে, ‘আমাদের প্রথম দল আজ আবার জিতে লিগের শীর্ষে আছে। কিন্তু সে খবরকে পাত্তা দেওয়ার কিছু নেই, সিসিল…!!!’ আপারমিলের উচ্ছ্বাসের কারণও ছিল। ৯ উইকেট পড়ার পর নেমে ৮৪ বছরের সিসিল সেদিন ছক্কা মেরে জিতিয়েছিলেন দলকে! সম্পূর্ণ শরীরভিত্তিক এক খেলার সঙ্গে এ তথ্যগুলো কোনোভাবেই মেলানো যায় না।

সিসিলের ক্যারিয়ারে এমন বিস্ময় জাগানো অবশ্য নতুন কিছু নয়। ১৯৫৯ সালে জ্যামাইকার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। প্রতিপক্ষ বার্বাডোজ দলে ছিলেন ওয়েস হল এবং স্যার গারফিল্ড সোবার্স। ক্যারিয়ারের লম্বা পথে ভিভ রিচার্ডস, ফ্রাঙ্ক ওরেল, জোয়েল গার্নারদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। এদের কারও মতোই কিংবদন্তিদের তালিকায় যেতে পারেননি। কিন্তু ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্যে এদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে সিসিল। ৬০ বছরের ক্যারিয়ারে সাত হাজারের উইকেট নিয়েছেন।

১৯৫৯ সালেই ইংল্যান্ডে চলে এসেছিলেন এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের লিগে ক্রম্পটনের হয়ে খেলা শুরু করেন। তিন বছর ভবিষ্যৎ স্ত্রী এনিডের দেখা পাওয়ার পর ইংল্যান্ডেই স্থায়ী হয়েছেন। সেখানেই ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে ৫ মৌসুমে ৫৩৮ উইকেট পেয়েছিলেন সিসিল, প্রতি ২৭ বলে এক উইকেট। উইজডেন ক্রিকেটও তাঁর এভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছিল, ‘এখনো ভালোই চলছে।’

অবশেষে থামতে হচ্ছে সিসিলকে। বিদায় বেলারও তাঁর লম্বা ক্যারিয়ারের রহস্য ফাঁস করছেন না এই পেস বোলার, ‘আমি যদি জানতাম আমার লম্বা ক্যারিয়ারের রহস্য! কিন্তু আমি জানি না।’ যদিও এর আগে নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাই বলেছিলেন, ‘সত্যি হলো যা পাই তাই খাই কিন্তু আমি পান করি না। মাঝে মাঝে একটু বিয়ার। আর আমি ফিট থাকি। ইদানীং যদিও বয়সকে অজুহাত দেখিয়ে অনুশীলনে আসি না মাঝে মাঝে। তবু ব্যথা থেকে বাঁচার জন্য সাহায্য নেই। আমি বসে থেকে টিভি দেখতে পছন্দ করি না। এর চেয়ে হাঁটা বা গ্যারেজে কাজ করাই ভালো।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 25 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com