২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়কে প্রতিহিংসামূলক দাবি করে জাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

Print
মোঃ রায়হান চৌধুরী, জাবি প্রতিনিধি :
২১ অাগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ‘ফরমায়েশি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায়’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিমের সঞ্চলনায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন। এসময় বক্তরা তাদের বক্তব্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক রায় উল্লেখ করে এই রায়কে প্রত্যাখান করেন এবং বলেন ‘এই রায় জনগন মানে না’।
মানববন্ধনে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলনা দাবি করে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, “আমরা সকলেই জানি, এটা একটি ফরমায়েশি রায়। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগ সরকার জুলুম-নির্যাতন-দমন-পীড়ন চালালেও বিএনপির কোন জনসভায় কিন্তু তারা গ্রেনেড হামলা চালায় নি। কারণ তারা জানে এই ধরনের ঘটনার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেই যাবে। তাহলে পাগল ও শিশু ছাড়া সবাই বুঝতে পারে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যে গ্রেনেড হামলা হয়েছে তাতে ক্ষমতায় থাকা সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। শুধুমাত্র ষড়যন্ত্র করেই বিএনপিকে ধ্বংস করতে এই মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই আইনের মাধ্যমে যেভাবে অত্যাচার শুরু করা হয়েছে, একের পর এক শিক্ষক-সাংবাদিক হতে সকল পেশার মানুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরো বলেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতা থেকে একদিন চলে যেতে হবে। আমরা বহু স্বৈরাচারীর পতন দেখেছি। যাদের পরিণতি হয়েছিল করুন। তাই এখনও সুযোগ আছে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিন। নয়তো জনগণ আপনাদেরকে কখনো ক্ষমা করবে না।”
এছাড়াও তিনি সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকলকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজ আপনি আপনাকে নিরাপদ ভাবছেন। মনে রাখবেন কাল আপনিও এই জুলুমবাজ সরকার কর্তৃক আক্রান্ত হবেন। এখনও সময় আছে চলুন আমরা বাংলাদেশ রক্ষার আন্দোলনে এগিয়ে আসি। আমরা যে যে পেশায় থাকি না কেন, সেখান থেকে এই জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠি।”
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্র মানে না। এই সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নষ্ট করে দিয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক বাক স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে এই রায় দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়কে প্রত্যাখান করছি।”
মানববন্ধনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন নুরু বলেন, “এই মামলা তিনটি তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ করা হয়েছে। প্রথম দুটি তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাদের লোক ছিল। বর্তমান আইজিপির তদন্তেও উঠে এসেছে এই মামলায় তারেক রহামনসহ বিএনপির কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু বহিস্কৃত কাহার আকন্দকে নিয়ে এসে যে তদন্ত করা হয়েছে তাতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। তাই আমরা বলেতে চাই এটা একটি রাজনৈতিক মামলা। রাজনৈতিক ভাবে এই ভাবে মামলা পরিচালনা করা ভয়ানক।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটওয়ারী, আব্দুর রহমান বাবুল, আব্দুল খালেকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 45 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com