৪৯ বছরেও হয়নি স্মৃতিফলক

Print
৯ মাস যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি বিজয় লাভ করেছিল। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের স্থান পেতে ৩০ লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল পাকিস্তান আর্মি, রাজাকার ও আলবদরদের হাতে। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০ বছর অর্থাৎ সুবর্ণ জয়ন্তী পালন হবে। প্রশ্ন থেকে যায় এতদিনেও কি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিংবা জীবন বাজি রেখে যারা মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে? অনেক ক্রীড়াবিদ বা সংগঠক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার মতো নয়।

প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে ক্রীড়াঙ্গনের অবদানও উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তারকা ক্রিকেটার জুয়েল ও স্বনামধন্য সংগঠক মুশতাক আহমেদকে পাক সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। তা বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা কতটুকু জানে। তারা কি জানে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ইতিহাসের কথা? কিংবদন্তি ক্রিকেটার রকিবুল হাসান ১৯৭১ সালে আগুনঝরা দিনে পাকিস্তান দলের হয়ে ব্যাটে জয় বাংলা শ্লোগানের স্টিকার লাগিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তার সাহসিকতা ক’জনে জানে? তাহলে কী সব হারিয়ে যাচ্ছে।

 জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার টানে ভারতে ছুটে যান জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, আইনুল, কায়কোবাদ, এনায়েত,  প্যাটেল, সুরুজ, সুভাষ, গোবিন্দ, হাকিম, কাজী সালাউদ্দিন, আশরাফ, অমলেশ, শাজাহান, নওসেরুজ্জামান, তসলিম, লালু, আলী ইমাম, বিমল, খোকন, আমিনুল, মমিন জোয়ার্দার, সাত্তার, মুজিবুর, খন্দকার নরুন্নবী, অনিরুদ্ধ, সিরাজউদ্দিন, আজব আলী ও নিহারের মতো তারকা ফুটবলাররা। কোচ ননী বসাক ও ম্যানেজার ছিলেন তানভীর মাজহার তান্না। এসব খ্যাতনামা ফুটবলাররা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও তাদের ভূমিকার কথা জাতি কখনো ভুলবে না। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গড়ে পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করেছিলেন। দেশের বাইরে প্রথম জাতীয় সংগীত বেজেছিল তাদেরই মাধ্যমে। 

ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার, ক্রিকেটার মনসুর আলী পতৌদি মাঠে গিয়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবলারদের উৎসাহ জোগান। আরেক প্রখ্যাত ফুটবলার হাফিজ উদ্দিন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

৪৯ বছরে স্বাধীন বাংলা দলের অনেকে যেমন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তেমনি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেকে বঞ্চিত রয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল আমাদের গর্ব। তাদের অবদানের কথা জাতিকে জানাতে ঢাকা স্টেডিয়ামের পাশেই স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হবে। এখানে স্বাধীন বাংলা দলের প্রতিটি সদস্যের নাম লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়ে গেছেন। অথচ তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ কী এখনো নেওয়া হয়েছে?

স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে চলল। অথচ অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে ৪৯ বছরেও স্মৃতিফলক নির্মাণ হয়নি। অতীতের কথা বাদই দিলাম ১৩ বছর ধরে বাফুফের সভাপতির দায়িত্বে আছেন কাজী সালাউদ্দিন। তিনি তো সব সময় বলে আসছেন তার ক্যারিয়ারে বড় প্রাপ্তি স্বাধীন বাংলা দলে খেলা। কই কখনো কি তিনি স্মৃতিফলকের উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারকে কি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এ স্মৃতিফলক জাতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এসব নাম দেখলে তো বর্তমান প্রজন্ম জানতে পারত মুক্তিযুদ্ধে ক্রীড়াবিদদের অবদানের কথা।

স্বাধীন বাংলা ফুটবলের দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু আক্ষেপ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে। অথচ ৪৯ বছরেও স্বাধীনতার পদক মেলেনি। হয়নি কোনো স্মৃতিফলক। অনেক প্রতিষ্ঠান এ স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা কেন বঞ্চিত সেটাই আমার বড় প্রশ্ন।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 213 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ