৫৭টি মিটিং করে হতাশ হয়েছি

Print

মাবরুর রশিদ বান্নাহ, নির্মাতা। গত ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়েছে তার নির্মিত ১৪টি নাটক। এর মধ্যে দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয় ‘আশ্রয়’ নাটকটি। এছাড়াও দর্শকপ্রিয় তালিকায় তার ‘লেডি কিলার-২’, ‘ডেইট’, ‘থার্ড জেন্ডার’, ‘মুগ্ধ ব্যাকরণ’ নাটকগুলো জায়গা করে নেয়। নাটক ও সমসাময়িক প্রসঙ্গে মুখোমুখি হয়েছেন তিনি-

ক’দিন সময় নিয়ে ঈদুল আজহার কাজগুলো তৈরি করেছেন?

ঈদে আমার সর্বমোট ১৪টি নাটক প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি নাটক ঈদের সময় নির্মাণ করেছি। সময় লেগেছে দু’মাস। আর ৪টি নাটকের কাজ করেছি অনেক আগে।

অল্প সময়ে এতগুলো নাটক বানালে, এর মান কী ধরে রাখা সম্ভব?

আসলে, এটি নির্ভর করে টিমের উপর। আমি খুব সুন্দর ও গোছানো একটি টিম তৈরি করেছি। এর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আর মানসম্মত নাকি মানহীন, এর বিচার করবে দর্শক। এখন পর্যন্ত আমার কোনো নাটক নিয়ে দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্য পাইনি। আমি মনে করি, দর্শক নেতিবাচক মন্তব্য করলে আমার জন্য ভালো। আমি ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবো।

চারদিকে ‘আশ্রয়’-এর জয়ধ্বনি। নির্মাণের সময় কি বুঝেছিলেন, এটি এমন প্রশংসিত হবে?

প্রশংসিত হওয়ার মূলে থাকে গল্প। ‘আশ্রয়’র গল্পটি অনেক সুন্দর। যা এক নজরে আমার দৃষ্টি কাড়ে। তখনই বুঝেছিলাম, এটি প্রশংসিত হবে। কাজটিও ছিল খুব গোছানো। তাছাড়া অনেকে প্রশ্ন করেছে এক নাটকে এতগুলো অভিনয় শিল্পীকে (মোশাররফ করিম, জাকিয়া বারী মম, তাহসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা) একসঙ্গে করলেন কীভাবে? আসলে এর গল্পটাই ছিল এমন, গল্প শুনে কেউ মুখ ফেরাতে পারেনি। শুটিং চলাকালীন ইউনিটের সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিল।

‘আশ্রয়’ নিয়ে কী আপনার অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল?

হ্যাঁ, আমি নিজে ‘আশ্রয়’র গল্পটা নষ্ট করেছি। একটু সময় নিয়ে কাজটি করলে সিনেমা তৈরি করা যেত। তখন গল্পটি আরও বেশি দর্শকহৃদয়ে নাড়া দিত। মূল ভাবনা ঠিক রেখে, এতে অনেক কিছু যুক্ত করা যেত। নাটকের কাজটি শেষ করার পর মনে হয়েছে, কাজটি ভুল হয়ে গেছে।

শুধু কী ক্যামেরার পেছনেই কাজ করতে চান?

ক্যামেরার পেছনে কাজ করার আনন্দই অন্যরকম। সামনেও আসা হয়েছে ফাহমি ভাইয়ের (ইফতেখার আহমেদ ফাহমি) ‘এসো ভুল করি’ নাটকে সুবাদে। এটি প্রচার হয় দেশ টিভিতে ২০০৯ সালে। এরপর আরও কিছু কাজ করা হয়েছে। ক্যামেরার সামনে আসার আর ইচ্ছে নেই।

শুনলাম, প্রথম নির্মাণে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে?

আমি ৫৭টি মিটিং করে হতাশ হয়েছি। প্রায় ১ বছরের মতো কোনো কাজ পাইনি। অবশেষে আমার বাবা, আমার পাশে এসে দাঁড়ান। আমার প্রথম নাটক ‘ফ্লাশব্যাক’ এর প্রযোজক তিনি। নাটকটি ২০১১ সালে ১৬ ডিসেম্বর এনটিভিতে প্রচার হয়। আমি চাইনি, পরিবারের সাহয্য নিয়ে এগিয়ে যেতে। কিন্তু পরিবারের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছি। এতবার রিজেক্ট হওয়ার পরও আমি হাল ছাড়িনি। বরং হতাশা আমাকে আরও জেদি করে তুলেছে। জেদ করা যায় কিন্তু জেদের ওপর থাকতে সবাই পারে না। আমি জেদের উপর থাকতে পারি।

সিনেমা নির্মাণে আসছেন কবে?

আমি ‘ফ্লপ’ শব্দটা গায়ে লাগাতে চাই না। তাই বুঝে-শুনে বড় পর্দায় আসতে চাই। নিজের মতো করে কাজ করছি। এরই মধ্যে দুটি গল্প আমার হাতে এসেছে, যা দর্শকদের নাড়া দেবে। আশা করি, খুব জলদি সংবাদটি পাবেন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 23 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com