ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন, মতবিরোধ প্রকাশ্যে

প্রিন্ট
ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন, মতবিরোধ প্রকাশ্যে
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।

দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক মতপার্থক্যগুলো গোপনে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে আসলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রকাশ্যে তুলে ধরছে ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের নানা বিষয়ে এখন আরও সরব ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বেশ কঠোর মন্তব্য করে জানান যে, ভারতের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটন কাঙ্ক্ষিত সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণের কারণেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এই নতুন ও কঠোর দৃশ্যমানতার সৃষ্টি হয়েছে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য এখন অন্যতম প্রধান একটি বিরোধের ক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দুই দেশের মধ্যে দুই অঙ্কের বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মকেন্দ্রিক বাণিজ্যনীতি এবং সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপের কৌশল ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর আইনগত সুযোগ তৈরির বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া কৃষি খাত সুরক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমাজকাঠামো ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ফারাকের কারণে দ্রুত কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতীয় পক্ষ।

বাণিজ্যের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ইস্যু নিয়েও ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান থেকে দশকের পর দশক ধরে স্পন্সর করা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘ লড়াইয়ের বিষয়টিকে মার্কিন প্রশাসন যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কাশ্মীর সংকটসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তৃতীয় কোনো দেশের অযাচিত মধ্যস্থতার দাবি কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই মৌলিক বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উদাসীনতা বা কম সহানুভূতিশীল মনোভাব দুই দেশের বন্ধুত্বের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ভারতের এই পরিবর্তিত কূটনৈতিক অবস্থানের পেছনে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ তোলা হয় যে বর্তমান সরকার মার্কিন চাপের মুখে নমনীয় নীতি অনুসরণ করছে, যা দেশের রাজনৈতিক ময়দানে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিবাসন নীতি এবং এইচ-ওয়ানবি ভিসার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে কড়াকড়ি ও ফি বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় পেশাজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প কমই রয়েছে।

Facebook Comments Box

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার standard social-news card।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি দেওয়া sample-এর মতো square HD card তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ভিডিও গ্যালারি প্রিন্ট