রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের তিন সপ্তাহের মাথায় তার ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদ সচিবালয় থেকে আসনটি শূন্য ঘোষণার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে এই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দের দিন ধার্য করা হয়েছে ৮ অক্টোবর। সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা মেনেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন তিনি শপথ গ্রহণ করলে সংবিধানের ৫০ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বরত অবস্থায় কেউ সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না।
এদিকে আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন ও বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৫০ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “রাষ্ট্রপতি তাঁহার কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইলে রাষ্ট্রপতিরূপে তাঁহার কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।”।
সূত্র: দৈনিক এদিন
