দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, সংকট কাটিয়ে ফেরার পথে জনজীবন

প্রিন্ট
দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, সংকট কাটিয়ে ফেরার পথে জনজীবন
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।

টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এলএনজি আমদানির দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, দুটি টার্মিনাল থেকেই বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ির রান্না, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়ে যায় এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে, যার প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। তবে গত শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর শনিবার ভোরে ওই বয়লার থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এটি চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনালটি থেকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, এলএনজি সংকটের কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকেও গত সোমবার থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানো ভিটলের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে খালাস শুরু হওয়ার পর সামিটের টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট, যা শনিবার ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে সামিট আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে মোটামুটি সব খাতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। শুক্রবার বিকেলে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ থাকায় মোট সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল, যা বর্তমানে বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। তবুও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি মেরামত শেষে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।

মঙ্গলবার সরবরাহ নেমে আসে ২০ কোটি ঘনফুটে।

বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত তা ১০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Facebook Comments Box

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার standard social-news card।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি দেওয়া sample-এর মতো square HD card তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ভিডিও গ্যালারি প্রিন্ট