নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রিন্ট
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এই কাঠামো কবে থেকে এবং কতটি ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রিসভা থেকে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয় বলে জানান উপদেষ্টা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সচিব কমিটি ইতিমধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদনের ওপর পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করেছে। বিচার বিভাগের জন্য গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবে, যা পে-স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের সময়সীমা ও ধাপ নির্ধারণ করবে।

ঋণ গ্রহণ প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, ঋণ নেওয়াকে তিনি কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেন না। তার মতে, ঋণ নিয়ে অর্থনীতিতে গুণপ্রভাব তৈরি করা গেলে তা নেতিবাচক নয়। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়—বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন, ভবিষ্যতের পরিবেশগত প্রভাব, অর্থের যথাযথ মূল্য এবং তাৎক্ষণিক গুণপ্রভাব—বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজেট ঘাটতি, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় করের হার এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে ব্যয়ের সক্ষমতা যাচাই করাই মূল বিষয়।

বেতন বৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যয় বা বেতন তুলনার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয়কে একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তিনি ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’ নীতি অনুসরণের ওপর জোর দেন। এছাড়া বেতন বাড়ালে দুর্নীতি কমবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার এমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না; বরং তাদের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বর্তমানে সরকারি মূল বেতনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর সঙ্গে পেনশনভোগীসহ অন্যান্যদের যুক্ত করলে এই সংখ্যা ২০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছায়। উপদেষ্টা জানান, মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বড় মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি মাথায় রেখেই পে-স্কেলের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর হবে নাকি ধাপে ধাপে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলে কি না এটা মূল প্রশ্ন নয়।

Facebook Comments Box

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার standard social-news card।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি দেওয়া sample-এর মতো square HD card তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ভিডিও গ্যালারি প্রিন্ট