নগর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পয়ঃনিষ্কাশন এবং আবাসন খাতের উন্নয়নে চীনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তি এলাকায় আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়ে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এছাড়া ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁর চীন সফরের সময় এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে। তিনি অবকাঠামো ও বন্দর ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এই প্ল্যান্টের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন বা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে চীন আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের প্রতিনিধিরা নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সূত্র: রাইজিংবিডি
