পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক ৩২৭ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এর আগের দিন অর্থাৎ প্রথম দিনে ৫ হাজার ৫৩২ জন গ্রাহক ২৫৪ কোটি টাকা তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৪২৮ জন গ্রাহক ব্যাংকটি থেকে ৫৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করলেন।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার আগে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই সময় প্রায় ৭৪ হাজার আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে সারা দেশে একীভূত হওয়া এই ব্যাংকগুলোর মোট ৭৬১টি শাখা রয়েছে, যেখান থেকে গ্রাহকরা তাদের পাওনা বুঝে নিচ্ছেন।
আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো গ্রাহক যাতে অর্থ না পেয়ে ফিরে না যান, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। আমানত ফেরতের পাশাপাশি বর্তমানে ব্যাংকটিতে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যা দীর্ঘদিন স্থবির থাকা ব্যাংকটির কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করছে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটাপন্ন পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের (এস আলম) নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। যদিও একীভূত করা হয়েছে, তবুও বর্তমানে ব্যাংকটির শাখাগুলো এখনো পৃথকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনে ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক ৩২৭ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এ উদ্যোগ নেয়।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
