প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের দীর্ঘ ১৫ বছরের নেতৃত্ব শেষে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৫১ বছর বয়সী জন টার্নাস এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টিম কুক সরাসরি তাকে এই পদে মনোনীত করেছেন এবং তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কুকের উত্তরসূরি হিসেবে টার্নাসের নাম ঘোষণার পর থেকেই তাকে নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আগ্রহ তুঙ্গে। বিশেষ করে অ্যাপলের পণ্যপ্রেমীদের কাছে তিনি খুব একটা পরিচিত মুখ না হলেও, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তার দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। টিম কুক তার বিদায়ী বার্তায় কর্মীদের জানিয়েছেন, টার্নাসের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে পেরে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। পৃথিবী বদলে দেওয়ার মতো পণ্য তৈরিতে টার্নাসের মতো গভীর বোঝাপড়া খুব কম মানুষেরই আছে।
টার্নাসের জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে অ্যাপলের সাথে। ২০০১ সালে পণ্য নকশা দলে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। এর আগে তিনি ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে কাজ করেছিলেন। ২০১৩ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২১ সালে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। টিম কুকের চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের ছোট টার্নাসকে অ্যাপলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি ঘটনা বেশ আলোচিত। ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, অ্যাপলে যোগ দেওয়ার প্রথম বছরেই তিনি সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়ে স্ক্রুর খাঁজ গুনছিলেন। সেখানে তিনি দেখেন, একটি যন্ত্রাংশে ৩৫টি খাঁজ রয়েছে, অথচ থাকার কথা ২৫টি। এই ছোটখাটো বিষয়ের প্রতি মনোযোগই তাকে অ্যাপলের কাজের দর্শনের সাথে একাত্ম করেছে। তার মতে, আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রশ্ন করার বিনয় থাকা জরুরি।
অ্যাপলের হার্ডওয়্যার উন্নয়নে টার্নাসের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ এবং ভিশন প্রোর মতো উদ্ভাবনী পণ্য বাজারে আনার পেছনে তিনি কাজ করেছেন। এছাড়া ইন্টেল চিপ থেকে নিজস্ব অ্যাপল সিলিকন চিপে রূপান্তরের বড় চ্যালেঞ্জটিও তিনি সামলেছেন। সম্প্রতি ম্যাকবুক নিও তৈরির ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততা ছিল, যেখানে খরচ কমাতে আইফোনের চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। টমস গাইডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, অ্যাপল কখনোই নিম্নমানের পণ্য বাজারে আনতে চায় না।
স্টিভ জবসের কাজের ধরনকেও তিনি সবসময় অনুসরণ করেছেন। জবসের খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলতেন, ব্যবহারকারী দেখুক বা না দেখুক, পণ্যের প্রতিটি অংশ নিখুঁত হওয়াটাই অ্যাপলের মূল দর্শন। এখন সিইও হিসেবে এই দর্শন তিনি কতটা ধরে রাখতে পারেন, সেটাই হবে তার বড় পরীক্ষা।
বর্তমানে অ্যাপলকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নতুন আইফোনের উন্মোচন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করা তার প্রধান লক্ষ্য। আগামী সপ্তাহেই নতুন আইফোন বাজারে আসছে। এছাড়া গুগলের জেমিনি প্রযুক্তির সহায়তায় সিরি-র নতুন ও উন্নত সংস্করণ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ভিশন প্রোর ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণেও টার্নাসকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ব্যক্তিগত জীবনে টার্নাস অনেকটা আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতার দলের সদস্য ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের প্রজেক্ট হিসেবে তিনি এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন, যা শারীরিক প্রতিবন্ধীরা মাথা নেড়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। রাজনৈতিক অনুদানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর চাক শুমারকে ২ হাজার ৯০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, এর বাইরেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। পাশাপাশি, হাইকোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে সাফল্যের পর বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে জন টার্নাস কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারেন, তা এখন দেখার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মক্কা প্রতিরক্ষা জোট: ভারতীয় গণমাধ্যমে যত বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবার তার জায়গায় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন এমন একজন, যাকে অ্যাপলের পণ্যপ্রেমীদের বাইরের কেউই খুব একটা চেনেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বিল্ট-ইন ভার্চুয়াল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-র নতুন ও উন্নত ভার্সন চালুর পরিকল্পনাও করছে অ্যাপল। চাকরির আরও তথ্য: কলেজ শেষ করার পর সেটিই ছিল তার দ্বিতীয় চাকরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যেসব শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আগে আলোচনায় এসেছিল, তাদের মধ্যে টার্নাসই ছিলেন তুলনামূলকভাবে কম বয়সী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অ্যাপলের নেতৃত্বের ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা
