ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩১৮ কোটি টাকার মূসক (ভ্যাট) ফাঁকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা থেকে রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও ফাঁকির পরিমাণ
গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি নিবারক দল জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের প্রাঙ্গণে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, হিসাবসংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশ শেষে অধিদপ্তর নিশ্চিত হয়েছে যে, ব্যাটারি উৎপাদন ও বিক্রির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা মূসক ফাঁকি দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে এনবিআরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
- উন্মোচিত এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কোন কোন খাতে বা কী ধরনের হিসাবের মাধ্যমে এই ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে, তার বিস্তারিত বিভাজন দেওয়া হয়নি। ফলে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকাই বর্তমানে উদ্ঘাটিত ভ্যাট ফাঁকির মোট পরিমাণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
- রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এবং কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনবিআর এ ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি ও নিবারক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, কর ফাঁকির মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে চলমান এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজস্ব আদায়ের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। এনবিআরের এই উদ্যোগ দেশের কর ফাঁকি রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রাইজিংবিডি
