কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে এ কেমন শহীদ মিনার ?

Print

বাংলাপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯৫৭ সালে শিল্পী হামিদুর রহমানের পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী মেডিকেল হোস্টেল প্রাঙ্গণের একাংশে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। নকশায় মিনারের মূল অংশে ছিল মঞ্চের ওপর দাঁড়ানো মা ও তার শহীদ সন্তানের প্রতীক হিসেবে অর্ধবৃত্তাকার স্তম্ভের পরিকল্পনা। স্তম্ভের গায়ে হলুদ ও গাঢ় নীল কাচের অসংখ্য চোখের প্রতীক খোদাই করে বসানোর কথা ছিল, যেগুলি থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো মিনার-চত্বরে বর্ণালীর এফেক্ট তৈরি করবে। এছাড়া মিনার-স্থাপত্যের সামনে বাংলা বর্ণমালায় গাঁথা একটি পূর্ণাঙ্গ রেলিং তৈরি ও মিনার চত্বরে দুই বিপরীত শক্তির প্রতীক হিসেবে রক্তমাখা পায়ের ও কালো রঙের পায়ের ছাপ আঁকাও মূল পরিকল্পনায় ছিল। পাশে তৈরি হওয়ার কথা ছিল জাদুঘর, পাঠাগার ও সংগ্রাম-বিষয়ক দীর্ঘ দেয়ালচিত্র (ম্যুরাল)।

শহীদ মিনার নির্মাণের সময় এ বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার কি না বা এ বিষয়ে আইনে বাধ্যবাধকতা আছে কি না জানতে চাইলে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমরা আজকে যা করছি তা কিন্তু আগামীতে ইতিহাসের একটা অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা আসলে কতোটা সচেতন আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়ে, সেটা ভাবার সময় এসেছে। শহীদ মিনারের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও স্পিরিট আছে। আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো- এসব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমাদের সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলার এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার ও অংশগ্রহণ করার সুযোগ লাভ করতে পারেন।’

সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তুরিন বলেন, ‘বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বা তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতি নিদর্শন, বস্তু বা স্থানকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তবে এ ধরনের স্থাপত্য শহীদ মিনারের ‘স্পিরিট’কে স্তিমিত করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। আর স্থপতিরা বলছেন, এই ডিজাইনে যে ফর্ম ব্যবহার হয়েছে তা বেখাপ্পা, সামঞ্জস্যহীন। তবে যথাযথভাবে যে কোনও স্মৃতিসৌধ বানানো যেতে পারে।

আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শহীদ মিনারের একটি অর্থপূর্ণ কাঠামো প্রস্তুত করা, যেন দেখলেই চেনা যায় এটা শহীদ মিনার। একনজরেই যেন যে কেউ বুঝতে পারেন এটা ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত।

-বাংলামেইল

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 149 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ