ঢাকা-বেইজিং ঘনিষ্ঠতা, উদ্বিগ্ন দিল্লি

Print

ঢাকা-বেইজিং ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই বাড়ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি থেকে শেয়ার বাজার- সর্বত্রই ‘কৌশলগত অংশীদার’ চীনের সরব উপস্থিতি। বাণিজ্য-বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বেইজিং অনেক এগিয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে যেন কোনো রকম টানাপড়েন না হয় তাতে সচেষ্ট ঢাকা। তাদের মতে, ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।

কিন্তু বেইজিং বা দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কিভাবে মূল্যায়ন করে? প্রতিযোগিতায় থাকা দেশ দুটির গণমাধ্যমে প্রায়ই এ নিয়ে নানা খবর ও মূল্যায়ন থাকে। সেখানে স্বস্তির চেয়ে উদ্বেগের বিষয়টিই বেশি আলোচিত হয়। নয়াদিল্লি ডেটলাইনে প্রকাশিত সামপ্রতিক সময়ের রিপোর্টগুলোতে ঘুরে ফিরে যে বার্তা দেয়া হচ্ছে- তা হলো ঢাকা-বেইজিং ঘনিষ্ঠতায় চরম অস্বস্তি বা উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লি। এ উদ্বেগের পেছনে যুক্তি বা দালিলিক প্রমাণও দেখাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের সংবাদ বিষয়ক ওয়েব সাইট স্ক্রল. ইন-এ প্রকাশিত শোয়েব দানিয়েলের এক নিবন্ধে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে চীনের উপস্থিতির বিষয়টি বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিবন্ধটির সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে। তাতে বলা হয়েছে- এক দশক আগে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির দায়ে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের বছরে বিএনপি নেত্রীর দণ্ড এবং জেলে পাঠানোর কারণে নির্বাচনে তিনি এবং তার দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে গেছে! যদি সত্যি সত্যি খালেদা জিয়া ও তার দল আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তবে বাংলাদেশের জরাগ্রস্ত গণতন্ত্র আরো খর্ব হতে পারে। তবে এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এমনটা দাবি করে বলা হয়েছে- বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রয়েছে ভারত। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বর্জন করে। সহিংসতাপূর্ণ ওই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে ভোটাভুটিই হয়নি। ফলে এ নির্বাচন প্রহসনের চেয়ে বেশি কিছু ছিল না মন্তব্য করে নিবন্ধে বলা হয়- তারপরও শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেয় নয়াদিল্লি। আর এ কারণে নতুন সরকারের বৈধতার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মৃদু সমালোচনাও চাপা পড়ে যায়। নিবন্ধে বাংলাদেশে চীন ও ভারতের সহযোগিতাকে তুলে আনা হয়েছে এভাবে- চীন বাংলাদেশকে ২৪ কোটি ডলারের ঋণ দিয়েছে। সেই তুলনায় ভারত অনেক পিছিয়ে। তাছাড়া নয়াদিল্লির উদ্বেগের বড় কারণ হচ্ছে, চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের নৌ-বাহিনীর মধ্যে যৌথ অনুশীলনও রয়েছে। নিবন্ধটির সমাপ্তি টানা হয়েছে এইবলে- নেপাল ও মালদ্বীপ এখন চীনের অক্ষের দিকে ঝুঁকছে। ফলে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার পরও ঢাকাকে বন্ধুপ্রতীম হিসাবে পেতে নয়াদিল্লি উন্মুখ হয়ে থাকবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 150 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ