দেশি – বিদেশি কোচের পার্থক্য

Print

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ নিয়ে চলা নাটক যেন থামছেই না। এ যেন হিন্দি সিরিয়ালের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলছে তো চলছেই, শেষ পর্ব কবে হবে কেউ জানেনা! সোমবারই যেন এমনই নাটকের নতুন পর্ব দেখাল বিসিবি। এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে মঞ্চে নামানো হয়েছে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকে। টাইগারদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব এখন এই ক্যারিবিয়ানের ঘাড়ে।

দেশি কোচ সুজনের কার্যকারিতার ঢের পরীক্ষা নিরীক্ষা নেওয়া হয়ে গেছে। এবার তাই বিদেশি কোচের দ্বারস্থ হওয়া। ওয়ালশ কি পারবেন দিশেহারা টাইগারদের পথের সন্ধান দিতে? সুজনের ব্যর্থতা এবং ওয়ালশকে দলের দায়িত্ব দেওয়ার পর দেশি ও বিদেশি কোচের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায় সেটাও এক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলে দেশি কোচদের সামর্থে যেমন ঘাটতি রয়েছে তেমনি রয়েছে অভিজ্ঞতা আর পেশাদারিত্বের অভাব। অভিজ্ঞতার সাগরে গা ডোবানোর প্রশ্নে সুজন যে হাঁটু জলও মাড়ায়নি এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রতিযোগিতায় ঠাঁসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে দেশি কোচ কতটা কার্যকরী হবে সেটা আগেই ভাবা উচিত ছিল বিসিবির। বাংলাদেশের কোনো কোচেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। যা আছে সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ। আর ঘরোয়া ক্রিকেটের পাঠশালায় সুজন প্রথম সারির ছাত্র।

কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের যেমন বেহাল দশা তেমনি বেহাল দশা কোচদের। দেশি কোচদের অধীনে চলা ঘরোয়া ক্রিকেট সঠিক পথে নেই। লিগ গুলোতে ভালো করা যাকেই জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সেই ব্যর্থ হচ্ছেন। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, কোচ হিসেবে একই অবস্থা হয়েছে সুজনেরও। আর আমাদের কোচদের মধ্যে পেশাদারী মনোভাবের বড্ড ঘাটতি রয়েছে। বাইরের কোচদের সঙ্গে আমাদের কোচদের পার্থক্য হওয়ার এটা বড় একটা কারণ।

পেশাদারিত্বের বড় নজির ক’দিন আগেই হাথুরুসিংহে দেখিয়ে গেছেন। শুধু দেশ প্রেমের টানে তিনি শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেননি। বরং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে যোগ দেন হাথুরু। যদিও নিজ দেশে এর আগে কাজ করার সময় অপমানজনক ভাবেই বিদায় নিতে হয়েছিল হাথুরুকে। তারপর অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ঘুরে আবার নিজ দেশে ফিরলেন, তাও আবার প্রধান কোচ হয়ে। লঙ্কান ক্রিকেটের সঙ্গে পুরনো ঝামেলা মাথায় রাখেননি তিনি। বরং দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সিরিজেই দলকে এনে দিলেন সাফল্য। হাথুরু নামক সোনার কাঠির ছোঁয়ায় আমূলে বদলে গেলো শ্রীলঙ্কা দল, এটাই পেশাদারিত্ব।

পেশাদারিত্বের মতো অভিজ্ঞতাও একটা বড় নিয়ামক। প্রতিটা দেশের প্রতিটা মহাদেশের প্রতিটা ফরম্যাটের এবং লিগগুলোতে খেলার ধরন খেলোয়াড়ের মান এবং সামগ্রিক ‘কন্ডিশন’ থাকে ভিন্ন ভিন্ন। তাই যারা বিশ্বের নানা প্রান্তে আলাদা আলাদা দলের সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা কোচিং ক্যারিয়ারে সাফল্য পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের কোচদের দৌড় কোন পর্যন্ত তা সবারই জানা।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 215 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ