নওগাঁয় এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি

Print

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁয় এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে লোকজনের মাঝে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধূর স্বামীর পরিবার অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করলেও এলাকাবাসী ও গৃহবধূর পিতার বাড়ির স্বজনরা গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে আলোচনা-সমালোচনা করছে। তবে ঘটনা যেটাই হোক না কেন গৃহবধূর মৃতদেহ বাড়িতেই রেখে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত দিনভর স্বামী ও পিতা পক্ষের লোকজন দফায় দফায় আপোষ মিমাংসায় বসেও আপোষ না হওয়ায় অবশেষে থানায় সংবাদ দিলে থানা ও নওহাটা ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে। এঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কৃষœপুর গ্রামে।
স্থানিয় সুত্র জানায়, কৃষœপুর গ্রামের আঃ মান্নানের ছেলে নাসির উদ্দীন (৩৮) এর সাথে প্রায় ১৪ বছর পূর্বে মহাদেবপুর উপজেলার খোর্দ্দনারায়নপুর (কুমির পুকুর) গ্রামের আকবর আলী খোকার মেয়ে পারুল আক্তার এর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নুসরাত জাহান নদী (১২) নামের এক মেয়ে ও আছে। এরিমাঝে নাসির উদ্দীন একই গ্রামের ময়নুল হকের যুবতী মেয়ে শারমিন আক্তার শিলা (১৮) এর সাথে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার এক পর্যায়ে গত ৬ মাস পূর্বে পরক্রিয়া প্রেমিকা শারমিন আক্তার শিলাকে বিয়ে করেন নাসির উদ্দীন। পরক্রিয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই পারুল আক্তার ও নাসির উদ্দীনের মাঝে প্রায় ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল।
হঠাৎ মঙ্গলবার সকালে নাসির ও তার পরিবারের লোকজন প্রতিবেশী ও পরিুলের পিতার বাড়ির লোকজনকে জানায়, পারুল আক্তার অসুস্থ্য হয়ে মারাগেছে। সংবাদ পেয়ে সকালেই পারুলের পিতার বাড়ির লোকজন কৃষœপুর গ্রামে পৌছে মেয়ের মৃতদেহ দেখে তাদের মাঝে সন্দেহর সৃষ্টি হয়।
স্থানিয় গোপন একটি সুত্র জানায়, গৃহবধূ পারুলের মৃতদেহ রেখেই উভয় পরিবারের লোকজন স্থানিয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ দফায় দফায় আপোষ-মিমাংসার জন্য বসলেও তা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে খবর পেয়ে বিকাল ৪ টারদিকে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও নওহাটা ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে।
ঘটনাটি জানার পর সরজমিনে ঘটনাস্থল কৃষœপুর গ্রামে বিকাল ৫ টায় পৌছে ঘটনাস্থলে শতশত নারী-পুরুষ লোকজনের ভীর লক্ষা করা গেছে। এবং নিহতের স্বামী নাসির উদ্দীনকে মাঝে নিয়ে দুই পুলিশ বসে রয়েছে। নাসির উদ্দীনের বাড়ির লোকজন পারুল অসুস্থ্য হয়ে মারা গেছে বলে প্রতিবেদককে জানালেও এসময় পারুল ও নাসিরের একমাত্র মেয়ে নুসরাত জাহান নদী (১২) এর সাথে কথা বলা হলে সে প্রথমে কোন কিছুই বলতে না চাইলেও এক পর্যায়ে কান্নারত অবস্থায় জানায়, আমার বাবা গ্রামে আরেকটা বিয়ে করার পর থেকে বাবা ও মা প্রায় ঝগড়া করত। কয়েক দিন আগেও বাবা আমার মাকে মারপিট করেছে জানিয়ে সে আরো বলেন, সোমবার রাতের খাবার খেয়ে আমি পাশের্^র বাড়িতে গিয়ে ঘুমেয়েছিলাম, রাতে আমাদের ঘড়ে আমার বাবা ও মা ঘুমে ছিল আমি আর কিছুই জানিনা বলেও সে জানায়।
স্বামী ও স্ত্রী একই ঘড়ে ঘুমিয়ে থাকলেও মঙ্গলবার সকাল ৭ টারদিকে নাসির প্রতিবেশীদের জানায় যে তার স্ত্রী পারুল আক্তার অসুস্থ্য হয়ে মারাগেছে। এখন পারুল আক্তারের পিতার বাড়িতে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানিয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নাসির বেশ কয়েক মাস পূর্বে স্ত্রীকে না জানিয়েই প্রতিবেশী একই গ্রামের এক যুবতীকে বিয়ে করার পর থেকেই নাসির ও তার প্রথম স্ত্রী পারুল আক্তারের মাঝে দন্দ লেগেই ছিল। আর এজন্যই পারুলকে রাতের কোন এক সময় বালিশ চাপাদিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ঘটনাস্থলে জরো হওয়া লোকজনের মাঝে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে।
এব্যাপারে নওহাটা পুলিশ ফাড়ির এস আই রইচ উদ্দীন প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোট শেষে গৃহবধূর মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তর রিপোট হাতে পেলে অসুস্থ্য হয়ে মারাগেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 176 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ