প্রশ্ন ফাঁসে মন্ত্রী এমপিরা জড়িত!

Print

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ভিআইপিদের ব্যবহৃত নম্বরসহ ৩০০ মোবাইল ও টেলিফোন নম্বর শনাক্ত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জড়িতদের মধ্যে রয়েছে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক, পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং মেডিকেল-প্রকৌশলসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে তাদের ‘ভিআইপি’ বাবা-মায়ের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন। শনাক্ত এসব নম্বর ধরে পুলিশ এখন গ্রেফতার অভিযানে নেমেছে। তবে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের সব প্রচেষ্টাই যেন ব্যর্থ হচ্ছে।

রোববার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) নির্দেশনা মতো পরীক্ষার আগে আধা ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হলেও এ দিন অনুষ্ঠিত আইসিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফেসবুক-মেসেঞ্জারে পাওয়া গেছে।

বিকেলে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটি’র প্রথম সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কমিটির প্রধান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর সভায় সভাপতিত্ব করেন।

কমিটির সভায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত আগের পরীক্ষাগুলো বাতিল করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সভায় বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর বিষয়ে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব মো. আলমগীর।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের দায়িত্ব হলো প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা। এ পর্যন্ত ৩০০ টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে তা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক ও টেলিফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছেন। এই নম্বরধারীদের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী, যারা বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছেন। সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও আছেন।’

সভা শেষে এতে অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওই ফোন নম্বরগুলোর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নম্বরও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এসব ভিআইপি নম্বর কেন প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খোঁজ নিচ্ছেন বলে সভায় অংশ নেওয়া তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের সন্তানরা বাবা-মায়ের অগোচরে এসব মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকতে পারে।

অভিযোগে জড়িতদের মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘এসব নম্বর ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু ব্লকও করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এরই মধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও গ্রেফতার করা হবে। শুধু গ্রেফতারই নয়, এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর আরও বলেন, এসব টেলিফোন নম্বর যাদের কাছেই পাওয়া যাবে, তিনি যে-ই হোন না কেন, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক- সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাবলিক পরীক্ষা আইন এবং সাইবার অপরাধ আইনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনও হতে পারে, তারা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, সেখান থেকেও তারা বহিষ্কার হবেন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 228 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ