ফারমার্স ব্যাংক বাঁচাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ

Print
ফারমার্স ব্যাংককে নতুনভাবে দাঁড় করাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর মূলধন জোগানে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকে করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর। এই বৈঠকে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলাদেশ (আইসিবি), রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংককে সংকট উত্তরণে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার মূলধন যোগান দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক ও এক আর্থিকপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আইসিবি একাই যোগান দেবে ৪৫০ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংক বিভিন্ন পরিমাণে মূলধন হিসেবে যোগান দেবে। এ অর্থ যোগ হলে ফারমার্স ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া আর্থিক ভিত শক্তিশালী করতে ৫০০ কোটি টাকার বন্ডও ছাড়বে ব্যাংকটি। ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত এখন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে ফারমার্স ব্যাংক আইসিবি থেকে বিনিয়োগ মূলধন হিসেবে নিতে আগ্রহী হলেও সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক থেকে অর্থ মূলধন হিসেবে না নিয়ে ঋণ হিসেবে পেতে চায়। তবে ব্যাংকগুলো তাতে রাজি নয়। ব্যাংকগুলো চায় মূলধন হিসেবে অর্থ নিয়ে ফারমার্স ব্যাংক পরিচালনায় তাদের প্রতিনিধিকে পাঠাতে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও এমনটি চাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারমার্স ব্যাংকের উপদেষ্টা প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, ব্যাংকটিকে নতুনভাবে দাঁড় করাতে তারল্য দরকার। সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে ১১শ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাত পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সমস্যা থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ প্রজন্মের এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশই খেলাপি। এর মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ২৩৮ কোটি টাকা। শীর্ষ ১০ খেলাপি গ্রাহকের কাছেই ব্যাংকটির পাওনা ১৩৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ ব্যাংকটি এখন ৭৫ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।
ফারমার্স ব্যাংক ঘিরে বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে। সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফারমার্স ব্যাংকের নানা অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অস্বীকার করে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। এতো বড় অসত্য কথার সম্মুখীন আমার ৭৭ বছর বয়সের মধ্যে কখনো হইনি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যাতে এসব তথ্য প্রকাশ না পায় এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে অনুশাসন চেয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
এদিকে মূলধন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে গতকাল বৈঠক চলাকালে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। বেলা ১১টার পর এ বৈঠক শুরু হয়। এ দিন পূর্ব কোনো নির্দেশনা ছাড়াই সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯ ব্যাংকের একটি ফারমার্স ব্যাংক। কার্যক্রমের শুরু থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতি ও আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে জড়িয়ে পড়ে ফারমার্স ব্যাংক। পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগিতে চলে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ফলে বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ। তারল্য সংকটের পাশাপাশি মূলধন ঘাটতিতে দুরবস্থায় পড়েছে ব্যাংকটি। আগ্রাসী ঋণ বিতরণের ফলে তহবিল সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। এ জন্য আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ যেমন করতে পারছে না, অন্যদিকে, নিয়ম মতো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৭ নভেম্বর পদত্যাগ করেন ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিশতী। ব্যাংকের এমডি একেএম শামীমকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 175 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ