ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, কাউন্টি খেলুন

Print

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা দুই দিন পরেই শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) হয়ে নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলতে নামবেন। শ্রীলঙ্কায় পাড়ি দেয়ার আগে দুবাইয়ের মাঠ কাঁপিয়ে যাবেন বাংলাদেশি তারকারা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই তিন তারকার এক যুগের বেশি সময় ধরে খেলার অভিজ্ঞতা আর স্কিল দেখবে পুরো বিশ্ব। পাকিস্তানি তরুন ক্রিকেটাররা একটু একটু করে পড়বে আমাদের তারকাদের। কিভাবে তারা ট্রেনিং করে, কিভাবে ম্যাচের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে, কিভাবে চাপের মুখে পারফর্ম করে… সব কিছুই শেয়ার হবে পাকিস্তানি তরুনদের সাথে।

যা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের যুগে খুবই স্বাভাবিক চিত্র। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে খেলতে আসা বিদেশি তারকাদের থেকেও বাংলাদেশি তরুনরাও একই সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে টি-টুয়েন্টি লীগ ক্রিকেটারদের স্কিল বাড়াতে খুব একটা সাহায্য করে না।

শুধুই আর্থিক লাভটাই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য। ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্রিকেটার দুই পক্ষই আর্থিক দিক বিবেচনা করেই ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটের দিকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকছে। কিন্তু ক্রিকেটারদের স্কিল ঘষেমেজে ঠিক করার জন্য ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের চেয়ে উত্তম কিছু নেই।

ইংলিশ কাউন্টি একজন ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযুক্ত করার জন্য চমৎকার সুযোগ প্রদান করে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রধান শর্ত হচ্ছে, বিভিন্ন কন্ডিশনে প্রতিটি ক্রিকেটারের চরিত্রের পরীক্ষা করা। কাউন্টি ক্রিকেট যা একজন ক্রিকেটারকে উপহার দিয়ে থাকে।

এক ভালো ক্রিকেটারকে আরও ভালো এবং একজন সেরা ক্রিকেটারকে বিশ্বের সেরাতে পরিণত করতে কাউন্টির ভূমিকা অনেক। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটাররা কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে খুব একটা আগ্রহী নন। এখন আর আগের মত তারকার মেলা বসে না কাউন্টিতে।

বাংলাদেশী দৃষ্টিকোণ থেকে, মমিনুল হক কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজরা যদি প্রথম বিভাগের কাউন্টি দলের সাথে এক মৌসুম খেলে আসে, তাহলে সেটা অত্যন্ত সহায়ক হতে বাধ্য। সাকিব আল হাসান এক মৌসুম কাউন্টি খেলায় নিজের ক্রিকেটে আমুল পরিবর্তন এনেছেন।

২০০৯-১০ মৌসুম থেকেই সাকিব তিন ফরম্যাটে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারে পরিনত হয়েছেন, এক মৌসুমের কাউন্টি ক্রিকেট থেকে এতটাই শিখেছিলেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীল হতে শেখায়। সেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কাজ কর্মও নিজেকে করতে হয়, যা একজন ক্রিকেটারকে পরিপূর্ণ মানুষে পরিনত করে।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ দিলে কাউন্টি দল গুলোও উপকৃত হবে। উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই। সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা পাকা করার আগেই ইংলিশ কাউন্টিতে সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৯-১০ সালে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে দারুন পারফর্ম করেছেন তিনি।

সাকিব যোগ দেয়ার আগের বছরটি কাউন্টি দল ওরচেস্টারশায়ারের জন্য দুঃস্বপ্নের বছর ছিল। পুরো মৌসুমে একটি ম্যাচও জিততে পারে নি দলটি, যার কারনে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে পড়ে একসময় ইমরান খান, ইয়ান বোথাম ও কপিল দেবদের দলটি।

ভাগ্য বদলের জন্য চমকপ্রদ কিছু দরকার ছিল। ইমরান, বোথামদের মতই চমক দেখিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ডার্বিশেয়ারের বিপক্ষে নিজের প্রথম কাউন্টি ম্যাচেই ৯০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আর ৪০ ওভারের ম্যাচের সূচনা করেন ইউনিকর্ণের বিপক্ষে আগ্রাসী ৭২ রানের ইনিংসের মাধ্যমে।

এক মৌসুমে আটটি প্রথম ম্যাচ খেলে প্রায় চারশর মত রান করেন সাকিব। পাঁচটি সীমিত ওভারর ম্যাচ খেলে দুইশর মত রান করেন তিনি। একজন তরুন বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সম্পূর্ণ অচেনা কন্ডিশনে এমন পারফর্মেন্স ঈর্ষা জাগাতে বাধ্য।

বল হাতে সাকিব ছিলেন বেশি ভয়ঙ্কর। ডার্বিশেয়ারের বিপক্ষে ৯৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। গ্লুচেস্টারশেয়ারের বিপক্ষে খেলেই প্রথমবারের মত পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি। সাকিবের ১০২ রান ৮ উইকেট সেই মৌসুমে ওরচেস্টারশায়ারের সেরা বোলিং ফিগার।

মিডেলসেক্সের বিপক্ষে সাকিব মাত্র ২৩ রান খরচায় ৭ উইকেট তুলে নেন। সেই মৌসুমে ওয়ানডেতে গ্লোমরগানের বিপক্ষে ম্যাচে ৩২ রানে চার উইকেট নেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আট ম্যাচে ৩৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এক মৌসুমে পাঁচটি সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলেছিলেন, এর মধ্যে নয় উইকেট নিয়েছেন সাকিব।

এক মৌসুমেই কাউন্টি দলটির ভাগ্য বদলে দেয় এক সাকিবের হাত ধরেই। গ্লোমরগান ও ডার্বিশেয়ারের বিপক্ষে সাকিবের পারফর্মেন্সে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওরচেস্টারশায়ার, যা দলটিকে ডিভিশন একে পৌঁছে দেয়। এর পর থেকে সাকিব আল হাসান ইংল্যান্ড গিয়েছেন, তবে শুধুই টি-টুয়েন্টির জন্য। তামিম ইকবাল, মুস্তাফিজুর রহমানও তাই করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশে কাউন্টি ক্রিকেটে সফল হওয়ার মত যোগ্য ক্রিকেটার রয়েছে। মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকাররা কাউন্টিতে ভালো করার যোগ্যতা রাখেন। ইংলিশ কাউন্টি গুলোর সুযোগ করে দেয়া আর আমাদের ক্রিকেটারদের ইচ্ছার মিশ্রণ ঘটলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হতে পারতো।

অনেকেই সত্যিকারের আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে সেই কাউন্টিকেই বেছে নিচ্ছে। এদের মধ্যে মিচেল মার্শ, ইশান্ত শর্মা, চেতেশ্বর পূজারা অন্যতম। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে সাফল্য পেতে এখন থেকেই কাউন্টি খেলতে চাচ্ছেন তিনি।

ঘরের মাঠে আইপিএল না খেলে কাউন্টি খেলবেন পূজারা। পূজারার সতীর্থ ইশান্ত শর্মাও এই মৌসুমে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলবেন। বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জন্য বিসর্জন না দিয়ে কাউন্টি খেলুক।

-ক্রিকফ্রেঞ্জি

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 465 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ