সিরাজগঞ্জের সব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন জনগণ

Print
নাসিম আহমেদ: গ্রামবাংলার অবহেলিত জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তৎকালিন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত করেন।
গ্রামবাংলার অবহেলিত জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার লক্ষে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা ও ঔষধি পেয়ে থাকে এই ক্লিনিকের মাধ্যমে।
এরপর ২০০১ সালে বিএনপি তৎকালিন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সারা বাংলাদেশে ১৩৮৪২ টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়াই জন দুর্ভোগ বাড়তে থাকে,গ্রামবাংলার সাধারন জনগণ চিকিৎসাহীনতায় ভোগে দীর্ঘ ৮ বছর বছর।তখন অনেকে চিকিৎসা অভাবে মারা যেতো।
এরপর গ্রাম্য চিকিৎসা ব্যবস্থা কে সচল করতে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সারা বাংলাদেশে সবগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। গ্রামবাংলার হতদারিদ্র জনগণ যেন স্বাস্থ্যহীনতায় না ভোগে এবং বীনা চিকিৎসায় মারা না যায়, তার লক্ষে ক্লিনিক গুলো আধুনিকরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে ২০১১ সালে কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রভাইডার হিসেবে ১৩৮৪২ কে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা ও উন্নতমানের ঔষধ বিনামূল্যে প্রদান করে গ্রামবাংলার স্বাস্থ্য সেবার অনেক উন্নত হয়েছে।
সবকিছু উন্নত হলেও উন্নত হয়নি চিকিৎসকের জীবনযাত্রার মান। স্বল্প বেতন এবং রাজস্ব খ্যাতে এই প্রকল্প টি না যাওয়াই তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০১৩ সালে জাতীয় শহীদ মিনারে আন্দোলন করলে তৎকালিন লাইন ডিরেক্টর ড. মাগদুমা নারগিস তাদের কে রাজস্ব করণের মৌখিক ভাবে আশ্বাস প্রদান করে বিদায় করে দেয়।
এরপর স্বাস্থ্য উপ-সচিব আবুল কাসেমের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তাদের কে জানানো হয় কমিউনিটি ক্লিনিক জাতীয়করণের নীতিগত সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই চিঠি আজো বাস্তবায়ন হয়নি।
কমিউনিটি ক্লিনিক জাতীয়করণের লক্ষে এবার চিকিৎসকরা চলতি বছরের ২৭ শে জানুয়ারি থেকে ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হেল্থ কেয়ারের প্রভাইডার বৃন্দ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের দাবি না মানায় পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে একটানা আমরণ অনশন শুরু করে।
এতে সাধারন জনগণের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা হুমকির মুখে, বঞ্চিত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা থেকে।
তিয়রহাটী গ্রামের হতদারিদ্র নাসির সরদার ধানের চারা লাগাতে আহত হয় তাৎক্ষণিক ভাবে চিকিৎসার জন্য খাসচর কমিউনিটি ক্লিনিকে চলে যায়,ক্লিনিক বন্ধ থাকায় তার মনে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়।তিনি জানান কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা নিতাম এখন তাও বন্ধ হয়ে গেলো আমরা সাধারন জনগণ এখন কোথায় যাবো।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 169 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ