আম্মু আমাকে আর ফোন দিওনা, ট্রেন চলে আসছে

Print

শাকিব খান (১৭)। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক মো. শরফুউদ্দিনের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে শাকিব দ্বিতীয়। পড়াশোনা করে বড় হয়ে একজন কৃষি অফিসার হবে সেই প্রত্যয় নিয়েই রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিল। তার স্বপ্ন ও পরিবারের স্বপ্ন আজ কোন এক অজানা ঘাতক ধুলিসাৎ করে দিল। মা পারুল বেগমের সাথে সর্বশেষ কথা হয় গত শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে। তখনও মায়ের মনে কোন আছরও কাটেনি যে এটাই হবে তাঁর সাথে শেষ কথা। সেদিন মাকে শুধু কল করে বলেছিল, “আম্মু ট্রেন চলে আসছে, আমাকে আর কল দিওনা আমি ট্রেনে উঠব। ট্রেন থেকে নেমে তারপর কল দিচ্ছি।” এই কথাগুলো বলছিলেন, নিহত শাকিবের মাতা স্কুল শিক্ষিকা পারুল বেগম।

তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানালেন, এটাই যে শাকিবের শেষ কথা হবে তা মা হিসেবে টেরও পেলাম না। কোন অজানা ঘাতক তাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলল। কি অপরাধ করেছিল আমার ছেলেটি। ছেলে হারানোর শোক কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পারুল।

নিহত শাকিবের বাবা শরফুদ্দিন জানালেন, আরেক তথ্য। তিনি জানান, গত ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আকাশ গাজী ও মুন্না গাজী তাদের বাড়িতে এসে ছেলেকে এক মাসের মধ্যে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়েছিল। কি কারণে ভয় দেখিয়ে গিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফেসবুকে নরসিংদীর স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ছবির নিচে বাজে কমেন্টস করার জেরেই বাড়িতে এসে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। তাদের কথা মতেই এক মাসের মাথায় শাকিবকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্দেহ আকাশ গাজী ও মুন্না গাজীরাই তাকে হত্যা করেছে।

নিহত শাকিবের বাবা শাকিবের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় সেদিন রাতেই যোগাযোগ করেন হোস্টেলে থাকা সকল বন্ধুদের সাথে। শাকিব ঢাকা হোস্টেলে পৌঁছায়নি এটা জানার পর এক অজানা শঙ্কায় পুরো রাত কেটে যায়।

রবিবার সকালে পলাশ থানার পুলিশকে অবহিত করলে রেলওয়ে থানায় (জিআরপি) খোঁজ নিতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গেই নরসিংদী রেলওয়েতে যোগাযোগ করে কোন খোঁজ না পেয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে নিশ্চিত হন শাকিব ঢাকায় এসেছে তবে জীবিত নয় রক্তাক্ত মৃত লাশ হয়ে। গত সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা শাকিবের লাশ সনাক্ত করেন।

জিআরপি পুলিশ সোমবারই সাকিবের ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। শাকিবের বাবা শরফুদ্দিন জানান, আমার ছেলেকে যারা হুমকি দিয়ে গিয়েছিল তারাই হত্যা করেছে। ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান আকাশ গাজী ও মুন্নাসহ আরো কয়েকজন বাড়িতে এসে সাকিবকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল এলাকার অনেকেই দেখেছে।

এমপির ছবির নীচে কি স্ট্যাটাস দিয়েছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমাদেরকেও স্পস্ট করে বলেনি তারা। শুধু বলে গিয়েছিল ছেলে বাড়িতে যাতে না আসে। আসলে মেরে ফেলব। হুমকির বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করেছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওরা রাজনীতি করে। মানুষ হিসেবে সুবিধার নয়। ভয়ের কারণেই সেদিন থানায় কোন অভিযোগ করিনি। যেই ভয় নিয়ে থানায় যাইনি সেই কাজইতো হয়ে গেল। নির্মমভাবে তাকে হত্যা করেছে। আমি কার কাছে বিচার চাইব বলেই আবারো কান্নায় ভেঙে পড়েন শরফুদ্দিন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছিলেন, শাকিবের শরীরের একাধিক ছুরিকাঘাতের জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 168 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ