বাংলাদেশের হেড কোচ হচ্ছেন কঠোর রিচার্ড পাইবাস

Print

ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি হারার পর পর ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা ভালোভাবেই বুঝেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য একজন কড়া হেডমাস্টারই দরকার। যিনি শক্তহাতে ক্রিকেটারদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। যেমনটা করেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পরপরই বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, ‘খুব দ্রুতই জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ করা হবে।’

বিসিবি প্রেসিডেন্টের সেই ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কোচ নির্ধারণ করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সাবেক কোচ রিচার্ড পাইবাসকেই আবার নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বিসিবি। বোর্ডের একটি বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে এ খবর। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বোর্ডের তরফ থেকে।

রিচার্ড পাইবাস নামটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপরিচিত নয়। ইংলিশ বংশোদ্ভুত দক্ষিণ আফ্রিকার এই কোচ বাংলাদেশ জাতীয় দলেরও কোচ ছিলেন ৪ মাসের জন্য। ২০১২ সালে স্টুয়ার্ট ল বাংলাদেশ দলের কোচের চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর রিচার্ড পাইবাসকে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর বাজে অবস্থা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলায় বিসিবির সঙ্গে তার মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। ৪ মাসেই শেষ হয় তার কোচিং ক্যারিয়ার।

বাংলাদেশের সঙ্গে তিক্ততার ইতিহাস বাদ দিলে পাইবাস কিন্তু ক্রিকেট দুনিয়ায় একজন হাইপ্রোফাইল কোচ হিসেবেই পরিচিত। চোটের কারণে ক্রিকেট ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়ায় তিনি নেমে পড়েছিলেন কোচিংয়ে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনে সেলবোর্ন কলেজের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাইবাস। তাঁর অধীনেই দুর্দান্ত একজন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন সাবেক প্রোটিয়া তারকা মার্ক বাউচার।

১৯৯৫ সালে বোর্ডার ক্রিকেট একাডেমির কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন পাইবাস। এই বোর্ডার একাডেমিরই ছাত্র ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ফাস্ট বোলার মাখায় এনটিনি। বিভিন্ন সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির দলগুলোয় কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন নিয়মিতই। মিডলসেক্স কাউন্টি দলেও কাজ করেছেন পাইবাস। হালের অনেক প্রোটিয়া তারকা ক্রিকেটারেরই ‘গুরু’ এই পাইবাস। ডেল স্টেইন, মরনে মরকেলরা তাঁর হাত ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উঠে এসেছেন।

পাইবাস ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের পরামর্শক হিসেবে ছিলেন। পরে তাঁকে নিয়মিত কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি হলে পাইবাস বরখাস্ত হন। সেই পাকিস্তানের কোচ হিসেবেই তিনি ফিরে আসেন ২০০১ সালে। কিন্তু ভাগ্য এবারও সুপ্রসন্ন হয়নি। ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তান থেকে সব বিদেশি নাগরিককে চলে যাওয়ার নির্দেশ জারি হলে পাইবাসকেও চাকরি ছাড়তে হয়। কিন্তু পাইবাসের পাকিস্তান অধ্যায়ের তখনো বাকি!

২০০২ সালে এই পাইবাসকেই আবার কোচের পদে ফেরায় পাকিস্তান। সেবারও তিনি বেশি দিন থাকতে পারেননি। আইপিএলে কোচ হওয়ারও সুযোগ এসেছিল তাঁর সামনে। কিন্তু ২০০৯ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি অনেক দূর এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই চাকরি পাননি।

হাথুরুসিংহের প্রস্থানের পর এই মুহূর্তে একজন অভিভাবক চরিত্রের কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ, যিনি একই সঙ্গে পারফরম্যান্স আর খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখবেন। সে ক্ষেত্রে পাইবাস কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। আপাতত বিসিবির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কক্ষে তাঁর পুনর্মিলনীটা তো হোক!

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 237 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ