কোথায় হারিয়ে গেল কেনিয়া ক্রিকেট? 

Print

কী দারুণ দলটাই না ছিল কেনিয়া! সত্যিকারের ‘জায়ান্ট কিলার’! দৈত্য বধের দুর্বিনীত সাহসী সৈনিক। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেই যারা হারিয়েছিল ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে যে দলটি শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে স্থান করে নিয়েছিল সেমিফাইনালে। বিশ্বকাপের বাইরে যে দলটি দুবার ভারতকে দিয়েছিল হারের স্বাদ! টেস্ট না খেলা দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌছানো সেই দলটি আজ কোথায়?
ক্রিকেটপ্রেমীদের কারোরই কি মনে হচ্ছে না,
১৯৯৪ সালে নিজ দেশে আয়োজিত আইসিসি ট্রফিতে রানার্সআপ হয়ে বিশ্বকাপে স্থান করে নিয়েছিল কেনিয়া। মরিস ওদুম্বে, স্টিভ টিকোলো, দীপক চুদাসামা, কেনেডি ওটিয়েনো, মার্টিন সুজি, আসিফ করিম কিংবা হিতেশ মোদির মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত এই দলটিকে অনেকেই টেস্ট পরিবারের বাইরের সেরা দল হিসেবে অভিহিত করত। শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ তারা রেখেছিলও। টেস্ট পরিবারের নবীনতম দেশ বাংলাদেশও একটা সময় কেনিয়ার কাছে হেরেছে নিয়মিতভাবেই। যে দলটিকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার দাবি উঠেছিল ক্রিকেট দুনিয়ায়, সেই কেনিয়াই আজ সময়ের ফেরে পরিণত নখদন্তহীন সিংহে। টেস্ট মর্যাদার ব্যাপারে যাদের নিয়ে কথা হচ্ছিল, সে দলটির কাছে এই মুহূর্তে নেই ওয়ানডে মর্যাদাও।
শুধু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবেই যে একটি দেশের সম্ভাবনার ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ বোধ হয় এই কেনিয়াই। কেনিয়ান ক্রিকেটের আজকের দুরবস্থার মূল কারণ দেশটির ক্রিকেট প্রশাসকদের অপরিণামদর্শিতা আর বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড। যে দলটিকে একসময় অত্যন্ত প্রতিভাদীপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই দল এখন তারকাহীন। ভালো খেলোয়াড়ের অভাবে দলটি এখন নির্দিষ্ট মান ধরে রাখতেও অপারগ।
কেনিয়া এই মুহূর্তে খেলছে বিশ্ব ক্রিকেট লিগের একটি নির্দিষ্ট টায়ারে। ওই টায়ারে কেনিয়ার সঙ্গী হল্যান্ড, নামিবিয়া, কানাডা, নেপাল ও উগান্ডার মতো দেশ। এই টায়ারেও কেনিয়া নিজেদের সুনাম অনুযায়ী খেলতে পারছে না। কেনিয়ান ক্রিকেটের এমন করুণ গল্প শোনার মানসিক প্রস্তুতি বোধ হয় ছিল না অনেক ক্রিকেটপ্রেমীরই।
কেনিয়ার সাবেক অধিনায়ক আসিফ করিমের মতে, দেশটির ক্রিকেটের এমন বাজে অবস্থার জন্য দায়ী ক্রিকেট প্রশাসকেরা। তিনি মনে করেন কেনিয়ার ক্রিকেট প্রশাসন কখনোই সুষ্ঠু পরিকল্পনার ধারকাছ দিয়ে হাঁটেনি। দেশটির ক্রিকেটের গভীরতা বাড়াতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি, ‘সুন্দর একটি ভবিষ্যৎকে গলা টিপে মেরে ফেলার এমন উদাহরণ বোধ হয় আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
ওদুম্বে–টিকোলোদের পর কেনিয়ান ক্রিকেটে আর নতুন কোনো তারকা তৈরি হয়নি। কেনিয়ার আজকের অবস্থার মূল কারণ এটিই। আর এটা যে ক্রিকেট প্রশাসকদের দুর্বলতা আর দায়িত্বহীনতার কারণেই হয়েছে, সে কথাও জানাতে ভোলেননি করিম। অদূর ভবিষ্যতেও কেনিয়ান ক্রিকেটের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনাও দেখেন না দেশটির সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমাদের মূল সমস্যা ক্রিকেট অবকাঠামো, আর অবকাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণেই ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণেরও কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ রাতারাতি নিশ্চয়ই কোনো দেশ সংগঠক তৈরি করতে পারে না।’
সূত্র: আইএএনএস।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 7061 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ