ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সুস্থ থাকুন

Print

স্থূলতা বা ওবেসিটি এমন এক দৈহিক অবস্থা, যেখানে শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমা হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। যেমন ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, ব্যাক পেইন, পিত্তথলিতে পাথর, লিভার ও কিডনি সমস্যা, বন্ধ্যত্ব, ক্যানসার ইত্যাদি। স্থূলতার সঙ্গে পারিবারিক প্রভাব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রভাব কাজ করে। অন্যান্য অনেক বিষয় এর জন্য দায়ী হলেও অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ এবং কায়িক পরিশ্রম না করা স্থূলতার প্রধান কারণ।

একজন মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে যতটুকু শক্তি বা ক্যালরি দরকার, যদি ততটুকু ক্যালরি তিনি গ্রহণ করেন, তবে কোনো ধরনের ক্যালরি জমা হবে না। কিন্তু যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করেন, তবে অব্যবহৃত ক্যালরি ফ্যাট হিসেবে দেহে জমা হবে এবং দেহের ওজন বেড়ে যাবে। এটি হলো ধনাত্মক বা পজিটিভ ক্যালরি অবস্থা। আর যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করে, তবে জমা ফ্যাট ভেঙে ক্যালরির সরবরাহ নিশ্চিত হবে। ফলে ওজন কমবে। এটি হলো নেগেটিভ ক্যালরি অবস্থা। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের দুটি সহজ প্রক্রিয়া হলো খাদ্যে ক্যালরি কম রাখা এবং কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে বেশি পরিমাণ ক্যালরি খরচ করা। ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড বিশ্বজুড়ে খুব জনপ্রিয় খাবার। জাঙ্কফুডে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। তাতে ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি খাদ্যোপাদান একদম অনুপস্থিত থাকে। হামবার্গার, পিজ্জা, ক্যান্ডি, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, সফট ড্রিংকস ইত্যাদি জাঙ্কফুড সুস্বাদু হলেও স্বাস্থ্যকর নয়। বাড়িতে রান্না করা খাবারই স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ ভাত, আটা, আলু ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি থাকলেও অন্যান্য আইটেম, যেমন মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ইত্যাদিতে আমিষের সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। এ ছাড়া শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। ফলে বাড়িতে রান্না করা খাবারে সব খাদ্যোপাদানে ভরপুর থাকে। এটির নাম ব্যালেন্সড ডায়েট বা সম্পূর্ণ খাবার। এ খাবার খেলে, সঙ্গে কিছু কায়িক পরিশ্রম করলে মুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম। কারো যদি কিছুটা মেদ, ভুঁড়ির লক্ষণ দেখা দেয়, তবে কার্বোহাইড্রেট বা ভাত, আলু ইত্যাদি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে। তবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাই কষ্ট হলেও শিশুকে, বিশেষ করে স্কুলের টিফিনে বাসায় রান্না করা খাবার দিন। জাঙ্কফুডের বিপদ এবং স্থূলতার ঝুঁকি সম্পর্কে সন্তানকে অবহিত করুন এবং নিজেও বিপদ থেকে নিরাপদে থাকুন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 321 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ