টিকিট কাউন্টারের দরকার কী

Print

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ঢাকা, বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের পরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের অবস্থান।

প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামহসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। তবে যে পরিমাণ আসনযুক্ত টিকিট বরাদ্দ রয়েছে তার তিনগুণ বেশি আসনবিহীন টিকিট ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন টিকিট বুকিং ক্লার্করা।

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে সেটি হলো টিকিট কালোবাজারি। যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ৭-৮ দিন আগে কাউন্টারে গিয়েও টিকিট পান না তারা। রেলওয়ের কিছু অসাধু সদস্যের মাধ্যমে বেশিরভাগ টিকিট চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েই কালোবাজারিরা এসব টিকিট বিক্রি করেন চড়া দামে।

কালোবাজারিদের তালিকায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইল মহল্লার বাসিন্দা স্বপন ও আজাদ এবং দক্ষিণ মৌড়াইলের নিয়াজ মিয়া ও জুনায়েদসহ আরও কয়েকজন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার ১৪৫ টাকার প্রতিটি টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩শ টাকায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামের ২৩০ টাকার টিকিট বিক্রি হয় ৪৫০ থেকে ৫শ টাকা এবং সিলেটের ২১০ টাকার টিকিট বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪শ টাকায়। তবে ঈদের সময় আরও বেশি দামে বিক্রি হয় এসব টিকিট।

রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে মহানগর এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস ও চট্টলা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এর মধ্যে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় একশ টিকিট, মহানগর গোধূলিতে একশ, উপকূল এক্সপ্রেসে একশ, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে ৭টি, চট্টলা এক্সপ্রেসে ৫০টি, পারাবরত এক্সপ্রেসে ৪০টি এবং তূর্ণা এক্সপ্রেসে ৪০টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে।

বিপরীত দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামের মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ৫০টি টিকিট, মহানগর প্রভাতী ট্রেনে ৪০টি, চট্টলা এক্সপ্রেসে ৫০টি ও তূর্ণা এক্সপ্রেসে ৪০টি টিকিট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয় থেকে সিলেটে পারবত এক্সপ্রেসে ২০টি ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ২০টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে।

তবে এসব টিকিটের বেশিরভাই চলে যায় কালোবাজারিদের কাছে। ১০ দিন আগেই টিকিট কেটে রাখে কালোবাজারিরা। এর ফলে ৭-৮দিন আগে কাউন্টারে গিয়েও টিকিট পান না যাত্রীরা। আর তাই বাধ্য হয়েই চড়া দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে হয় যাত্রীদের। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে সরব ভুক্তভোগীরা।

শাহ্ উজ্জল নামে এক ভুক্তভোগী তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট পেয়েছেন এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। পুরো টিকিট ব্যবস্থা কালোবাজারিরা দখল করে রেখেছে।’

স্বর্ণা আক্তার নামে আরেক ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘৯ দিন আগে গিয়েও টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিট কাউন্টার রাখার কী দরকার ছিল? কালোবাজারিদের জন্য একটা রুম দিয়ে দিলেই ভালো হবে। তারা শান্তিতে টিকিট দিতে পারবে।’

সুমন রায় নামে একজন লিখেছেন, ‘১ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা যাওয়ার উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে আসনসহ কোনো টিকিট নেই। বরাদ্দকৃত ৮শ’ টিকিট কোথায় গেল?’

ভুক্তভোগীদের এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার কামরুল হাসান তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সহকারী স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ শোয়েব রেলওয়ের সদস্যদের মাধ্যমে কালোবাজারিদের হাতে টিকিট যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কান্তি দাস বলেন, আমি সারক্ষণই আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফরমে থাকি যেন কোনো টিকিট কালোবাজারি না হয়। চেষ্টা করছি যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ফাঁড়ির ইনচার্জকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যদি স্টেশনে কোনো টিকিট কালোবাজারি হয় তালে যেন সঙ্গে সঙ্গে ধরে ব্যবস্থা নেয়।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 351 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ