নাটোরে চার শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন

Print
জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ নাটোরে চার শহীদ বেদীতে পুস্পার্ঘ অর্পন করে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল। শনিবার (০১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের নেতৃত্বে শহরের কানাইখালীস্থ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রেজা, রঞ্জু, সেলিম ও বাবুলের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তুজা আলী বাবলু , দপ্তর সম্পাদক দিলীপ কুমার দাস সহ জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতৃবৃন্দ শহীদদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
উনিশ একাত্তর সালের এই দিনে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন মজিবর রহমান রেজা ও গোলাম রব্বানী রঞ্জু। রাজাকার-আলবদররা রেজা ও রঞ্জুকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা এলাকা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। মামলা করার পরও এদের হত্যাকারীর বিচার হয়নি আজও। নাটোরের মানুষ প্রতিবছর এই দিনটিকে স্থানীয় চার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান রেজা , গোলাম রব্বানী রঞ্জু, সেলিম চৌধুরী ও আমিরুল ইসলাম বাবুলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করতে দিনটিকে শোকের দিন হিসেবে পালন করে থাকে।
নাটোরের তৎকালীন ছাত্রলীগ ও সংগ্রাম পরিষদ নেতা মজিবর রহমান রেজা ও গোলাম রব্বানী রঞ্জু ভারতে প্রশিক্ষন শেষে নাটোরের গুরুদাসপুর এলাকায় ঢুকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। পাকিস্থানী দোসরদের প্রতরনার শিকার হয়ে রাজাকার-আলবদর বাহিনীর হাতে ধরা পরেন তারা। শরীরে পেরেক ঢুকিয়ে ও সিগারেটের ছাঁকা দিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর ১ সেপ্টেম্বর তাদের হত্যা করা হয়। শহরের কানাইখালী এলাকায় তাদের দাফন করা হয়। অপর দুই শহীদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম বাবুলকে ২০ এপ্রিল পাকসেনারা ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে এবং সেলিম চৌধুরী ১ ডিসেম্বর নওগাঁর রণাঙ্গনে শহীদ হন। মৃতদেহ না পাওয়ায় এই দুই শহীদের পরিধেয় কাপড় একই স্থানে কবর দিয়ে প্রতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরন করা হয়। এই চার বীরকে শ্রদ্ধা জানাতে সরকারীভাবে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়না। শুরুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ নানা সংগঠন দিন দিনটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করলেও এখন সে সংখ্যা কমে গেছে। প্রতিবছর পারিবারিকভাবেই এই চার শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করা হয়। এবার নাটোর পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে চার শহীদের কবরস্থান।
স্বাধীনতার পর ২০০৮ সালে শহীদ মজিবর রহমান রেজার ভাই বিপ্লব বাদি হয়ে রেজা ও রঞ্জুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই। শহীদদের পরিবার সহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা চিহ্নিত রাজাকার আলবদরদের বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে শহীদ আমিরুল ইসলাম বাবুলের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে শহীদ বাবুলকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 381 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ