রানীনগরে ৭ দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদের তদন্ত সম্পন্ন

Print

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রানীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসএসসি পাস না করে তৈরীকৃত (জাল) সার্টিফিকেট দিয়ে সাতজন দলিল লেখক লাইসেন্স করে দীর্ঘদিন যাবৎ দলিল লেখার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিত্বে জেলা রেজিস্ট্রার গত ২৬ জুলাই রানীনগর উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। কাগজপত্র যাচাই-বাচাই পূর্বক রানীনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার গত সপ্তাহে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ নিয়ে গত ৪ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক খবরপত্র পত্রিকায় ‘৭ দলিল লেখকের সনদ ভূয়া’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

জানা গেছে, জেলা রেজিস্ট্রার রানীনগর উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রুহুল আমীন সনদ নং(৯২), সাদেকুল ইসলাম সেলিম সনদ নং (৮৭), মিরাজুল ইসলাম সনদ নং(৭৩), ইলিয়াস সনদ নং (৮৫), এরশাদ আলী সনদ নং (৭৫), আব্দুল মতিন সনদ নং (৯৮) ও রুঞ্জু হোসেন সনদ নং(৮৬) এর শিক্ষাসনদসহ সকল কাগজপত্রাদি জমা নিয়ে যাচাই-বাচাই করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত সাতজন দলিল লেখকদের মধ্যে ছয়জন দলিল লেখক লাইসেন্স(সনদ) গ্রহন করার কয়েক বছর পরে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। আর একজন দলিল লেখক লাইসেন্স করার অনেক আগের এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার নাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে চাইলেও রহস্যজনক কারনে দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, আব্দুল মতিন, এরশাদ আলী ও ইলিয়াস এ তিনজন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি লাল বিহারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ভর্তি হয়ে ২০১৫ইং সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। পরীক্ষায় আব্দুল মতিন ও এরশাদ আলী কৃতকার্য হন। কিন্তু ইলিয়াস অকৃতকার্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওইসব ভূয়া দলিল লেখকদের আগামী বছরে নতুন করে সনদ রেনু করার জন্য মোটা অংকের টাকা নিয়ে দেনদরবার করার প্ররিপকল্পনা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের ২৩ শে এপ্রিল উপজেলার করজগ্রাম গ্রামের আনিছুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আসল বাবা সাজিয়ে ছেলে আক্তারুজ্জামান সাগর প্রায় ১৯ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। এনিয়ে দলিল লেখক (মোহরি) সাইদুল ইসলামের সাথে আক্তারুজ্জামান সাগরের ৬০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। পরবর্তিতে বিষয়টি প্রকাশ হলে জমির মূল মালিক উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মমতাজ হোসেনের (৭৬) কে পুনরায় ফেরত দেন ছেলে আক্তারুজ্জামান সাগর। দলিল লেখদের জোগসাজসে জমির মূল মালিকরা প্রায় প্রতারনার ঘটনা ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখকরা বলেন, ভুয়া দলিল লেখকরা জাল কাগজপত্র দিয়ে সনদপত্র তৈরী করে অবৈধ ভাবে দলিল লেখার কাজ করে আসছে। তারা নিয়ম না মেনে বেশি অর্থের লোভে মিথ্যে তথ্য দিয়েও অনেক জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়। এতে করে অনেক নিরীহ মানুষ প্রতারিত হয়েছে। একজনের জমি আরেক জনের নামে, জমির ভুয়া কাগজপত্র দিয়েও জমি দলিল করে দেয়। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠ ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

রানীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো: হাফিজুর রহমান বাচ্চু বলেন, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার স্যার আমাদের একটি চিঠি দিয়েছিলেন সাতজন দলিল লেখকের এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট চেয়ে। সার্টিফিকেট আসল না নকল তা দেখার এখতিয়ার আমাদের নেই। এছাড়া দলিল লেখকদের রেজিষ্ট্রেশনও আমরা দিতে পারিনা। এটা উপর মহলই যাচাই বাছাই করবেন।

রানীনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো: ইসমাঈল হোসেন বলেন, নির্দেশনামা পাওয়ার পর অভিযুক্ত সাতজন দলিল লেখকের কাগজপত্রাদি জমা নিয়ে যাচাই-বাচাই করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তারা এসএসসি পাসের আগেই দলিল লেখকের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে দলিল লিখার কাজ শুরু করেছিল। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষই দেখবেন। তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেনদরবার চলছে এমন কথা ভিত্তিহীন।

নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবর রহমান বলেন, নোটিশের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। আইনগত যে ব্যবস্থা সেটা গ্রহন করা হবে। এখন সেটা বলা যাবেনা। অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতেই হবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 239 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ