সিরিয়ার কারাগারের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করলেন বিদ্রোহী কর্মকর্তা

Print

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর কারাগারে আটক রাখা হয়েছে হাজার হাজার বিদ্রোহী কয়েদিকে। আটক এ কয়েদিদের সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর এক বিদ্রোহী কর্মকর্তা নিহত কয়েক হাজার কয়েদির ছবি ফাঁস করে দিয়েছেন। ওই ছবিগুলো এবং নিহতদের স্বজনদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিদ্রোহীদের অধিকাংশ স্থানে পরাজয় হয়েছে। ফলে সিরিয়ার যুদ্ধ এখন শেষের পথে। আসাদ সরকার এখন কারাগারে নিহত ওই সব কয়েদির রেকর্ড প্রকাশ করছে। এরই মধ্যে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু নিহতদের লাশ তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।

সিরিয়ার কারাগারে বহু কয়েদিকেই অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েদিদের গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। ঠিকমতো খেতে দেয়া হচ্ছে না। কয়েদিদের খাবার হিসেবে দেওয়া হয় চাল, আলু ও তেল দিয়ে তৈরি এক ধরনের সুপ। এই সুপ খেয়ে পেটের সমস্যায় মারা যাচ্ছেন বহু কয়েদি।

শুধু তাই নয়, অসুস্থ হলে চিকিৎসা কিংবা ওষুধ নেই। এর ফলে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকেই।

কয়েদিদের মাঝে কাউকে সন্দেহ হলেই তার চোখ উপড়ে, কারও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চেহারা বিকৃত করে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে হত্যার পর লাশগুলো গুম করে ফেলা হয়েছে। বড় বড় গণকবরে পুঁতে ফেলা হয় এসব লাশ। আর নিহত কয়েদিদের লাশ ফেলতে অন্যান্য কয়েদিকে বাধ্য করা হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল ফোর’র ডকুমেন্টারি ‘সিরিয়া’স ডিসআপিয়ার্ড : দ্য কেস এগেইনস্ট আসাদ’-এর পরিচালক সারা আফসার গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে একই তথ্য জানান।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব কারাগারকে ‘কসাইখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সিরিয়ার এক খ্যাত চিত্রশিল্পী নাজাহ আল বুকাইকেও এমন একটি জেলে রাখা বন্দি করে রাখা হয়েছিল। নিহত কয়েদিদের বহন করে গণকবরে নিতে তাকেও বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রথম যে লাশটা আমার ফেলতে হয়েছিল, তাতে একটা সাদা কাগজের ওপর একটা নম্বর লেখা ছিল। এভাবে কয়েদিদেরই সৎকার করতে হয় কয়েদিদের লাশ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 132 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ