দাম কমলেও পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তি কমেনি

Print

দাম কিছুটা কমলেও পেঁয়াজ নিয়ে সরকারের অস্বস্তি কমেনি। বিমানযোগে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে গিয়ে ভাড়াই পড়ে যাচ্ছে কেজিতে ১৫০ টাকা। বিশাল অঙ্কের ভতুর্কি দিয়ে সে পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দামে বিক্রি করেও দেশবাসীকে খুশি করতে পারছেন না। ন্যায্যমূল্যের ট্রাকের সামনের লাইনও ছোট হয়ে আসছে। খাদ্য, শিল্প, বাণিজ্য, কৃষিসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী প্রতিনিয়ত বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে ব্যস্ত রয়েছেন পেঁয়াজ নিয়ে সৃষ্ট অস্বস্তি দূর করার কাজে। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, তেল, রসুন, আদা প্রভৃতি পণ্যও। তবে এত কিছুর মাঝেও জনমনে কিছুটা স্বস্তির সঞ্চার করেছে সবজির দাম। বাজারে বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে সহনীয় দামে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের দেশী পুরনো পেঁয়াজ এখনো ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম হলে মুড়ি কাটা নতুন পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। পাতাসহ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া মিসর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। বিদেশ থেকে আমদানি করা বেশির ভাগ পেঁয়াজ ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য টিসিবির পক্ষ থেকে কিনে নেয়ায় বাজারে দাম কমছে না বলে জানান বিক্রেতারা। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।

চিরচেনা দৃশ্য নেই : মাত্র কয়েক দিন আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ স্বল্পমূল্যে কেনার জন্য বিশাল লাইন থাকত। একজন ব্যক্তির কাছে দুই কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা হতো না। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। আবার শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। এ অবস্থা গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিরাজ করছিল। কিন্তু দুই দিন ধরে বাজারে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হওয়ায় এর হাহাকার তুলনামূলকভাবে কমেছে। এখন ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও ক্রেতা না থাকাটা অনেকটা অবিশ্বাস করার মতো ব্যাপার। গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর মতিঝিলে বলাকা ভাস্কর্যের সামনে টিসিবির একটি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক থেকে সুমন মিয়া নামে এক যুবককে পথচারীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, যত কেজি খুশি পেঁয়াজ নিয়ে যান। দামে কম, ভিড়ভাট্টা নেই। এমন সুযোগ আর পাবেন না। পেঁয়াজ কেনার জন্য তখন ক্রেতা ছিল মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। তারা লাইন ছাড়াই ট্রাকের সামনে থেকে যত কেজি ইচ্ছা তত কেজি পেঁয়াজ নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহ পর্যন্ত সরকারিভাবে বিক্রির জন্য প্রতিদিন মাত্র এক টন দেয়া হতো। এখন প্রতিদিন ট্রাক অনুযায়ী সর্বোচ্চ চার টন পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। আগে প্রতিজনকে দুই কেজি করে দেয়া হলেও দুই দিন ধরে ৪ কেজি করে দেয়া হচ্ছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 62 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ