১৭ বছর পর গোলশূন্য ড্র এল ক্লাসিকো

Print

২৩ নভেম্বর, ২০০২। শেষ যেবার গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়েছিল এল ক্লাসিকো, তখন জন্মই হয়নি বার্সেলোনার আনসুমান ফাতির। রদ্রিগো গোজ, ফেদেরিকো ভালভার্দেরা ছিলেন শিশু। রামোস, কাসেমিরো, ক্রুসদের কারো বয়স দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছায়নি। ১৭ বছর পর আবারো সেই ন্যু ক্যাম্পে যখন ২৪৩তম বারের মতো মুখোমুখি বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদ, তখন মাঠে ছিলেন রামোস-ক্রুস-ফাতি-রদ্রিগোদের সবাই। এই ম্যাচে ফিরে এলো ১৭ বছরের পুরনো স্মৃতি। প্রায় দেড় যুগ পর গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হল কোনো ক্লাসিকো। ১৭ ম্যাচ শেষে লিগে সমান ৩৬ পয়েন্ট দু’দলের। গোলব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে থাকল বার্সেলোনা।

ন্যু ক্যাম্পে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ডদের ঠেকাতে রদ্রিগো বা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বসিয়ে ইস্কোতে ভরসা রেখেছিলেন জিনেদিন জিদান। ৪-৩-৩ থেকে সরে ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ ম্যানেজার। জিদানের বাজিটা কাজে দিয়েছিল দারুণভাবে, প্রথমার্ধে মেসি-সুয়ারেজ-গ্রিযমানদের কেউই সুবিধা করতে পারেননি একেবারেই। ইনজুরির কারণে এডেন হ্যাজার্ড, মার্সেলোকে পাননি জিদান। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতিটা টের পেতে দেননি ইস্কো এবং ফার্লান্ড মেন্ডি। বার্সা ফরোয়ার্ডদের দমিয়ে রাখা রিয়ালই প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বেশি।

১৭ মিনিটেই লিড নিতে পারত জিদানের দল। কাসেমিরোর হেড মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগানকে পরাস্ত করলেও গোললাইন থেকে দুর্দান্ত ক্লিয়ারেন্সে বল ফিরিয়ে দেন জেরার্ড পিকে। সাবেক স্প্যানিশ সতীর্থের মত প্রতিপক্ষকে গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন রামোসও। ৩১ মিনিটে জর্দি আলবার ক্রস থিবো কোর্তয়া ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল আসে মেসির পায়ে। কাতালান অধিনায়কের শট কোর্তোয়াকে পরাস্ত করলেও গোললাইন থেকে দলকে বাঁচিয়ে দেন রিয়াল অধিনায়ক।

প্রথমার্ধে বেশ সতর্কই থাকতে হয়েছে দুই গোলরক্ষককে, তবে কোর্তোয়ার চেয়ে ব্যস্ত ছিলেন টের স্টেগানই। রিয়ালের হয়ে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ভালভার্দে। রক্ষণে রামোস-ভারানদের সাহায্য করেছেন, আবার আক্রমণেও বিপদে ফেলেছেন বার্সাকে। ভালভার্দের মত নজর কেড়েছেন বার্সার তরুণ ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। বার্সার হয়ে মাঝমাঠের সুরটা গেঁথেছেন তিনিই। তবে ডি ইয়ং যতটা দুর্দান্ত ছিলেন, ঠিক ততটাই নিষ্প্রভ ছিলেন রাকিটিচ-রবার্তো। মাঝমাঠে সার্জিও বুস্কেটসের অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে বার্সাকে।

একাদশ ঘোষণায় বড় চমক রেখে সার্জিও বুস্কেটসকে বাদ দিয়েই দল নামিয়েছিলেন এর্নেস্তো ভালভার্দে। কাতালানদের মাঝমাঠে তার অনুপস্থিতির সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে রিয়াল। প্রথমার্ধে বার্সার গোলে ৪টি অন টার্গেট শট নিয়েছিল তারা, কিন্তু শুধু গোলটাই পাওয়া হয়নি। আর সব মিলিয়ে ১২ বার গোলে শট করেছিলেন ভালভার্দে, বেনজেমারা। ২০০৩ সালের পর ন্যু ক্যাম্পে এক অর্ধে এতো বেশি গোলে শট নিতে পারেনি রিয়াল।

রিয়ালের লিড নিতে না পারার সুযোগটা আরেকটু হলেই কাজে লাগাতে পারত বার্সা। খুব সম্ভবত প্রথমার্ধে গোলের সেরা সুযোগটা হাতছাড়া করেছেন জর্দি আলবা। ৪১ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ডিফেন্সচেরা লম্বা পাসে কোর্তোয়াকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ইনজুরি থেকে ফিরে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা স্প্যানিশ লেফটব্যাক।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 32 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ