চীনা উপহারের টেস্ট কিট ৮০%-ই ত্রুটিপূর্ণ!

Print

চীনের র‌্যাপিড টেস্ট কিট ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্পেন। চেক স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন চীনের উপহার দেয়া টেস্ট কিটের ৮০ শতাংশই ত্রুটিপূর্ণ। অপরদিকে স্পেন জানিয়েছে, মাত্র ৩০ শতাংশ কিট ঠিকঠাক কাজ করেছে। এ কারণে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা ৯ হাজার কিট ফেরত দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শেনজেন বায়োইজি টেকনোলজি থেকে কেনা কিটগুলোল অধিকাংশ ত্রুটিপূর্ণ। এসব ত্রুটিপূর্ণ কিট ফিরিয়ে দিয়ে উৎপাদনকারী কোম্পানিকে ভালো কিট দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৮ মার্চ চেক প্রজাতন্ত্রকে ১ লাখ ৫০ হাজার পোর্টেবল র‌্যাপিড টেস্ট কিট উপহার দেয় চীন। চীনা কর্তৃপক্ষ এটিকে অনুদান বললেও এক লাখ কিটের জন্য চেক প্রজাতন্ত্র ৫ লাখ ৪৬ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে একটি চেক পত্রিকা। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর সঙ্গে আরো ৫০ হাজার কিট যুক্ত করে বিল করেছেন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির দেওয়া তথ্যমতে, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পেনে ৫৭ হাজার ৭৮৬ ব্যক্তি নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৮ জন মারা গেছে।

চেক প্রজাতন্ত্রের মোরাভিয়ান-সিলেসিয়ান এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পাভলা সোভারসিনোভার বরাত দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা জানায়, তারা দেখেছেন এসব কিটের ভুলের হার ৮০ শতাংশ। অস্ত্রাভার ইউনিভার্সিটি হসপিটালেও তারা এই কিট যাচাই করে উচ্চমাত্রার ত্রুটি দেখতে পেয়েছেন। এ কিট ফলস পজেটিভি এবং ফলস নেগেটিভ দুই ফলাফল দেয়ার হার অত্যন্ত বেশি। এ কারণে শুধুমাত্র যারা কোয়ারেন্টিন শেষ করার পথে এবং কখনোই পজেটিভ চিহ্নিত হননি এমন লোকদেরই এ কিট দিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা স্থানীয় প্রযুক্তি দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রক্রিয়াতে তারা দৈনিক ৯০০টি পরীক্ষা করতে পারছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারসোর অধ্যাপক আন্দ্রেজ কোজলোস্কিও গত ২৪ মার্চ তার টুইটার হ্যান্ডেলে এ সংক্রান্ত একটি ইংরেজী খবর শেয়ার করেছেন।

তবে চেক প্রজাতন্ত্রের উপপ্রধানমন্ত্র্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জান হামাসেক দাবি করেছেন, এ কিট ব্যবহারের পদ্ধতিতে সম্ভবত ত্রুটি রয়েছে। এটি শুধু তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে যারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করেছেন। তার মতে, চীনা কিটের মূলত অ্যান্টিবডি সনাক্ত করা হয়। কভিড-১৯ রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই সনাক্ত করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো পলিমেরাস চেইন রিয়্যাকশন (পিসিআর) বা প্রচলিত ল্যাব টেস্ট।

এদিকে স্পেনে চীনা দূতাবাস এ অভিযোগের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ কিটের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কভিড-১৯ মোকাবেলায় দুই দেশ সম্প্রতি যে ৪২ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর চুক্তি করেছে এসব কিট সে চুক্তির বাইরে ছিল। চুক্তিতে অবশ্য অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি ৫৫ লাখ টেস্ট কিট কেনার কথাও আছে। দূতাবাস দাবি করেছে, ত্রুটিপূর্ণ কিটগুলো অনিবন্ধিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছিল।

চীনা দূতাবাস থেকে আরো বলা হয়েছে, শেনঝেন বায়োইজি বায়োটেকনোলজি নামে যে কোম্পানির কাছ থেকে স্পেন টেস্ট কিট কিনেছে সেটি দেশটির সঙ্গে চুক্তির মধ্যে উল্লেখিত চীনের সরবরাহকারীর তালিকায় নেই। কোম্পানিটি চীনা ন্যাশনাল মেডিক্যাল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে পণ্য বিক্রির লাইসেন্সও পায়নি।

জানা গেছে, ওই কোম্পানির কাছ থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার কিট কেনার ক্রয়াদেশ দিয়েছিল স্পেন।

সূত্র: তাইওয়াননিউজ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 111 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ