আফরোজা আক্তার রিবা অদম্য এক সাহসী নারী

Print

যেখানে সরকারী কর্মকর্তা – কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলা, জনহয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতিসহ অভিযোগের শেষ নেই জনগনের। এদের মধ্যেও ব্যতিক্রম কর্মোদম সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রয়েছে। যারা লোভ লালসার উদ্ধে উঠে নিজ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন জনবান্ধব ও বিপদগ্রস্থ মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে। তেমনি একজন হলেন দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। ২০১৯ সালে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা জেলার সেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রামণের ঝুকিতে যেখানে ডাক্তাররা সেবা প্রদানে অনিচ্ছা প্রকাশ করে মৃত্যু ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন এই সাহসী নারী। চায়নায় করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ যখন মহামারীতে রুপ নেয় তখনি তিনি তার নিজ উদ্যোগে দোহার উপজেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ সতর্কতা বিষয়ক আলোচনা ও জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঘরে শিশু সন্তানদের রেখে তিনি প্রতিদিন করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ রোধে জনসাধারনকে ঘরে রাখতে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। নিজ মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে দোহার উপজেলা বাসীদের সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতার জন্য তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দোহারের জনসাধারনকে করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে রক্ষা করতে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্য বিতরণে তিনি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূয়সী ভূমিকা পালন করছেন।

২০১৮ সালের ৫ই মার্চ দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দোহার উপজেলায় তিনি প্রথম নারী কর্মকর্তা হিসেবে এই পদে যোগদান করেন। তার সৎভাব ও কর্ম দক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। উপজেলার প্রতিটি দফতরের কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান।

মাননীয় সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমানের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী দোহার উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন।

জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সৎভাবাপন্ন জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।

ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবা’র জন্ম নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার গোতাশিয়া গ্রামে। তার বাবা মোঃ শহিদ উল্লাহ ভুঁইয়া ও মাতা লুৎফুন্নাহার। তিনি গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন।

শিক্ষা জীবনে তিনি নরসিংদীর হাড়িসাংগার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। পড়াশোনা শেষ করে ২৯তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। দোহারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ মাস এবং ধানমন্ডি রাজস্ব সার্কেলে ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায়, তিনি দোহারে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে উপজেলার প্রশাসনিক চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। সকল কাজ সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান ও উপজেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি।
সর্ব ক্ষেত্রেই রয়েছে এই নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদচারণা। দাফতরিক কাজের বাইরে সকাল-বিকাল ছুটে বেড়ান মাঠ-ঘাট। কথা বলেন উপজেলার সাধারণ মানুষের সাথে। শুনেন তাদের ‍দু:খ কষ্টের কথা। খোঁজ খবর নেন সমাজের অবহেলিত গরীব দু:খী মানুষের। পরিদর্শন করেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প। কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে নেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

তাছাড়া গণমাধ্যম, ফেইসবুক, মুঠোফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত সমাধান ও তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়ে সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। দরিদ্র জনসাধারণের জন্য বয়স্কা ভাতা কার্ড ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থায়নের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন।

এছাড়া মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা, ২১ ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় শোক দিবসসহ প্রতিটি সরকারি কর্মসূচি দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করে বেশ সুনাম অর্জন করেন এই চৌকস উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

দোহার উপজেলায় যোগদানের পর তিনি মেধাববৃত্তি, শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড ফুটবল টূর্নামেন্ট চালু করেন। বাল্যবিয়ে বন্ধ, মেয়েদের যৌন নির্যাতন বন্ধ, মাদকসেবীদের ভ্রাম্যমাণ দন্ড-সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উপজেলাবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। তারই একান্ত প্রচেষ্টায় দোহারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা এবার জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত নদীতে টহল, জাটকা ইলিশ নিধন রোধ, জেলেদের বিভিন্ন দণ্ড ও মাছ শিকারী সিন্ডিকেট উৎখাতে তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন অবকাঠামো ও শিল্পীদের নিয়ে নতুনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা।

তার উদ্যোগে দোহার ঘাটা এলাকায় ১২ দিনের শিশু তার মাকে ফিরে পায়। নদীভাঙন কবলিত পরিবারের পাশেও ছিলেন তিনি। আশ্রায়ণ প্রকল্পে নিয়মিত সহায়তা প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা পদক্ষেপেও তার ভূমিকা অপরিসীম। অনেক গৃহহীনকে গৃহ দেয়া। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়, কুসুমহাটি ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত করা, সেই সাথে সেখানকরা ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাজ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন ও দোহারকে একটি আধুনিক উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, সরকারী কর্মকর্তারা জনগনের সেবক। নিজে কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, দেশ ও জাতীর জন্য কি করতে পারলাম সেটাই বড় কথা। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব সময় চেষ্টা করি মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবের। আমি হয়েতো একদিন এই উপজেলায় থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমার কর্ম। যদি ভাল কাজ করে যেতে পারি, তাহলে দোহারবাসী আমাকে আজীবন মনে রাখবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 41 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ