এটি এম শামসুজ্জামানের খোঁজ নেয় না কেউ!

Print

বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের খ্যাতিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান টানা চার মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন গত আগস্ট মাসে। তার বাড়ি ফেরার  সাত মাস হলেও মিডিয়ার কোন মানুষ তার খোঁজ নেয়নি বলেই আজ সমকালকে জানালেন এটি এম শামসুজ্জামানের স্ত্রী রুনী জামান।

রুনী জামান জানান, এই সাত মাসে  কেবল গণমাধ্যমের কিছু সাংবাদিকরাই উনার খোঁজ খবর নিয়েছেন এর বাইরে মিডিয়ার কোন মানুষ দেখতে আসেননি, ফোন করেও কেউ খোঁজ খবর নেননি।  আক্ষেপ করে রুনী জামান বলেন, ‘যে মিডিয়াতে সারা জীবন কাজ করেছেন তিনি সেখানকার মানুষরাই তাকে ভুলে গেছেন। একবারও খোঁজ নেয়নি কেমন আছে মানুষটি। ’

এর আগে গত বছর ২৬ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো এটিএম শামসুজ্জামানকে। এরপর  ১৫ জুন তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চলে তার চিকিৎসা। হাসপাতারে শুধু বেডের ভাড়া মওকুফ ছিলো। চিকিৎসা খরচ পরিবারকেই বহন করতে হয়েছে বলে জানান রুনী জামান।

করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে এটিএম শামসুজ্জামান কেমন আছেন সে খোঁজ নিতেই সমকাল অনলাইনের পক্ষ থেকে কথা হয় রুনী জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বয়স হয়ে গেছে তার। এখন তো একেবারে বন্দি জীবন যাপন করছেন। দেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনিও চিন্তিত। চিন্তিত নিজেকে নিয়েও।

পরে এটি এম শামসুজ্জামনকে ফোন ধরিয়ে দিলে তার কাছেই জানতে চাওয়া হয় তার বর্তমান অবস্থার কথা।  এটিএম শামসুজ্জামান কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলেন, ‌‌’এতো নিঃসঙ্গ হয়ে যাবো কখনও ভাবিনি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে পরিবার ছাড়া কাওকেই পাশে পাচ্ছিনা। এতোটা সময় যাদের দিলাম। তাদের কেউ আমি বেঁচে আছি না মরে গেছি সে খবরও রাখেনা। কেবল মৃত্যুর গুজব উঠলে কিছু মানুষ ফোন করে।’

একজন অভিনেতার বাইরেও  এটিএম শামসুজ্জামান পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার। পেয়েছেন একুশে পদকও।

এখন দিন কিভাবে কাটাচ্ছেন? জানতে চাইলে বরেণ্য এ অভিনেতা বলেন, ‌‘দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লোরে ঘুমাতে হয় আমাকে। টিভিতে খবর দেখে, বই পড়ে দিন কাটাচ্ছি। আর রুনীর ব্যস্ততা আমাকে নিয়েই। ও কাজ শেষ করে আমার সেবা করছে, সময় দিচ্ছে। খবরে দেখছি করোনা ভাইরাসে পুরো বিশ্বই আতঙ্কিত। মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখছে এ ভাইরাস। যদিও কাছের অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে আগেই দূরে সরেছেন। তবুও এ ভাইরাসের খবর দেখে আমিও আতঙ্কিত হয়ে উঠছি। দোয়া করছি পুরো বিশ্ব এ ভাইরাস থেকে দ্রুত মুক্তি পায়।’

এটিএম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরির ‘বিষকন্যা; চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি; চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।  রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালিতে’ অভিনয় করে  শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 29 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ