রমজানে ২০ টি অতি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য টিপস

Print

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে বিশেষ রহমত স্বরূপ।প্রতিটি সক্ষম মুসলমান নর-নারীর ওপর এই রোজা বা সিয়াম সাধনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, একই সঙ্গে এর অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে কোরআন ও হাদীসে। রমজানের প্রধান ইবাদত হলো রোজা বা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি অন্যান্য ইবাদত করা।

✅কাজেই মাহে রমজান সঠিকভাবে পালন করার জন্য প্রয়োজন সুস্থ শরীর। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন সুষম খাবারের। দরকার পরিমাণ মত শস্য জাতীয় খাবার, শাক সবজি, ফলমূল, দুধসহ মাছ, মাংস বা ডিম। রমজান মাসেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সারা দিন রোজা রাখার পর খাবার নির্বাচনে ও গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।

✅✅আসুন জেনে নিই রমজানে জরুরি ২০ স্বাস্থ্য টিপস-

১) খেজুর প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি খাবার, খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করুন, যা আপনাকে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগাবে।

২) ইফতারের সময় কেমিক্যালযুক্ত ড্রিংকস, সফট ড্রিংকস এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক ফলের জুস(পাল্প সহ) পান করুন যা মিনারেল, সল্ট ও ভিটামিনের ভালো উৎস।

৩)পর্যাপ্ত পরিমান বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে,সারাদিন শরীরে পানিশূন্যতা দূর করার জন্য। ইফতারের পর থেকে সেহেরি পর্যন্ত কমপক্ষে ৮-১২ গ্লাস পানি পান নিশ্চিত করুন।

৪) অতিরিক্ত ফ্যাট ও উচ্চ শর্করা সমৃদ্ধ খাবার এবং অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন- ভাজা খাবার, পাকোরা, বিরানি, মিষ্টি, হালুয়া ইত্যাদি পরিহার করতে চেষ্টা করুন, খুব খেতে মন চাইলে সপ্তাহে ১/২ দিন অল্প পরিমানে গ্রহণ করুন।

৫) ইফতার ও সেহরিতে লবণাক্ত খাবার গ্রহণ করলে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে ফলে দিনের বেলায় তৃষ্ণা বৃদ্ধি পেতে পারে।

৬) পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহন করুন, অত্যধিক ভরা পেট রাতে ইবাদাতে বিঘ্ন ঘটায়।

৭) দেরিতে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট আপনাকে ইবাদাতের রাতে ভালো শক্তি যোগাবে। ডায়েটে ফাইবারের উৎস যোগ করুন, যা দিনের বাকি সময় আপনার অন্ত্রের কার্যক্রম সচল ও অন্ত্রকে সুস্থ রাখবে।

৮) ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘসময় পেট ভরা অনুভূতি দেবে, কাজেই রমজানের খাবার পরিকল্পনায় বেশি বেশি ফাইবারযুক্ত এবং প্রয়োজন মত প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন- ছোলা, ডাবলি রাখুন।

৯) পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকা ও ফাইবারের উৎস ভোজন রমজানে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

১০) অধিক ভাজা পোড়া ও চর্বি যুক্ত খাবার পরিহার করুন। কারণ ও ধরণের খাবারে বদ হজম, বুক জ্বালা পোড়া করা সহ শারীরিক ওজন বৃদ্ধি জনিত সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।

১১) সিরিয়ালস, সালাদ, ফল ও শাকসবজি হচ্ছে তৈলাক্ত তরকারি ও ভাজা স্ন্যাকের চমৎকার বিকল্প।

১২) ইফতারের পর প্রতি ঘন্টায় ১ গ্লাস পানি বা তরল পানীয় (চিনি ছাড়া) পান করুন।

১৩) ক্যাফেইন সমৃদ্ধ এনার্জি ড্রিংকের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। চা ও কফিতেও চিনি সীমিত করুন।

১৪)রমজানের নিয়মানুবর্তিতা মেনে পবিত্র এ মাসে ধূমপান, মদ্যপান বর্জন করুন।

১৫) ভালোভাবে বিশ্রাম নিলে রমজানের অধিকাংশ সময় উত্তমভাবে কাজে লাগানো যাবে। দিনের বেলায় না ঘুমালেও নিরবে বসে কুরআন তিলাওয়াত কিংবা যিকির করলেও মানসিক ভাবে আরাম মিলে।

১৬)ইফতারের পরপরই শারীরিক ব্যায়াম ভালো নয়, কারণ তখন আমাদের রক্তপ্রবাহ আমাদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের দিকে চালিত হয়। কাজেই ইফতারের পর বিশ্রাম নিন এবং কমপক্ষে ১ ঘণ্টা পর ২০-৩০ মিনিট ঘরে মধ্যেই জোরে হাটুন, কিংবা ব্যয়াম করুন।

১৭) অতি দ্রুত খাওয়া পরিহার করুন, এতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়ে যায়।রোজা ও সংযম শেষে এই প্রবৃত্তি প্রতিহত করুন, পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারন করুন এবং ধীরে ধীরে চাবিয়ে খাবার গ্রহন করুন।

১৮)অত্যধিক শর্করাযুক্ত স্ন্যাক ও পানীয়ও, মিষ্টি জাতীয় খাবার দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।শুধুমাত্র দাঁতের সুস্থতার জন্য নয়, মুখের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচাতেও তারাবীহের পূর্বে দাঁত ব্রাশিং ও ফ্লসিং করুন।

১৯)সঠিক ভাবে সেহেরি গ্রহন করুন, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত এবং শরীরকে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন ও উপকারী ফ্যাট সমৃদ্ধ সুষম ডায়েট দিয়ে পুষ্টি যোগানোর সুযোগ।

২০) নিয়মিত কোনো ওষুধ, ইনসুলিন গ্রহণ করলে, কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত কিংবা গর্ভবতী, দুগ্ধদানকারী মায়েদের রোজার পরিকল্পনার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পুষ্টিবিদের সাহায্যে প্রত্যেকের জন্য ডায়েট চার্ট পরিকল্পনা করে নেওয়া অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ।

📛সর্বোপরি রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য ভুলে গেলে চলবে না। সারা দিন রোজা রেখে খাবার গ্রহণেও সংযমী হতে হবে।

✅রোজা রাখুন এবং সুস্থ থাকুন

 

আয়েশা সিদ্দিকা ,পুস্টিবিদ

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 86 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ