ফার্মাসিস্ট ফজলে রাব্বির মৃত্যু ও আমাদের আর্তনাদ

Print

ফার্মাসিস্ট ফজলে রাব্বির মৃত্যু ও আমাদের আর্তনাদ
ফার্মাসিস্ট ফজলে রাব্বি। জন্ম ২৩ নভেম্বর ১৯৯১। ২০১৩ সালে ইউনিভার্সিস্টি অফ এশিয়া প্যাসিফিক থেকে ফার্মেসী বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে যোগদান করেন এবং স্বীয় কর্মদক্ষতায় ঐ কোম্পানিতে এসিস্টান্ট ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন।
ফার্মাসিস্ট ফজলে রাব্বি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ (১১-০৬-২০২০) মৃত্যুবরণ করেন [ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন]। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর কালে বাংলাদেশের ফার্মাসিস্ট সমাজের মধ্যে একটা নীরব যন্ত্রনা দানা বাধিতেছে। এটা তাঁদের আত্ম পরিচয়ের সাথে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টরা দিনরাত পরিশ্রম করে ওষুধ শিল্প খাতকে একটি সন্মান জনক অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা/হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, এ্যাম্বুলেন্স, আইসিইউ, ভেন্টিলেশন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসবের অভার থাকলেও ওষুধের অভাবের কথা কেউ বলতে পারবেন না। ধনী দেশগুলির সাথে তাল মিলিয়ে যখনই কোন দেশ কোন ওষুধ বাজারে ছেড়েছে, ওমনি বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলি তা এদেশে নিয়ে এসেছে আর আমাদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্টগন তা তৈরি করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছে। এগুলি বিদেশ থেকে চার্টার্ড প্লেন ভাড়া করে আনতে হয় নাই। বরং অনেক দেশ চার্টার্ড প্লেন ভাড়া করে বাংলাদেশ থেকে এই ওষুধ নিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু তারা তাঁদের প্রাপ্য সন্মানটুকু পাচ্ছে না। আমরা দেখেছি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সন্মুখযোদ্ধা হিসেবে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে। রাস্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত এদের নাম ধরে বাহবা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু ফার্মাসিস্টদের নামটি আসছে না।
মনোবেদনার জায়গা এটিই। কারণ, ফার্মাসিস্টগন দিন রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ বলতে পারবে না যে দেশে কোনো ধরণের ওষুধের ঘাটতি আছে। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্টদের সহায়তায় তাঁদের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রন, কাঁচা মাল সংগ্রহ, মার্কেটিং সিস্টেম ও সাপ্লাই চেইন এমন নিখুঁতভাবে পরিচালনা করছে যে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, সুন্দরবন থেকে সুনামগঞ্জ কোথাও কোনো ধরণের ওষুধের ঘাটতি নেই।
শুধু ফার্মাসিস্ট ফজলে রাব্বিই নয়, এর আগেও বেশ কয়েকজন ফার্মাসিস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।
তাই আজ ফার্মাসিস্ট সমাজের সামাজিক ও রাস্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য সরকারের নিকট সদয় বিবেচনা ও কার্যকর করার জন্য আমরা নিন্মলিখিত দাবীগুলি পেশ করছি –
(১) পদোন্নতির সুবিধা রেখে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কর্তৃক ফার্মেসিকে “ক্যাডার সার্ভিস” হিসাবে ঘোষণা করা হউক। পদের নাম হবে “ফার্মাসিউটিক্যাল অফিসার”। এরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে “হসপিটাল ফার্মাসিস্ট” হিসাবে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ পাবেন।
(২) বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমন-ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সেনাবাহিনী, ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসিস্টদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।
(৩) সারাদেশে সরকারীভাবে কমিউনিটি ফার্মেসি চালু করতে হবে এবং সেখানে পদোন্নতির সুবিধা রেখে ‘এ’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
(৪) ‘ড্রাগ ও থেরাপিউটিক কমিটি’ গঠন করে হাসপাতাল,‌ কমুনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ফার্মাসিস্টদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
(৫) ফার্মেসী একটি পেশাগত বিষয় এবং ওষুধ মানুষের জীবন-মরনের সাথে জড়িত বিধায়, এই পেশা ও পেশাজীবিদের সন্মান রক্ষার্থে – যে সমস্ত ছাত্রছাত্রি ফার্মেসি পড়তে ইচ্ছুক তাদের জন্য মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ একটি “কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা” অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল (PCB) কে দিতে হবে। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রিরা তাদের মেরিট (মেধাক্রম) অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিশ্বাবিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হবে।
(৬) এই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মত স্বতন্ত্র “ফার্মেসি অধিদপ্তর” খুলতে হবে।

ড. মোঃ শাহ এমরান
অধ্যাপক
ফারমাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগ
ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কনভেনার, “দ্যা ফার্মেসি গিল্ড অফ বাংলাদেশ (PGB)”

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 726 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ