বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস টেস্টের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ

Print

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে যেভাবে টেস্ট করা হচ্ছে তাতে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা আশংকা করছেন, সম্ভাব্য রোগীদের নাক এবং মুখ থেকে ঠিকমতো নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

এই নমুনা ঠিকমতো সংগ্রহ না করা হলে কোন ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলেও সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।

সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা না হলে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানো রীতিমতো অসম্ভব বিষয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন যতগুলো নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তার মধ্যে ২০ থেকে ২২ শতাংশ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটি প্রকৃত চিত্র নয় বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

কারণ, টেস্ট ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটি নিয়ে অনেকের সন্দেহ আছে। ল্যাবরেটরিতে যথার্থ ফলাফল পেতে বেশ কিছু পূর্বশর্ত পালন করতে হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ বলেন, নাক এবং মুখ থেকে সঠিক পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করা জরুরি।

সবক্ষেত্রে সেটি ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে মি: আহমেদের।

তার মতে নির্ভুল ফলাফল পেতে নিচের পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

১. কার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে

২. কিভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে

৩. স্যাম্পল ঠিকমতো সংরক্ষণ করা

৪. স্যাম্পল ঠিকমতো টেস্ট করা

৫. সঠিক রিপোর্ট তৈরি করা

মি: আহমেদ বলেন, “ভাইরাসটা কখনো থ্রোটে থাকবে, কখনো নস্ট্রিল-এ থাকবে। কখনো দুটোতেই থাকবে। এজন্য দুটো জায়গা থেকেই নমুনা নিতে হবে। আমাদের ন্যাজাল যে ক্যানেলটা আছে, এই ক্যানেলের ওয়াল থেকে সোয়াব নিলে এটা ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে নিতে হবে। আমি যদি শুধু নাকে ঢুকোই আর বের করি এবং ওয়ালটাকে যদি টাচ না করি, সেখানে কিছু আসবে না। কারণ ভাইরাসটা তো থাকে ওয়ালে।”


বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকে শুধু ঢাকায় অবস্থিত আইইডিসিআর-এ পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫০ টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এসব ল্যাবের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণে জড়িত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনিও মনে করেন, দ্রুততার সাথে কাজ করতে গিয়ে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়ে গেছে।

অধ্যাপক আহমেদ বলেন, “আমরা কন্টিনিউয়াস ট্রেনিং দিচ্ছি। ট্রেনিং এতো কুইকলি করতে হয়েছে যে অনলাইন ট্রেনিং ছাড়া অন্য কোন উপায়ে ট্রেনিং দেয়া সম্ভব ছিল না। ”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সঠিক টেস্ট এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাওয়াটা বেশ জরুরি।

সেটি না হলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতেই থাকবে। কিন্তু অনেকে অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে নমুনা দেবার পরে রিপোর্ট পাবার জন্য চার থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

News By BBC Bangla

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 92 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ