ফাহিম সালেহের খুনী যেভাবে ধরা পড়লো

Print

 

সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD)র দক্ষতায় অতিদ্রুত ধরা পড়েছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহের খুনী তারই সাবেক পারসোনাল এসিষ্টান্ট ২১ বছর বয়েসী টাইরেস ডেভন হাসপিল। টাইরেসকে অনেক বিশ্বাস করে তার অন্যতম একটি উদ্যোগ এডভেঞ্চার কাপিটালের দায়িত্ব দিয়েছিলো ফাহিম। ফাহিমের সরলতার সু্যোগ নিয়ে ২২ বছরের এই ধূর্ত কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের মাথায় দুষ্টবুদ্ধি চাপে। ৯০,০০০ ডলারের চেয়ে বেশী পরিমাণ অর্থ সে আত্মসাৎ করে। এতে ফাহিম তাকে বরখাস্ত করে, পুলিশকে না জানিয়ে তাকে সংশোধিত হবার সুযোগ দেয়। আত্মসাৎ করা টাকা কিস্তিতে শোধ করার সুযোগ দেয় তাকে।

এটাই ছিলো ফাহিমের সবচেয়ে বড় ভুল,যার কারণে তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে টাইরেস ডেভন হাসপিল নামের এই অকৃতজ্ঞ ও বেঈমান এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের হাতে।লক ডাউনের বাজারে এক লাখ ডলার অনেক বড় অংক।টাইরেস ডেভন হাসপিল ভাবে, ফাহিমকে মেরে ফেলতে পারলে তাকে আর এই টাকা দিতে হবে না,ঘটনাটাও ধামাচাপা পড়ে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। পারসোনাল সেক্রেটারী হবার সুবাদে ফাহিমের গতিবিধি তার জানা ছিলো। ফাহিম লকডাউনের শুরু থেকে নিউইয়র্কের অন্য প্রান্তে মা-বাবার সাথে কোয়ারান্টাইনে ছিলো। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় নিউইয়র্কে লকডাউন শিথিল হলে,ফাহিম তার লাক্সারি এপারট্মেন্টে ফিরে আসে। ফাহিমের এই ফ্ল্যাটে লিফট দিয়ে ঊঠতে হলে হাইলি সিকিউর চাবি দিয়ে উঠতে হতো।সেই চাবি লিফটের বিশেষ জায়গায় রাখলে চাবিটির মাধ্যমে সয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় লিফটটি চাবির মালিকের ফ্লোর চিনতে পারতো ও তাকে সেখানে পৌঁছাত। ঘটনার দিন,১৬ই জুলাই ২০২০ য়ে ফাহিম যখন লিফটে ওঠে, খুনি তার মুখ মাস্ক পরে,মাথা হুডিতে ঢেকে,ফাহিমের সাথে একই লিফটে ওঠে। সে অন্য একটা ফ্লোরের চাবি লিফটের বিশেষ জায়গায় পাঞ্ছ করার ভান করে। কিন্তু সে ফাহিমের সাথে সপ্তম ফ্লোরে যায়। সি সি টিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ ধারণা করছে ফাহিমের পেছনে পেছনে সপ্তম ফ্লোরে নেমেই পেছন থেকে টেসার পাঞ্চ করে উচ্চমাত্রার বৈদ্যুতিক শক দিলে ফাহিম সালেহ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তারপর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সমাধা করে জঘন্য হত্যাকাণ্ড। নিউইয়র্কের পুলিশ খুনির সাথে ফাহিমের মোবাইলের এস,এম, এস, পড়েই প্রথমে জানতে পারে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি। তারপর, খুনীর কেনাকাটার রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, সে একটা চেইন স কিনেছে, যা ফাহিমের মৃতদেহকে গায়েব করার উদ্দেশে টুকরো টুকরো করতে ব্যাবহার করা হয়েছিলো। তখন পুলিশের সন্দেহের অবকাশ থাকে না কে প্রকৃত খুনি। খুনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

© ইফতেখার মাহমুদ

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 99 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ