ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল আ.লীগকে নেতৃত্বহীন করে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা : পৌর মেয়র লিটন

Print

মোঃ মুক্তার হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি:যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত নৃশংস সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা তার একটি। ২০০৪ সালের ওই দিনে যা এবং যেভাবে ঘটেছিল তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাবও ফেলেছে। এ হামলায় বেঁচে থাকা অনেকে আজও পঙ্গুত্ববরণ করে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। সেদিনের বর্বরোচিত হামলায় ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখে দেওয়া এবং দেশে স্বৈরশাসন ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। শ্রদ্ধাবনতচিত্তে ইতিহাসের ভয়াবহতম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী আজ আমরা পালন করছি।

শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বেনাপোল পৌর বিয়েবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ মাস্টার। সঞ্চালনা করেন বেনাপোল পৌর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক সুকুমার দেবনাথ।

এ সময় আশরাফুল আলম লিটন আরো বলেন, দেড় দশক আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয় বিশ্ব মানবতার মা, জাতির জনকের তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, সেদিন ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা। দলটির প্রধান এবং তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা ছিলেন ওই সমাবেশের প্রধান অতিথি। আওয়ামী অফিসের সামনে রাস্তায় একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। দলীয় নেত্রীর বক্তব্য শেষ হবার সাথে সাথে হঠাৎ করে বিকট শব্দে চারিদিকে লোক ছোটাছুটি করতে লাগল। এরপর দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। তখন শেখ হাসিনাকে মানবঢাল তৈরি করে নেতাকর্মীরা বাঁচিয়েছিলেন। এই মানবঢালের অন্যতম ছিলেন তৎকালীন ঢাকার মেয়র মোহাম্মাদ হানিফ। সেদিন ২৪ জন নেতাকর্মীকে এই গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করা হয়। তার মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানও ছিলেন। গ্রেনেড হামলায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পড়ে ছিল জুতা-স্যান্ডেল ও অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, ক্ষতবিক্ষত মানুষের মাংসের টুকরা, আর তাজা রক্তের দাগ। শেখ হাসিনাকে মানবঢালে ঘিরে রাখা অনেকে সেদিন আহত হয়েছেন। মোহাম্মাদ হানিফও মাথায় আঘাত পেয়ে অবশেষে ২০০৬ সালে মারা যান।

আশরাফুল আলম লিটন বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির জনককে হত্যা করার সময় তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন তখন বিদেশে। তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মার্চ দেশে ফেরেন এবং এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। তিনি এদেশের কুচক্রীমহল পাকিস্তানিদের দোসরদের দ্বারা ২১ বার হত্যার হাত থেকে বেঁচে গেছেন। তাকে ওই খুনি তারেক জিয়া পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নীলনকশার ছক করে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা করে। তারপরও তিনি থেমে নেই। তিনি লড়াই-সংগ্রাম করে এদেশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন। ১৯৭৫ এরপর এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় ভ্যান-রিকশা চালিয়েছেন, জুতায় কালি করিয়েছেন, শ্রমিকের কাজ করেছেন তাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করেছেন। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, মাতৃত্ব ভাতা চালু করে এক অনন্য উচ্চতায় নাম লিখিয়েছেন। আজ দেশে করোনা দুর্যোগকালীন তিনি দেশের একটি মানুষকেও অনাহারে রাখেন নাই। তিনি মাত্র ১০ টাকায় চাল দিচ্ছেন জনগণকে। সেই নেত্রীকে যারা বার বার খুন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে তারা সুস্থধারার রাজনীতি করতে পারে না। ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী বাবর বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মান্নান ভুইয়াকে তারেক জিয়া সম্পর্কে বললে মান্নান ভুইয়া বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন খুনি তার ছেলে তারেক জিয়া আর কি হতে পারে। সে কখনো সুস্থধারার রাজনীতি করতে পারবে না। আজ শেখ হাসিনাকে খুন করতে গিয়ে সেই কুলাঙ্গার তারেক জিয়া দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছে।

আশরাফুল আলম লিটন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা শার্শার রাজনীতিও সুস্থধারায় ফিরিয়ে আনতে চাই। শার্শায় আর কোনো রক্তচক্ষুকে আমরা ভয় পাই না। যদি কেউ আপনাদের আঘাত করে সাথে সাথে আমাকে জানাবেন আমি নিজে সেখানে উপস্থিত হব। তবু অন্যায়-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন মেনে নেব না।
শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘মানবতা যেখানে মানুষ যাবে সেখানে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ করোনা দুর্যোগে শার্শার মাটিতে মেয়র লিটন বিগত ৭টি মাস মানুষের পাশে আছেন। তিনি অক্সিজেন পর্যন্ত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন।

শার্শার এমপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মেয়র আশরাফুল আলম লিটন মানুষের পাশে আর আপনি এই মহাদুর্যোগের সময় মানুষ থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে গেছেন, আপনাকে হারিকেন দিয়েও খুঁজে পায় নাই। আপনি বুঝতে পারছেন আজ প্রকৃত আওয়ামী লীগের কর্মীরা আপনার পাশে নেই। আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় আপনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শেখ সারোয়ার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, কোষাধ্যাক্ষ খোদাবক্স, বেনাপোল পৌর প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, কাউন্সিলর রাশেদ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান, বেনাপোল পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শান্তিপদ গাঙ্গুলী, মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক খোকন, বেনাপোল পৌর আাওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মাতিন টেনা, পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান গফফার সরদার, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি এমদাদুল হক বকুল, কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন আালম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, বেনাপোল পৌর আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি রহমত আলী, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসাইন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান সজল, প্রচার সম্পাদক এনামুল হক মুকুল প্রমুখ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 64 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ