বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস – ২০২০ :ফার্মেসী পেশার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

Print

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২০

ফার্মেসী পেশার সামাজিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

(Social and State Recognition of the profession of Pharmacy)

. মো. শাহ এমরান

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার বিশ্ব ফার্মাসিস্টদিবস। এবারের ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “Pharmacists: Transforming Global Health”. বাংলায় অনুবাদ করলে দাড়ায়ঃফার্মাসিস্ট বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বদলে দিচ্ছে; অথবা, “ফার্মাসিস্টগন বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায়রূপান্তর ঘটিয়ে দিচ্ছে

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস কী এবং কেনো?

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হলো ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন(FIP) এর মস্তিস্ক প্রসূত (Brainchild) ধারণা। ২০০৯ সালে তুরস্কেরইস্তানবুল শহরে অনুষ্ঠিত FIP এর সন্মেলনে তুরস্কের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতেসর্বসন্মত ভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতি বছরের ২৫ শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্টদিবস হিসাবে পালন করা হবে। সেই থেকে যাত্রা শুরু।

এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য কী?

ফার্মেসী পেশার প্রতি সমাজের সরবস্তরের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা।ফার্মেসী পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিগন স্বাস্থ্য সেবা খাতে সমাজকে যে ধনাত্বকসুবিধাসমূহ (positive benefits) দেয় বিনিময়ে তার যথাযথ মূল্য বা সন্মানপ্রদান করা। অর্থাৎ সমাজ বা রাষ্ট্র যেনো ফার্মেসী পেশাকে যথাযথ মূল্য বাসন্মান প্রদান করে।

প্রতিপাদ্য বা Theme বিষয় কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?

প্রতি বছর FIP বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসকে সামনে রেখে একটি প্রতিপাদ্য বিষয়বা Theme ঘোষণা করে। প্রতিপাদ্য বিষয়টি এমন ভাবে নির্ধারণ করা হয়যেন ফার্মেসী শিক্ষা, পেশা শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ বা সংস্থাগুলিগনমানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে কি কি কাজ করেছেন, প্রকল্পগ্রহন করেছেন তাহা সর্ব সন্মূখে তুলে ধরার সুযোগ পান।

দিবসটি কি ভাবে পালন করা হয় বা হবে?

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালনের জন্য ্যালী, সভা, সমাবেশ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা, ফার্মেসীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য কুইজ পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, শিশু কিশোরদের জন্য ওষুধ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজনকরা হয় বা করা যেতে পারে।

ফার্মেসী পেশার সামাজিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেন দরকার?

বর্তমানে সরকারী বেসরকারী মিলিয়ে মোট টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেফার্মেসী বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয় বা ফার্মেসী বিষয়টি পড়ানো হয়।সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক কোর্স পদ্ধতি আর বেসরকারীবিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টার ধরে হিসাব করলে প্রতি বছর প্রায় ০০০(পাঁচ হাজার) ফার্মাসিস্ট পাশ করে বের হয়। এখনো পর্যন্ত ফার্মাসিস্টদেরচাকুরির ক্ষেত্র ওষুধ শিল্প কারখানা বিধায় গড়ে ২০০ (দুই শত) এরবেশি চাকুরির পদ সৃষ্টি হয় না। তাহলে এইসব নবীন ফার্মাসিস্টগনকোথায় যাবেন? তাঁদের চাকুরির ক্ষেত্র কোথায়? নবীন ফার্মাসিস্টদের কাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রে সৃষ্টির জন্য দরকার গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদেরকে সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করা। তাই আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের কথা মাথায়রেখে, বিশেষ করে নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য আমরা সরকারের কাছে কিছু দাবী জানাতে চাই।

আমাদের দাবীগুলি নিম্ন রূপ

() পদোন্নতির সুবিধা রেখে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কর্তৃকফার্মেসিকে ক্যাডার বিষয় হিসেবে ঘোষণা করা হউক। পদের নাম হবেফার্মাসিউটিক্যাল অফিসার অথবা হসপিটাল ফার্মাসিস্ট গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টগন বিভিন্ন সরকারি / বেসরকারী হাসপাতাল ক্লিনিকেহসপিটাল ফার্মাসিস্ট পদে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপাবেন।

() বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমনওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সেনাবাহিনী, ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসিস্টদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।

(৩) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো Medical corps এর অনুরূপ Pharmaceutical Corps খুলতে হবে।

() সারাদেশে হসপিটাল কমিউনিটি ফার্মেসি চালু করতে হবে এবং এসবফার্মেসিতেগ্রেড ফার্মাসিস্ট বা গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দানের জন্যপ্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

(৫) হসপিটাল কমিউনিটি ফার্মেসি চালু করার জন্য The Pharmacy Practice Act প্রনয়ণ করতে হবে।

() ড্রাগ থেরাপিউটিক কমিটি গঠন করে হাসপাতাল ক্লিনিকব্যবস্থাপনা পরিচালনায় ফার্মাসিস্টদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

() ফার্মেসী একটি পেশাগত বিষয় এবং ওষুধ মানুষের জীবনমরনের সাথেজড়িত বিধায়, এই পেশা পেশাজীবিদের সন্মান রক্ষার্থে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রিফার্মেসি পড়তে ইচ্ছুক তাদের জন্য মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ একটিকেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ক্ষমতা বাংলাদেশফার্মেসি কাউন্সিল (PCB) কে দিতে হবে। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেছাত্রছাত্রিরা তাদের মেরিট (মেধাক্রম) অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী বিশ্বাবিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হবে।

দাবী আদায়ে আমাদের করনীয় কি?

সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক মডেল ফার্মেসীতে গ্র্যাজুয়েটফার্মাসিস্ট নিয়োগ করা তথা বাংলাদেশে হসপিটাল ফার্মেসী চালু করার জন্যআমাদেরকে কিছু যুক্তিসংগত বাস্তবধর্মী কর্মসুচী গ্রহন করতে হবে। আমিনীচে কিছু কর্মসুচীর কথা তুলে ধরছি

() হসপিটাল ফার্মেসী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি (National Committee for Implementation of Hospital Pharmacy) গঠন করা

বাংলাদেশে হসপিটাল ফার্মেসী ব্যবস্থা চালু করতে হলে একটি হসপিটালফার্মেসী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি গঠন করা কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণকরা একান্ত প্রয়োজন। হসপিটাল ফার্মেসী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি গঠনকরার নিমিত্তে আমি নিন্মরূপ প্রস্তাব করছি

() ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের ডীন এই কমিটির আহবায়কহিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিলের সচিবএই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

() ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েরচেয়ারম্যান মহোদয়গন এই কমিটির সদস্য হবেন।

() ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েরঅধ্যাপকবৃন্দ এই কমিটির সদস্য হবেন। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকবৃন্দও এইকমিটির সদস্য হবেন।

() বিপিএস এবং পিজিএ এর সভাপতি সাধারন সম্পাদকগন এইকমিটির সদস্য হবেন।

() ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক পরিচালকগন এই কমিটির সদস্যহবেন।

() ফার্মেসী কাউন্সিলের সদস্যগন এই কমিটির সদস্য হবেন।

() টপ টেন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এমডি বা জিএম পদ মর্যাদারকর্মকর্তাগন এই কমিটির সদস্য হবেন।

() ফার্মেসী এলামনাই সংগঠনগুলির সভাপতি সাধারন সম্পাদকগনএই কমিটির সদস্য হবেন।

() বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সিনিয়রফার্মাসিস্ট (প্রশাসন ক্যাডারের সহকারি সচিব পদকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে) এইকমিটির সদস্য হবেন।

কমিটির কার্যপরিধিঃ

কমিটি বিভিন্ন সময়ে সভা ডেকে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশহসপিটাল ফার্মেসী চালু করার ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সাথেকথা বলবেন

কমিটি নুতন সদস্য কোঅপ্ট করতে পারবে

কমিটি সাবকমিটি গঠন করতে পারবে

() The Pharmacy Practice Act প্রনয়ন করার জন্য স্বতন্ত্র উপকমিটিগঠন করা

বাংলাদেশে হসপিটাল ফার্মেসী ব্যবস্থা চালু করতে হলে একটি উপযুক্তআইনী কাঠামোর (Legal Framework) প্রয়োজন হবে। সেই লক্ষ্যে The Pharmacy Practice Act প্রনয়ন করার জন্য একটি স্বতন্ত্র উপকমিটি গঠনকরা অত্যন্ত দরকার। সৌভাগ্যবশত আমাদের অনেক সিনিয়র ফার্মাসিস্টদেশে এবং বিদেশে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাঁদেরঅভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক সমৃদ্ধ। সেইসব সিনিয়র ফার্মাসিস্টদের নিয়ে এইসাবকমিটি গঠন করা যেতে পারে।

তাঁরা সদস্য কোঅপ্ট করতে পারবেন এবং The Pharmacy Practice Act আইনের খসড়া প্রণয়ন করবেন এবং মূল কমিটি তাহা যাচাইবাছাই করেসরকারের নীতি নির্ধারণি মহলে হস্তান্তর করবেন।

হসপিটাল ফার্মেসী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি সময়ে সময়ে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মিছিলমিটিং এর আয়োজন করবে এবং হসপিটাল ফার্মেসীবাস্তবায়ন করতে আরো যা যা কর্মসুচী নেওয়া দরকার মনে করবে সেই রকমকর্মসুচী ঘোষনা করবে।

ধন্যবাদান্তে,

. মোঃ শাহ এমরান

অধ্যাপক, ফারমাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগ

ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কনভেনার, দ্যা ফার্মেসি গিল্ড অফ বাংলাদেশ (PGB)”

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 78 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ