আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য

প্রিন্ট
আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।

প্রযুক্তি ডেস্ক: ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, উচ্চগতির সংযোগ সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্প্রতি দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। দিনব্যাপী এই আয়োজনে মূলত দেশের ডিজিটাল খাতের আগামী দিনের দিকনির্দেশনা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকেরা উপস্থিত থেকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ডিজিটাল খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেটের সংযোগের মান উন্নত করা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। তবে আলোচকরা উল্লেখ করেন যে, ডিজিটাল সক্ষমতার বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ বিশ্ব গড়ের তুলনায় এখনো কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। কেবল দেশের সব প্রান্তে ইন্টারনেট পৌঁছে দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর সফল হবে না, বরং সাধারণ মানুষের নাগালে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজিটাল ডিভাইস ও ডেটা প্যাকেজ পৌঁছানো এবং বাংলা ভাষায় ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি ব্যবহারের বাস্তব কার্যকারিতা পরিমাপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একজন শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই অনলাইনে ক্লাস করতে পারে, একজন রোগী যেন ডিজিটাল মাধ্যমে যথাযথ সেবা পায় এবং গ্রামের একজন সাধারণ উদ্যোক্তা যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন—সেটি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ সহনশীল রাউটার স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যাকআপ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের জন্য দক্ষ দল গঠনের আহ্বান জানানো হয়। ফাইভজি ও সিক্সজি প্রযুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়ো না করে দেশের বাস্তব চাহিদা ও যৌক্তিক ব্যয় বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান যে, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংযোগ স্থাপন, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই তিনটি খাতকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। টেলিকম সচিব ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বৈশ্বিক ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকারি নীতির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের জোরালো অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া জানান যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বাংলা ভাষাবান্ধব প্রযুক্তি ও সাইবার সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে কাজ করছে সরকার।

Facebook Comments Box

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার standard social-news card।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি দেওয়া sample-এর মতো square HD card তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ভিডিও গ্যালারি প্রিন্ট